‘জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষা ও ভোগান্তি কমেনি’

সহযোগীদের খবর

‘জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষা ও ভোগান্তি কমেনি’

ফন্ট সাইজ:

ইত্তেফাক

‘জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষা ও ভোগান্তি কমেনি’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে গ্রাহক পর্যায়ে জ্বালানি তেলের ভোগান্তি দূর হচ্ছে না। বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোল কিনতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অপেক্ষমাণ গাড়ির সারি আরো বড় হয়েছে গত কয়েক দিনে। এমনকি তেল পেতে মোটরযানগুলোর মালিক-চালকদের প্রতীক্ষার সময়ও বেড়েছে। মফস্বলে ও গ্রামে ডিজেল পেতে কৃষকদের অপেক্ষা ও ভোগান্তিও বেড়েছে। চাহিদামতো তেলের মজুত রয়েছে বলে সরকার আশ্বস্ত করলেও ভোক্তাদের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এবং তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর সূত্র জানায়, গত মাসের তুলনায় এ মাসের গত শুক্রবার পর্যন্ত অকটেনের সরবরাহ কমেছে। এ কারণেই পাম্পগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সারি দীর্ঘ হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পেট্রোল পাম্পে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে দৈনিক ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অকটেন সরবরাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ রবিবার বা কাল সোমবার থেকেই এটি কার্যকর করার কথা রয়েছে।

দেশে জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহের একমাত্র রাষ্ট্রায়াত্ত সংস্থা বিপিসি। এটির অধীনস্থ তিন বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নিজ ডিলারদের মাধ্যমে তেল বিক্রি করে। বিপিসি ও তেল বিপণন কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, পেট্রোলপাম্প থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তি চাহিদা আসছে। কিন্তু গত বছর একই দিনে তারা যতটুকু তেল নিয়েছে এবার তাই দেওয়া হচ্ছে। অথচ কোনো কোনো পাম্প প্রতিদিন তেল পাচ্ছে না বা কম পাচ্ছে। তাই বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হলে ফিলিং স্টেশনে লাইন কমতে পারে।

জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে অকটেনের কোনো ঘাটতি নেই। সরবরাহ বাড়ানো না হলে অকটেন রাখার জায়গা পাওয়া যাবে না। দেশে সব মিলে অকটেন মজুত করার সক্ষমতা আছে ৪৫ হাজার ৮১৯ টন। শুক্রবার দিনশেষে অকটেন মজুত ছিল ২৭ হাজার টনের যা ২৪ দিনের মজুত। চট্টগ্রামের নোঙ্গরকৃত জাহাজে রয়েছে প্রায় ২২ দিনের ডিজেল। এছাড়া স্থানীয় উত্স থেকেও প্রতিদিন গড়ে ৭০০ টন অকটেন যুক্ত হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার পর গত দেড় মাসের মধ্যে গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার ডিজেল ও অকটেনের সবচেয়ে বড় চালান নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি জাহাজ এসেছে। ১ লাখ ৯ হাজার টন ডিজেল নিয়ে তিনটি ও ২৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ নোঙর করেছে। দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা সাড়ে ১২ হাজার টন ও অকটেনের চাহিদা এক হাজার ২০০ টন। এ হিসাবে নতুন আসা এই ডিজেল দিয়ে ৯ দিন ও অকটেন দিয়ে ২২ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। তবে নতুন আমদানিকৃত অকটেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে ১০ থেকে ১০০ গুণ পর্যন্ত সালফার বেশি। এর ফলে বাড়বে পরিবেশ দূষণ ও গাড়ির যন্ত্রের ক্ষতি। এমনকি অনেক তেল দিয়ে গাড়ি চলবে না।

সেগুলোর সঙ্গে ভালো মানের অকটেন মিশিয়ে বিক্রি করতে হবে।

বিপিসির তথ্যমতে, গত বছরের মার্চে প্রতিদিন গড়ে অকটেন সরবরাহ করা হয়েছে ১ হাজার ১৯৩ টন। যুদ্ধের মধ্যে চাহিদা বাড়ায় এবার মার্চে দিনে সরবরাহ ২৬ টন বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২১৯ টন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার এপ্রিলে সরবরাহ কমেছে ৪৯ টন। আর গত মাসের তুলনায় এ মাসে সরবরাহ কমেছে ১০৪ টন। ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন ডিপো থেকে গড়ে সরবরাহ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১১৫ টন অকটেন। এছাড়া গত বছরের এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪ লাখ টন। পেট্রোলের চাহিদা ছিল য ৪৫ হাজার টন।

