ময়মনসিংহ মেডিকেলে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই নেতা বহিষ্কার

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই ছাত্রদল নেতাকে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) স্বাক্ষরিত প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপকে সাংগঠনিক পদ এবং নাফিউল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
আরেকটি প্রেসি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এতে বলা হয়েছে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখার কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উক্ত অভিযোগের তদন্তের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সোহানের নেতৃত্বে ১ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো। উক্ত কমিটিকে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সংসদ বরাবর লিখিত আকারে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হলো।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই নির্দেশনা প্রদান করেছেন। পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে মীর হামিদুরের কক্ষে যান কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী মুয়াজ। সেখানে বাইকে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। রাত ৯টার দিকে হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে স্টিলের পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন মুয়াজ। এতে হামিদুরের গ্রুপের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে নিজেকে আটকে রাখেন। এরপর মুয়াজকে উদ্ধার করতে তার গ্রুপের সদস্যরা এগিয়ে এলে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে নাফিউল ইসলাম (বিডিএস-১৪ ব্যাচ) নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। গুরুতর আহত মুয়াজ ও হামিদুরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতভর ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসা নেয়ার পর সকালে মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। হামিদুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই দুইজনকেই মাথায় আঘাত করা হয়েছে।
মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মো. মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী এবং মীর হামিদুর কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের কর্মী।
এ ঘটনায় শনিবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ৭ দিনের জন্য সকল প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এদিন সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সেহেলী জান্নাত সুলতানাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন ফার্মাকোলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের দুই প্রধান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন