এ বিজয় গণতন্ত্রকামী মানুষের, এবার দেশ গঠনের পালা, দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেয়া হবে না, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, নেতা কর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণের পরামর্শ
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান -নিজস্ব ছবি

এ বিজয় গণতন্ত্রকামী মানুষের, এবার দেশ গঠনের পালা, দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেয়া হবে না, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, নেতা কর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণের পরামর্শ

ফন্ট সাইজ:

ভোট দিয়ে জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় এনে দেয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় গণতন্ত্রকামী মানুষের। জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এবার দেশ গঠনের পালা। কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেয়া হবে না বলেও সতর্কতা উচ্চারণ করেন তারেক রহমান। শনিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি’র নির্বাচনোত্তর এই সংবাদ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করার পর প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তারেক রহমান। সংবাদ সম্মেলনে দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।


যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দলমত-ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেয়া হবে না। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ।
দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আপনারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছেন। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর করে দেয়া সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, এ জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।


বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলগুলোই মূলত: গণতন্ত্রের বাতিঘর। সরকার এবং বিরোধী দল যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে অবশ্যই দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তাভাবনাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পথ এবং মত ভিন্ন থাকতে পারে কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।


তারেক রহমান বলেন, জনমনে সৃষ্ট সকল সংশয় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশে শান্তিপূর্ণভাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। আর জনগণের প্রত্যাশিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গণতন্ত্রের ইতিহাসে আপনাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তা, জনপ্রশাসন, সশস্ত্রবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য এবং রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আপনাদের আন্তরিকতা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা ছাড়া অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হতো না। আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। এই নির্বাচনে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম এবং পর্যবেক্ষকদের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের প্রতিও রইলো অকৃত্রিম শুভেচ্ছা।


তিনি বলেন, ’৭১-এর স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ, এই দীর্ঘ সময়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, হতাহত হয়েছেন, যাদের রক্ত মাড়িয়ে, কষ্টের সিঁড়ি বেয়ে আজকের এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সেই সকল বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। মহান আল্লাহ’র দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি। যারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন, হতাহত হয়েছেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আপনাদের ভূমিকাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ রাখবে।
বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের রায় পেলে বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল এবং সারা দেশে জনগণের সঙ্গে মত বিনিময়ের মাধ্যমে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিল। ৩১ দফার আলোকে ঘোষণা করা হয়েছিল দলীয় ইশতেহার। একইসঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ দিয়ে বিএনপি জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছিল। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।


সারা দেশে বিএনপি’র সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থক ছাড়াও দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে আজকের এই সময়টি ভীষণ আনন্দের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন এক আনন্দঘন পরিবেশে আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি আমাদেরকে ভারাক্রান্ত করে। রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার এমন একটি গণতান্ত্রিক সময়ের প্রত্যাশায় তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়েছিলেন। স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কখনোই আপস করেননি। দেশ এবং জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে বরাবরই তিনি ছিলেন অটল ও অবিচল। আমরা আল্লাহ’র দরবারে মরহুম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করছি।


তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত বিএনপিকে দেশের জনগণ আবারো রাষ্ট্র পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছে। জনগণ বিএনপি’র প্রতি যে বিশ্বাস এবং ভালোবাসা দেখিয়েছে, এবার জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরলস কাজের মাধ্যমে জনগণের এই বিশ্বাস এবং ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। এবার আমি সারা দেশে বিএনপি’র সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলতে চাই, শত নির্যাতন ও নিপীড়নের পরও আপনারা রাজপথ ছাড়েননি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠারত সংগ্রামে অটুট ও অনড় ছিলেন। এবার দেশ গড়ার পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় আপনি, আমি, আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদ্‌যাপন করেছি।
তিনি বলেন, নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এ জন্য শত উস্কানির মুখেও আমি সারা দেশে বিএনপি’র সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শান্ত এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কোনো অপশক্তি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ নিতে না পারে এ জন্য নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর আমি সারা দেশে বিএনপি এবং জোটভুক্ত দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলাম। আমরা আল্লাহ’র দরবারে শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে বিজয় উৎসব পালন করেছি।


তারেক রহমান বলেন, আমার বক্তব্য স্পষ্ট- যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। দলমত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত- যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেয়া হবে না। ন্যায়পরায়ণতাই’ হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সকল প্রচেষ্টা বৃথা যেতে বাধ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি দল কিংবা বিরোধী দল, অন্যমত কিংবা ভিন্নমত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের জন্যই আইন সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে। নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে নির্বাচনের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় রূপ না নেয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আহ্বান, আসুন যেভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম একইভাবে এবার দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা বাংলাদশকে একটি নিরাপদ মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যে যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখি। একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে আমি ভিন্ন দল কিংবা ভিন্নমতের সকলের সহযোগিতা আশা করছি। এ ছাড়া বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি, সকল প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের প্রতি বিজয়ের অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান।


বাংলাদেশ ও জনগণের স্বার্থই আমাদের কাছে প্রথম
বাংলাদেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থই আমাদের কাছে প্রথম বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিষয়ে ভারতীয় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ আমাদের কাছে প্রথম। বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা আমাদের ফরেন পলিসি ডিসাইড করবো।
‘গত সরকার চলে যাওয়ার পর থেকে আপনি বলে আসছেন যে এই নির্বাচনটা খুব সহজ হবে না। এখন নির্বাচনটা হয়ে গেল, এটা আপনার কাছে সহজ ছিল কিনা। আর আপনাকে দুশ’র বেশি আসন পাওয়ার জন্য আপনাকে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হলো কিনা? সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণকে কনভেন্স করাটাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের যে ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিল জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা, সেটাতে আলহামদুলিল্লাহ্‌ আমরা সফল হয়েছি। আর জনগণকে কনভেন্স করে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশের অ্যানসিউর করাটাই ছিল আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর। অর্থাৎ যেটা আমি বলেছিলাম কঠিন হবে কিনা, যেকোনো ভালো কাজের গোল অ্যাচিভ করতে গেলে তো কষ্ট করতে হবে, কঠিন হবেই।
ভারত-পাকিস্তান-চীনের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, আই অলরেডি অ্যানসার দিস। এরপর এ বিষয়ে কথা বলতে দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। তিনি বলেন, আমাদের পররাষ্ট্র নীতি ইতিমধ্যে আমি বলেছি। দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমাদের পলিসি হবে।


সরকারের অগ্রাধিকার চ্যালেঞ্জগুলো কী- এমন প্রশ্নের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমাদের কাছে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলো হচ্ছে, অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা, অবশ্যই আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আপনি জানেন যে, গত রেজিম তারা দেশে সকল প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করেছে। সেজন্য আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো। এগুলো আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি এবং এগুলোকে উই নিড টু টেকেল।
যুবকদের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী- এমন এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, আমরা জনগণের রায় পেয়েছি। অবশ্যই যুবকরা আছেন, তবে সমাজের আরও শ্রেণি-পেশার মানুষ আছেন। আমরা সকলের বিষয়ে এড্রেস করবো। আমরা ইতিমধ্যে আমাদের দলের ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করেছি, সেখানে সকল বিষয়ে আমরা এড্রেস করেছি, যুবকদের জন্য কী করবো, আমরা নারীদের জন্য কী করবো, আমরা ডিজাইবেল পিপলসের জন্য কী করবো- সবকিছু সেখানে (ইশতেহারে) আছে।


দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা ফোরাম (সার্ক) কার্যকর এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপি কী করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আপনি জানেন, সার্ক গঠন হয়েছিল বাংলাদেশের উদ্যোগে। স্বাভাবিকভাবে আমরা সার্ক সক্রিয় করতে চাই। এ বিষয়ে আমরা আলাপ করবো। আপনারা দ্বিতীয় প্রশ্ন এটা ডিপেন্ড অন দ্য লিগ্যাল প্রসেস অফ কোর্স।
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ডেফিনেটলি উই উইল ট্রাই টু প্রেটেক্ট ইন্টারেস্ট অব পিপল অব বাংলাদেশ, আমাদের দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়বো। আই অ্যাম সিউর মিচ্যুায়াল ইন্টারেস্ট ইজ দ্য ফার্স্ট প্রাইয়োরিটি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চাইনিজ বন্ধুরা আছেন। আমরা আশা করি, দুই দেশ সামনের দিনগুলো আরও নিবিড়ভাবে একসঙ্গে কাজ করবে।
দেশের অর্থনীতি সচল কীভাবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, টু ব্রিং মোর বিজনেসেস অ্যান্ড ক্রিয়েট মোর জবস।


আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি রোধ কীভাবে হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমরা বলেছি যে, আইন সবার জন্য সমান। আইন যদি সবার জন্য সমান হয়ে থাকে আমরা ইনশাআল্লাহ্‌ সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসার পরে আমরা চেষ্টা করবো, আইন যাতে আইনের মতো করে চলে। সেটাই আমাদের পজিশন।
আওয়ামী লীগের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি’র চেয়ারম্যান বলেন, বাই অ্যানসিউরিং রুল অব ল’।
বিগত সরকারের সময়ে লুটপাট ও পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে আপনার পরিকল্পনা কী- এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, আপনি যদি আমাদের ইশতেহার দেখেন, সেখানে আপনার এই প্রশ্নের জবাবগুলো আপনি সুন্দরভাবে পাবেন। আমি ইশতেহারে বলেছি যে, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি। অর্থাৎ আমরা এমন একটা অর্থনীতি সূচনা করতে চাই, যেখানে সবাই সবার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন। কোনো একটা বিশেষ মহলকে আমরা সুযোগ দিতে চাই না।


সংবাদ সম্মেলন শেষে বিজয় চিহ্ন দেখান তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে সাদা শার্ট পরে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তারেক রহমান হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে প্রবেশ করলে সেখানে আসা নেতারা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের দিকে হাত তুলে সালাম জানান তারেক রহমান। বিএনপি’র চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর সঞ্চালনায় ব্রিফিংয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সমাপনী বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান, মেজর অব. হাফিজউদ্দিন আহমেদ, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ সিনিয়র নেতারা।

মোঃ খাইরুল ইসলাম খান

৫ মাস আগে

জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে দূর্নীতি মুক্ত উৎপাদন শীল জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠুক এটাই প্রত্যাশা।

লিমা

৫ মাস আগে

নির্বাচন বিজয়ী আবেগ নিয়ে কথা গুলো মনে থাকে যেন। পে-স্কেল দ্রুতসমাধান করবেন আশাকরি।

বাহাউদ্দীন বাবলু

৫ মাস আগে

ধন্যবাদ, শুভকামনা, শুভেচ্ছা এবং দোয়া রইল তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপিকে) বর্তমানে ক্ষমতাকে ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে হলে তীর্ণ মূল নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

Ahmad choudhury

৫ মাস আগে

MR. Tarek Do not forget that India is only enemy of Bangladesh in this planet

মোহাম্মদ আলী

৫ মাস আগে

বাংলাদেশে এখন সহিংসতা ও ঘৃণার রাজনীতির অবসান ঘটানোর এক ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে। জনাব তারেক জিয়ার উচিত রাজনীতিতে সহিংসতা বন্ধ করার জন্য এই সুযোগটি কাজে লাগানো। সহনশীলতার উপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা সংস্কার করা এবং জাতির উন্নয়নের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে শাসন পরিচালনা করা। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধ করা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করা, নারী ও সংখ্যালঘুদের ক্ষমতায়ন করা।

মন্তব্য করুন