বিপিসির এক কর্মকর্তা বলছেন, ফিলিং স্টেশনের নামে দৈনিক তেল সরবরাহের বরাদ্দপত্র তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হবে। গত বছরের চেয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর ক্ষেত্রে পাম্পের বর্তমান বিক্রি, মানুষের ভিড় বিবেচনায় নিয়ে চাহিদা মূল্যায়ন ও সুপারিশ করবে জেলা প্রশাসন। এর ভিত্তিতে পাম্পে তেল সরবরাহ করা হবে।

প্রথম আলো

মোহাম্মদপুর কি ঢাকার ‘সিটি অব গড’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, এক তরুণকে ধাওয়া করছে প্রতিপক্ষ। দৌড়াতে গিয়ে ওই তরুণ একটি দোকানের সামনে পড়ে যান। এরপর ঘিরে ধরে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। একপর্যায়ে তরুণের বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ঘটনাটি ১২ এপ্রিলের। পরে জানা যায়, ওই তরুণ মারা গেছেন। তাঁর নাম ইমন হোসেন। অপরাধজগতে জড়িয়ে নাম ধারণ করেছেন ‘অ্যালেক্স ইমন’। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের অপরাধীদের দল ‘অ্যালেক্স গ্রুপের’ প্রধান। তিনি ওই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালের সহযোগী।

পুলিশ বলছে, ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের ১৮টি মামলা রয়েছে। উল্লেখ্য, এসব মামলায় তাঁর বিচার হয়নি, শাস্তি হয়নি। তিনি নিহত হয়েছেন প্রতিপক্ষের হামলায়।

ঘটনাটির মিল পাওয়া যায় বিখ্যাত একটি সিনেমার শেষ দৃশ্যের সঙ্গে। সিনেমাটির নাম সিটি অব গড। ব্রাজিলের প্রধান পর্যটন শহর রিও ডি জেনিরোর উপকণ্ঠে ‘সিটি অব গড’ নামে একটি বস্তি রয়েছে। সেই বস্তির অপরাধী দল নিয়ে ২০০২ সালে সিনেমাটি তৈরি করেন ব্রাজিলের চলচ্চিত্র পরিচালক ফের্নান্দো ফেরেইরা মেইরেলেস ও কাতিয়া লুন্দ।

সিনেমাটির শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, বস্তিতে দুই অপরাধী দলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্যে মূল দলের প্রধান জে পেকেনো পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। তবে পুলিশকে ঘুষ দিয়ে তিনি ছাড়া পেয়ে যান। বাঁচতে পারেননি, তিনি নিহত হন কয়েকটি কিশোরের হাতে।

ইমন ও জে পেকেনোর পরিণতি একই। তাঁরা প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হয়েছেন। নানা অপরাধে জড়িত থাকলেও তাঁদের বিচার হয়নি, শাস্তি হয়নি।

বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে না পারায় ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর বস্তি সিটি অব গড এখনো অপরাধপ্রবণ। বাংলাদেশের মোহাম্মদপুরও যেন ‘সিটি অব গড’; দশকের পর দশক ধরে সেখানে অপরাধী দল নিজেদের মধ্যে খুন, পাল্টা খুন করছে। মাদক ব্যবসা করছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি করছে। কিন্তু তাদের দমন করা যাচ্ছে না।

‘খুন, দখল, চাঁদাবাজি—মোহাম্মদপুরে এই ধারা চলছে চার দশকের বেশি সময় ধরে’, বলছিলেন মোহাম্মদপুরের একজন পুরোনো বাসিন্দা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরও বলেন, সময় যত গেছে, অপরাধের ধরন তত বদলেছে। নতুন নতুন অপরাধী দল তৈরি হয়েছে। অপরাধ ও অপরাধী দলের তৎপরতা এখনো আছে এবং তা আগের চেয়ে বেশি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুরে এখন অর্ধশত অপরাধী দল সক্রিয়। এর মধ্যে বড় অপরাধী দল ১৭টি। প্রতিটি দলে ১৫–২০ জন করে অপরাধী রয়েছে।

অপরাধী দলগুলো রয়েছে বিচিত্র নাম। যেমন পাটালি গ্রুপ, লেভেল হাই গ্রুপ, ডাইল্লা গ্রুপ, অ্যালেক্স গ্রুপ, গাংচিল গ্রুপ, লও ঠেলা গ্রুপ, কবজি কাটা আনোয়ার গ্রুপ, ফরহাদ গ্রুপ, আর্মি আলমগীর গ্রুপ, নবী গ্রুপ, আকবর গ্রুপ ইত্যাদি। অপরাধীদের আয়ের উৎস মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখল, অপরাধের কাজে ভাড়া খাটা ইত্যাদি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর মোহাম্মদপুর আলোচনায় আসে। কারণ, দুর্বল পুলিশি কার্যক্রমের সুযোগে অপরাধী দলগুলো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাভাবে ট্রল তথা ব্যঙ্গ করা হয় মোহাম্মদপুরকে নিয়ে।

ডিএমপির তথ্য, মোহাম্মদপুরে অপরাধী দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব–সংঘাতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গত প্রায় ২০ মাসে খুন হন ২৪ জন। সর্বশেষ ইমন ওরফে অ্যালেক্স ইমনের পর ১৫ এপ্রিল দিবাগত রাতে খুন হন আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল। মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা ছিল।

‘সিটি অব গড’ ও মোহাম্মদপুর

ব্রাজিল সরকার গত শতাব্দীর ষাটের দশকে রিও ডি জেনিরোকে বস্তিমুক্ত করতে ‘সিটি অব গড’ নামের আবাসন প্রকল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। যদিও কাজটি ঠিকভাবে হয়নি। এই সুযোগে বস্তিটি পরিণত হয় অপরাধীদের স্বর্গে। মাদক ব্যবসা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে।

ব্রাজিলের প্রধান শহরগুলোর ‘ফ্যাভেলাগুলো’ (বস্তি এলাকা) এখনো অপরাধীদের স্বর্গ। ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রিও ডি জেনিরোর বস্তিতে পুলিশের অভিযানে ১৩২ জন নিহত হয়েছেন।

পুলিশ বহু বছর ধরে সেখানকার অপরাধী দলগুলোকে দমনের চেষ্টা করছে। তার অংশ হিসেবেই এ অভিযান চলে।

ষাটের দশকে যখন সিটি অব গড প্রতিষ্ঠা হয়, কাছাকাছি সময়ে মোহাম্মদপুরেও প্রকল্প নেয় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার।

মোহাম্মদপুরের আর্থসামাজিক অবস্থা ও ইতিহাস নিয়ে ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজর্ষি দাশগুপ্ত এবং শিল্পী ও গবেষক শাওন আকন্দ একটি গবেষণা করেছেন। ২০০৭ সালে প্রকাশিত এই গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকার পশ্চিম অংশে তেজগাঁও, ধানমন্ডি ও লালমাটিয়া এলাকা উন্নত আবাসনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। নতুন বিত্তশালী, ক্ষমতাবান ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণি সেখানে বসতি গড়ে তোলে। কিন্তু এ অঞ্চলগুলোর পাশে মোহাম্মদপুর তখনো শহরের অংশ ছিল না। মোহাম্মদপুর ছিল বন্যাকবলিত, নিম্নভূমি ও অবহেলিত এলাকা।

গবেষণা নিবন্ধে আরও বলা হয়, ষাটের দশকের শুরুতে আটটি ছোট গ্রামের সমন্বয়ে মোহাম্মদপুর নামে একটি নতুন আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় সরকার। এ সময় ‘মোহাম্মদপুর মডেল টাউন’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। দেশভাগের পর সেখানে ভারত থেকে আসা বিহারিদের (আটকে পড়া পাকিস্তানি) পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা হয়। মূলত এটি ছিল একধরনের আবাসন প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর বন্যার কবল থেকে রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধটি পরে ‘রিং রোড’ নামে পরিচিতি পায়। টাউন হল থেকে আদাবর পর্যন্ত বিস্তৃত এ অঞ্চলেই মোহাম্মদপুরের আধুনিক বিকাশের সূচনা।

মোহাম্মদপুর ছিল জলাভূমি, টিলা ও জঙ্গলঘেরা। রাজর্ষি দাশগুপ্ত ও শাওন আকন্দের গবেষণা নিবন্ধ অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর সত্তরের দশকে বরাদ্দ পাওয়া বাড়িগুলোর একটি অংশ বিহারিরা বিক্রি করে দেন। তখন মধ্যবিত্ত শ্রেণির বহু পরিবার সেখানে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলে। আবার অনেক বিহারির বাড়ি দখল হয়ে যায়, ফলে তাঁরা আশ্রয় নেন জেনেভা ক্যাম্পে।

সত্তরের দশকের শুরুতেও ‘মোহাম্মদপুর মডেল টাউন’ অংশটিই মোহাম্মদপুর ছিল। এখন পশ্চিম দিকে বছিলা পর্যন্ত বিস্তৃত অংশটির বিকাশ শুরু হয় আশির দশক থেকে। ওই সময় থেকেই মোহাম্মদপুরের পাড়ামহল্লায় ছোট ছোট অপরাধী দল বা ‘গ্যাং’ গড়ে উঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পুরোনো বাসিন্দারা।

শিল্পী ও গবেষক শাওন আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, মোহাম্মদপুরের জন্মই হয়েছে একধরনের উদ্বেগের মধ্য দিয়ে। এখানে রাজনৈতিক বাস্তবতাও ভিন্ন। ফলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মোহাম্মদপুরের পরিবর্তন হয়েছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘দেশে উৎপাদিত অকটেন নিচ্ছে না সরকার’। খবরে বলা হয়, পেট্রোলপাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। জ্বালানি তেল নিতে প্রতিদিন মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হঠাৎ করে জ্বালানি তেল নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ রাখতে ১০ দিন আগে বিপিসি চিঠি দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়েছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, ডিপোগুলোতে অকটেন রাখার কোনো জায়গা নেই। রীতিমতো উপচে পড়ার মতো অবস্থা। এজন্য সরকার দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অকটেন- পেট্রোল নেওয়া বন্ধ করেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন তথ্য সত্য হলে মানুষ আরও ক্ষুব্ধ হবে। কেন না, তেলের জন্য যেখানে মানুষের ঘুম নেই। রেশনিং করা তেল নিতে কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা থেকে শুরু করে ১০-১২ ঘণ্টাও লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে; সেখানে তেলের মজুত উপচে পড়া এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠান থেকে তেল না কেনার সিদ্ধান্ত জনমনে অনেক প্রশ্নের জন্ম দেবে। বিশেষ করে সরকারের জ্বালানি তেল ব্যবস্থাপনার এমন ‘ভুলনীতি’ কারা নিয়েছে সে বিষয়ে সঠিক জবাব না পেলে ক্ষোভ-অসন্তোষ আরও বাড়বে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারি পরিকল্পনায় পরিপক্বতার যথেষ্ট ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যেখানে চাহিদার একটা বড় অংশ পরিমাণ অকটেন-পেট্রোল দেশে উৎপাদন হয়-সেখানে পাম্পের সামনে মানুষকে কেন ঘণ্টার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। তার মানে হচ্ছে, সরকারের সাপ্লাই চেইনে কোনো সমস্যা আছে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের আরও অনেক আগে থেকে কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা দরকার ছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, স্থানীয় উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে জ্বালানি তেল কেনা উচিত।

সূত্র জানায়, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের মোট চাহিদার ৭৫ ভাগ পূরণ করে থাকে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। বেসরকারি চারটি এবং সরকারি একটিসহ মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এ চাহিদার জোগান দিয়ে থাকে। প্রতিমাসে দেশে অকটেন ও পেট্রোলের প্রয়োজন হয় ৭৫ হাজার টন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক বা ৪০-৪৫ ভাগ চাহিদা পূরণ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি। এই প্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে বেশি চাহিদা পূরণ করে। অথচ সরবরাহ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে ৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটিকে চিঠি দিয়েছে বিপিসি।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাম্পের সামনে ১ থেকে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত লাইন এবং তেল নিতে জনগণের চরম দুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করছেন। যাতে জনগণের দুর্ভোগ কমানো যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিচ্ছেন। জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো অব্যবস্থাপনা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতেও তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।

জানা গেছে, দেশে অকটেন মজুতের ক্ষমতা ৫৩ হাজার টন। এখন আছে প্রায় ৫৫ হাজার টন। তবে ১০ এপ্রিল ৩৭ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ আসার পর আরও বিপাকে পড়েছে বিপিসি।

এদিকে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের কাছ থেকে অকটেন-পেট্রোল নেওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রণব কুমার সাহা বিপিসির চেয়ারম্যানকে ১৬ এপ্রিল চিঠি দেন। এতে বলা হয়, ৫ এপ্রিল বিপিসির সঙ্গে বৈঠকে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের কাছ থেকে এপ্রিলে ৩৭ হাজার টন পেট্রোল-অকটেন এবং ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়। সেভাবে তারা প্রস্তুতিও নেয়। কিন্তু ৮ এপ্রিল থেকে বিতরণ কোম্পানিগুলো অকটেন-পেট্রোল নিচ্ছে না। এতে দেশীয় এ শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কারণ, সুপারপেট্রোর তিনটি ট্যাংকার উপচে পড়ছে। অথচ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে বারবার বলা হলেও তারা তেল নিচ্ছে না।

কালের কণ্ঠ

কমছে না ভোগান্তি, রাজধানীর আরো ১১ পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জ্বালানি তেল সরবরাহব্যবস্থাকে আরো স্বচ্ছ, আধুনিক এবং সুশৃঙ্খল করতে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রম বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করেছে সরকার। পাইলট প্রকল্পের আওতায় রাজধানী ঢাকার আরো ১১টি পেট্রল পাম্পে এই অ্যাপ চালু করা হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে এই কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটাতে মোটরসাইকেল নিবন্ধনের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ সারা দেশে সাত জেলায় সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) পরিচালিত এই উদ্যোগের ফলে নির্দিষ্ট পাম্পগুলোতে এখন থেকে মোটরযান চালকদের ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ ব্যবহার করে জ্বালানি নিতে হবে। নতুন যুক্ত হওয়া পাম্পগুলো হলো : শ্যামলীর করিম অ্যান্ড সন্স, মিরপুর-১-এর ইস্টার্ন এন্টারপ্রাইজ ফিলিং স্টেশন, উত্তরার গাজীপুর ট্রেডার্স, তেজগাঁও শিল্প এলাকার মেসার্স সাত্তার অ্যান্ড কম্পানি, মিরপুর-১০-এর মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁওয়ের মেসার্স করিম অ্যান্ড ব্রাদার্স, মহাখালীর মেসার্স রশিদ ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁওয়ের বিআরবি ফিলিং স্টেশন, বাড্ডার সেবা ফিলিং স্টেশন, মিরপুরের হামিদ ফিলিং স্টেশন এবং কাজীপাড়ার সুমাইয়া ফিলিং স্টেশন। মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ঢাকা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ জেলায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেলগুলো এখন থেকে ফুয়েল পাস বিডি সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার থেকে এসব পাম্পে সব ধরনের মোটরযানের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ ব্যবহার করে জ্বালানি গ্রহণের নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।

পাশাপাশি পাম্প মালিক ও ব্যবহারকারীদের জন্য কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস বিডি’ অ্যাপ ব্যবহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৩ এপ্রিল থেকে রাজধানীর সাতটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলচালকদের জন্য এই অ্যাপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। সেসব পাম্পের মধ্যে ছিল তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, আসাদগেটের সোনার বাংলা ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার এবং কল্যাণপুরের খালেক সার্ভিস স্টেশন। ওই সব পাম্পে মোটরসাইকেলচালকরা শুধু ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ ব্যবহার করেই পেট্রল ও অকটেন সংগ্রহ করতে পারছেন।

সরকার জানিয়েছে, এই পাইলট কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ফিলিং স্টেশন ও সব ধরনের যানবাহনের জন্য এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

পাম্পে যানবাহন চালকদের ৫-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগের যানবাহন চালকদের এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও মিলছে না জ্বালানি তেল। রাজধানীর পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের পাঁচ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সকাল গড়িয়ে মধ্যরাত, আবার মধ্যরাত পেরিয়ে সকাল, পাম্পের সামনে দীর্ঘ সারির যেন শেষ নেই।

লাইনে অপেক্ষমাণদের বেশির ভাগই রাইড শেয়ার চালক ও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারকারী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে অনেকেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। পাম্পের সামনে অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে নগরজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি সংকটে নগরজীবন কার্যত এলোমেলো হয়ে পড়েছে। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীসহ অফিসগামীরা সময়ের অনেক আগে রওনা দিয়েও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘বজ্রপাতে ঝরছে প্রাণ, মাঠের কৃষক ঝুঁকিতে’। খবরে বলা হয়, প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করা জনজীবনে বৃষ্টির আগমন সাধারণত স্বস্তির বার্তা আনে। এখন সেই বৃষ্টি যেন উল্টো আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। তাপদাহের পর শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে দেশজুড়ে বাড়ছে বজ্রপাতের তীব্রতা। তাতেই ঝরে যাচ্ছে প্রাণ। গতকাল শনিবার এক দিনেই দেশের ছয় জেলায় বজ্রাঘাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই কৃষক। যারা জীবিকার তাগিদে খোলা মাঠে ছিলেন, আর সেখানেই প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বজ্রপাত।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সুনামগঞ্জে। জেলার চারটি উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজন মারা গেছেন। দুপুরের দিকে হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে তাদের মৃত্যু হয়। হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য এই সময়টা সবচেয়ে ব্যস্ত মৌসুম। আকাশে মেঘ জমলেও ফসল তোলার তাগিদে অনেকেই মাঠ ছাড়তে পারেন না। সেই ঝুঁকিই হয়ে উঠছে প্রাণঘাতী। এ ছাড়া ময়মনসিংহ ও রংপুরে দুজন এবং নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে একজন করে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন।

বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে তালগাছ লাগানো, বজ্রনিরোধক ও লাইটনিং অ্যারেস্টার স্থাপনসহ কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়। একে দুর্যোগও ঘোষণা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বজ্রপাতে হতাহত কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল প্রকল্প, বড় গাছ কাটা বন্ধ না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সচেতনতা তৈরির চেষ্টা না থাকায় মৃত্যু রোধ হচ্ছে না।

একদিনে এত মৃত্যু

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে পাঁচজনের প্রাণ গেছে। এতে আহত হয়েছেন আরও চারজন। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জামালগঞ্জের পাগনার হাওর, ধর্মপাশার টগার হাওর, দিরাইয়ের কালিয়াগোটা হাওর এবং তাহিরপুর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান।

নিহতরা হলেন– জামালগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান, ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান, একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ (২৩), দিরাই উপজেলার কৃষক লিটন মিয়া এবং তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮)।

গতকাল দুপুর ২টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতরা হলেন– গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামর ওলি মিয়ার ছেলে রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০) এবং গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের প্রয়াত সেকান্দর আলী খানের ছেলে মমতাজ আলী খান (৫৮)।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড় হযরতপুর এলাকার সখিপুরে বজ্রপাতে দুই মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত আটজন। নিহতরা হলেন– উপজেলার রামেশ্বরপাড়া গ্রামের মাঝিপাড়া এলাকার মিলন মিয়া (৩৫) ও সখিপুর গ্রামের আবু তালেব (৬৫)।

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের সামনের মেষির হাওরে বজ্রপাতে এক কৃষক মারা গেছেন। নিহত আলতু মিয়া (৬৫) একই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘জ্বালানি নিরাপত্তায় বিকল্প পথে সরকার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতি দিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবাহিত হয়। এই রুটে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর, বাংলাদেশও যার বাইরে নয়। এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু বিকল্প প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ শুরু করেছে। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, কেবল তাৎক্ষণিক সঙ্কট মোকাবেলা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা টেকসই করতে বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় সব বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছে তা দিয়ে চলতি এপ্রিল ও আগামী মে মাস পর্যন্ত সরবরাহ করা যাবে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শুরুর দিন থেকেই সরকার বলে আসছে জ্বালানি তেলের কোনো সঙ্কট হবে না। আমরা জ্বালানি তেল আমদানির বিকল্প নানা উৎস ব্যবহার করে জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহ চেইন ঠিক রাখছি। তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে চলতি মাসে প্রতি দিনই বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে, পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন কেন- এমন এক প্রশ্নের জবাবে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে বেশি তেল নিচ্ছে। আগে একটি গাড়িতে যে পরিমাণ ডিজেল বা পেট্রোল/ অকটেন সংগ্রহ করতো এখন তার চেয়ে বেশি নিচ্ছে। অনেকেই তার নিজের চাহিদার চেয়ে বেশি জ্বালানি নিচ্ছেন। এটা হচ্ছে অনেকটা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে। অনেকেই ব্যক্তি পর্যায়ে জ্বালানি তেল মজুদ করছে। আবার কোথাও কোথাও পাম্পগুলোর বিরুদ্ধে মজুদের অভিযোগ উঠেছে। আমরা দেশব্যাপী মজুদ বন্ধে তদারকি করছি। অনেক জায়গায় ধরাও পড়ছে। তিনি গ্রাহকদের অভয় দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বিকল্প উৎস থেকে আমদানি করা হচ্ছে। এ জন্য আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে মজুদ না করে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে গ্রাহকদের অনুরোধ করেন।

হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও ঝুঁকি: বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথটি অচল হয়ে পড়লে বা আংশিকভাবে ব্যাহত হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা করছে, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বাংলাদেশ বছরে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানি করে, তার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। ফলে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীলতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

বিকল্প সরবরাহ উৎস খোঁজা: সরকারের অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা। জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনেই, এমনকি আফ্রিকার কিছু দেশ থেকেও জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির দিকে ঝুঁকছে সরকার। এতে সরবরাহে স্থিতিশীলতা আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৌশলগত মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ: বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের মজুদ সীমিত সময়ের জন্যই যথেষ্ট। হরমুজ অচলাবস্থার মতো পরিস্থিতিতে এই মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে। তাই সরকার কৌশলগত মজুদ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষ করে বড় আকারের তেল সংরক্ষণাগার নির্মাণ, বিদ্যমান ডিপোগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য আলাদা মজুদ রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এলএনজি আমদানিতে বৈচিত্র্য: বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার কাতারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে নতুন চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এ ছাড়া ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের পাশাপাশি স্থলভিত্তিক টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।

বণিক বার্তা

‘দেশে মোট স্থায়ী মূলধনের বড় অংশই অর্থনীতিতে অলস পড়ে আছে’-এটি বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফরমেশন বা মোট স্থায়ী মূলধন গঠন জিডিপির ৩০ থেকে ৩২ শতাংশে ওঠানামা করছে।

যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে তুলনা করলে অনুপাতটি চলনসই। কিন্তু বাংলাদেশে এ স্থায়ী মূলধনের বড় অংশই অনুৎপাদনশীল কিংবা অপব্যয় হয়েছে। অর্থনীতিতে এ স্থায়ী বিনিয়োগের বড় অংশ কোনো ভূমিকা রাখছে না। এর মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ বা অবকাঠামো যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বেসরকারি উদ্যোগও।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশের গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফরমেশনের (জিএফসিএফ) আকার ছিল ১৩৮ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। জিএফসিএফ বা মোট স্থায়ী মূলধন গঠন হলো জাতীয় পরিসরে নিট বিনিয়োগের ধারণা, যা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে অ-আর্থিক সম্পদে ব্যয় পরিমাপ করে। মোটা দাগে কোনো দেশে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যেসব সম্পদ (অবকাঠামো, ভবন ও যন্ত্রপাতি) নতুন করে তৈরি বা কেনা হয়, তার মোট মূল্যই হলো গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফরমেশন। এর হিসাবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগের (অবকাঠামো, মেগা প্রকল্প) পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও বিদেশী বিনিয়োগকেও (এফডিআই) আমলে নেয়া হয়। এ ধরনের বিনিয়োগ অর্থনীতিতে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করে। সৃষ্টি করে কর্মসংস্থান, ত্বরান্বিত করে শিল্পায়ন ও উন্নয়ন ঘটায় অবকাঠামো খাতের।

বাংলাদেশে এ স্থায়ী মূলধনের কত শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ দেশে বিপুল বিনিয়োগে গড়ে ওঠা মেগা প্রকল্প অলস পড়ে থাকার ঘটনা দেখা যায়। অস্বাভাবিক ব্যয়ে গড়ে তোলা অনেক মেগা প্রকল্পের আয়ে পরিচালন ব্যয়ও মেটানো যাচ্ছে না। আবার বেসরকারি খাতের অনেক বৃহৎ শিল্পেও সক্ষমতার অর্ধেক অব্যবহৃত পড়ে আছে। কিছু শিল্প-কারখানা বন্ধও হয়ে গেছে। সম্পদ না হয়ে অনেক শিল্প-কারখানা দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে।

অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগকারীরা বলছেন, সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যয়ের দেশ। এখানে সর্বোচ্চ ব্যয়েও নিম্নমানের অবকাঠামো তৈরি হয়। আবার তৈরীকৃত অনেক অবকাঠামো অর্থনীতিতে কোনো উৎপাদনশীলতা সৃষ্টি না করেই অলস পড়ে থাকে। এ কারণে মোট মূলধনের আকার জিডিপির ৩০ শতাংশের বেশি হলেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সেগুলো যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারছে না। এজন্য অনিয়ম-দুর্নীতি ও অদক্ষতাকে দায়ী করছেন তারা।

সরকারি বিনিয়োগে অনুৎপাদনশীল সম্পদ সৃষ্টির উদাহরণ হিসেবে কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মিত সিঙ্গেল পয়েন্ট মোরিং (এসপিএম) প্রকল্পকে বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। গভীর সাগরে নোঙর ফেলা জ্বালানি তেলবাহী বড় জাহাজ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল খালাসের জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের আমলে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছিল। এ প্রকল্পে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে শুরু করা পাইপলাইন ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে দুই বছর আগে। কিন্তু জ্বালানি তেলের এ মহাসংকটের সময়েও সেটিকে কাজে লাগানো যায়নি। বরং বিপুল ব্যয়ের এ প্রকল্পটি এখনো অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।

সম্পদ সৃষ্টির পরও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার আরো বড় উদাহরণ হলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ টার্মিনালের উদ্বোধন হয়েছে ২০২৩ সালের অক্টোবরে। যদিও এখন পর্যন্ত টার্মিনালটি অর্থনৈতিক কোনো উৎপাদনশীলতা তৈরি করতে পারেনি। প্রায় তিন বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে জাপানের ঋণে তৈরি করা মেগা প্রকল্পটি।

কেবল বৃহৎ এ দুটি প্রকল্পই নয়, গত দেড় দশকে সরকারি উদ্যোগে নির্মিত অনেক অবকাঠামোই বসে আছে, আবার কিছু চালু হলেও সম্পদ না হয়ে বোঝায় রূপান্তরিত হয়েছে। যেমন ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ বা টানেল। এ টানেল নির্মাণে চীনের এক্সিম ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০২৩ সালে উদ্বোধন হওয়া এ প্রকল্প প্রথম দিন থেকেই লোকসানি। টানেলটির আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয়ই তোলা যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিন টানেলটিতে সরকারের লোকসান হচ্ছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

উদ্বোধন হলেও রাজধানীবাসীর কাজে আসছে না ঢাকা ওয়াসার উদ্যোগে নির্মিত দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার। ৩ হাজার ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পে রাজধানীর উল্লেখযোগ্য অংশের পয়োবর্জ্য পরিশোধন হওয়ার কথা। কিন্তু ২০২৩ সালে উদ্বোধন হওয়া এ প্রকল্পে নির্ধারিত এলাকা থেকে পয়োবর্জ্য শোধনাগারে পৌঁছার পাইপলাইনই (নেটওয়ার্ক) তৈরি করা হয়নি।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘ভিআইপিদের দেহরক্ষী আ.লীগ সংশ্লিষ্টরাই’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার, বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ভিআইপিদের নিরাপত্তায় দেহরক্ষী (বডিগার্ড) হিসেবে নিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই দেহরক্ষীদের বেশির ভাগ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত। তাঁরা তৎকালীন মন্ত্রীদের এবং পরবর্তী সময়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের অনেকের দেহরক্ষী ছিলেন।

অভিযোগ ওঠার পর এরই মধ্যে ভিআইপিদের নিরাপত্তায় নিযুক্ত অন্তত ১২ জনকে দেহরক্ষীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও অন্তত ৩০ জনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছে, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথের আগে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বিগত সরকারের সময়ে দেহরক্ষী থাকা কাউকে রাখা হবে না। কিন্তু পরে তদবির, সুপারিশ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎকোচের কারণে বিগত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেককে নিযুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে এবং রাজনৈতিক সুপারিশে আওয়ামী লীগ আমলে পুলিশে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান সরদার নুরুল আমিন গত বৃহস্পতিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, দেহরক্ষী নিয়োগ নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। এরপর কয়েকজনকে পরিবর্তন করা হয়েছে। অন্যদের বিষয়েও নিখুঁতভাবে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বাকিদেরও পরিবর্তন করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসবি থেকে এ পর্যন্ত ১১১ জন পুলিশ সদস্যকে গানম্যান/দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তাঁদের একটি বড় অংশই পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া এবং ওই সরকারের মন্ত্রীদের নিরাপত্তায়ও ছিলেন।

সূত্রগুলো বলছে, পুলিশের প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে অভিযোগ ওঠা দেহরক্ষীদের অনেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে ‘ছাত্রলীগ কোটায়’ অথবা আওয়ামী লীগের নেতাদের আত্মীয়স্বজন এবং সাবেক এমপিদের সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছিলেন। ফলে বর্তমান বিএনপির সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে তাঁদের নিযুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেওয়ার আগেই এসবি থেকে তাঁদের জন্য দেহরক্ষী বাছাই করা হয়েছিল। তখন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে এমন দায়িত্বে না রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল। তবে পরে তা ভেঙে বিতর্কিত অনেককে দেহরক্ষী নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগে এসবির সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তার তদবির ছিল। কোনো কোনো তদবিরের পেছনে উৎকোচের ঘটনাও ছিল। পুলিশ সদরেরও কেউ কেউ কারও কারও ব্যাপারে সুপারিশ ছিল।

দেশ রূপান্তর

‘কবরই এখন শেষ ভরসা’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের মামলার তদন্ত নিয়ে বিপাকে আছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের ‘জুলাই হত্যাকা-ে’র এসব মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তারা এখন গলদঘর্ম। আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানা ও আদালতে হত্যা মামলা হয়েছে। ওইসব মামলায় আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি, নেতাকর্মী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ লোকজনও আসামি হয়েছেন। লাশের ময়নাতদন্ত না থাকায় অভিযোগপত্র দিতেও পারছেন না তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

তারা পড়েছেন মহাসমস্যায়। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের নজরে আনা হলে নড়েচড়ে বসেছেন তারা, পুলিশ সদর দপ্তরে হয়েছে বিশেষ বৈঠকও। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে নিহতের কবর পাওয়া যাবে, সেটিকেই ময়নাতদন্তের অংশ ধরে মামলার চার্জশিট দিতে হবে। বিভিন্ন থানা পুলিশ ছাড়াও পিবিআই, সিআইডি, এটিইউ ও র‌্যাব উল্লিখিত মামলাগুলোর তদন্ত করছে।

পুলিশের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত এবং যাদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে, সেসব হত্যা মামলার তদন্তে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, এসব মামলায় মরদেহের গোসল ও দাফনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ ও স্থান নির্দিষ্ট করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। কবরের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। তারা বলছেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না থাকায় এ ধরনের মামলায় প্রাথমিক আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংগ্রহ ও জনপ্রতিনিধিদের সনদের ভিত্তিতে হত্যার ঘটনা ও জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য এসেছে মানবিক দিক এবং দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে অনেক ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হতে পারে। তবে এই ‘সহজ সমাধান’ আদতে বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এতদিন পর লাশ কবর থেকে তুলে এখন ময়নাতদন্ত করা একদিকে যেমন আবেগপ্রবণ পরিবারের জন্য কষ্টদায়ক, তেমনি ফরেনসিক ল্যাবের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আইনের চোখে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া একটি হত্যা মামলা প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন