কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই মেয়েদের সিডনি পাঠাচ্ছে বাফুফে

কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই মেয়েদের সিডনি পাঠাচ্ছে বাফুফে

ফন্ট সাইজ:

নারী ফুটবলের এশিয়া সেরা মঞ্চে অভিষেকের প্রতীক্ষায় আছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা এশিয়ার সিনিয়র মঞ্চে পা রাখার আগে গতকাল পূর্ণাঙ্গরূপে প্রস্তুতিই শুরু করেছে আফঈদা-ঋতুপর্ণারা। দেশের মাটিতে সপ্তাহ খানেকের ক্যাম্প সেরে যাওয়ার কথা ছিল থাইল্যান্ডে। সেখানে একটি অনুশীলন ম্যাচ খেলানোর পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে)। থাইল্যান্ডে ঋতুপর্ণাদের ম্যাচের নিশ্চয়তা না পাওয়ায় বাফুফে ঝুঁকেছিল ফিলিপাইনে। সেখানে সব কিছু ইতিবাচক থাকলেও কোচ পিটার বাটলার এখন আর অন্য দেশে গিয়ে খেলতে চান না। ফেডারেশনকে তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, ১৩ই ফেব্রুয়ারি লীগ শেষ হয়েছে। এই সপ্তাহে ম্যাচ খেললে ফুটবলারদের ইনজুরির শঙ্কা রয়েছে এবং এই ম্যাচের ফলাফল মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। কোচের এই যুক্তিতে ফেডারেশন ঢাকায় পাঁচ-ছয় দিন অনুশীলনের পর সরাসরি দলকে সিডনি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অথচ ভিয়েতনাম ১৪ই জানুয়ারি থেকে জাতীয় নারী ফুটবল দলের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দেশটির যুব ফুটবল অনুশীলন ক্যাম্পে শুরু হয়েছিল অনুশীলন। এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চীনে প্রস্তুতি পর্ব পরিচালনা করছে দেশটি। হরিয়ানা রাজ্যের গুরগাঁও জেলার গুরুগ্রামে ১২ই ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল ভারতের প্রশিক্ষণ। ১৪ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে অনুশীলনের পর দলটি তুরস্কে গিয়েছিল। সেখানে সুইজারল্যান্ডের দুই এবং ইউক্রেনেরে একটি ক্লাবের বিপক্ষে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে ভারতীয় দল। বাংলাদেশের গ্রুপ সঙ্গী চীন প্রস্তুতি শুরু করেছে ৪ঠা জানুয়ারি। শেনজেনে শুরুর পর ২২শে জানুয়ারি পর্যন্ত চলেছে অনুশীলন পর্ব। পরে সেটা অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছে। আসরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নভেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৮-০ গোলে হেরেছে চীন। অন্যান্য দলও কিন্তু বসে নেই। দীর্ঘ প্রস্তুতির পাশাপাশি খেলছে ম্যাচও। অথচ ১১ ক্লাবের নারী লীগকেই প্রস্তুতির মানদন্ড হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের হেড কোচ পিটার বাটলার। তিনি জানিয়েছেন মূল আসরের আগে আর মেয়েদের প্রস্তুতির দরকার নেই। সেটাকে মেনেই দলকে সরাসরি সিডনি পাঠাচ্ছে বাফুফে। বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেন, ‘টিম এখন সরাসরি অস্ট্রেলিয়া যাবে। ২০শে ফেব্রুয়ারি সিডনির উদ্দেশে রওনা হতে পারে। এর আগে আর অন্য কোনো দেশে যাওয়া হচ্ছে না। সিডনিতে গিয়ে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে স্থানীয় ক্লাবের সঙ্গে।’ মিয়ানমারে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া এশিয়া কাপ নিশ্চিত করে গত বছর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে। মিয়ানমার থেকে দল ফেরার পরই বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশের প্রথম এশিয়া কাপকে ‘মিশন অস্ট্রেলিয়া’ নাম দেন। আকর্ষণীয় নাম দিলেও আদৌ এই টুর্নামেন্টের জন্য কোনো রোডম্যাপই দিতে পারেনি ফেডারেশন কিংবা নারী উইং। নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ জাপান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘদিনের ক্যাম্প ও অনুশীলন ম্যাচের পরিকল্পনা একাধিকবার জানালেও বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা নিয়মিত এশিয়া কাপে খেলে আমরা তাদের দেশে গিয়ে প্রস্তুতি নেয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। তারা অন্য পরিকল্পনা আগেই নেয়ায় সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা তাই মালয়েশিয়া, আজারবাইজানকে ঢাকায় এনে খেলিয়েছি ও থাইল্যান্ড দুই ম্যাচ খেলেছি।’ তাবিথ আউয়ালের নির্বাহী কমিটি এক বছরের বেশি সময় পার করেছে। নারী ফুটবল এশিয়া কাপে খেলছে অথচ এখনো নারী উইং পূর্ণাঙ্গ করতে পারেননি বাফুফে সভাপতি। চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ একাই কাজ করছেন। তবে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম নারী ফুটবল নিয়ে মিডিয়াতে সরব থাকছেন সব সময়। যদিও তিনি নারী উইংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জড়িত নন। বিগত কয়েক মাসে দুই জনের বক্তব্যে পরস্পর বিরোধিতা ও সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে একাধিকবার। কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব তাই কোচ বাটলারের প্রকৃত জবাবদিহিতা নেই। সুইডিশ প্রবাসী আনিকাকে নিজে অনুশীলন না করিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলে রাখছে অথচ সাবিনা-মাসুরাদের মতো অভিজ্ঞ-পরীক্ষিতদের ক্যাম্পে ডাকারও প্রয়োজন মনে করেন না। আন্তর্জাতিক ম্যাচের পর যেখানে কোচের প্রতিক্রিয়া প্রদান স্বাভাবিক রীতি, সেখানে হারের পর নিয়মিত এড়িয়ে যান বাটলার। এ সব বিষয়ে ফেডারেশন বাটলারকে কিছুই বলার সাহস দেখায় না, সেখানে এশিয়া কাপ পরিকল্পনা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করা তো অকল্পনীয়। এ বিষয়েও নিশ্চুপ বাফুফের কর্মকর্তারা। এবারের আসরে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ খেলবে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। ৩রা মার্চ চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে লাল-সবুজদের মিশন। ৬ই মার্চ দ্বিতীয় ম্যাচের প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া। দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে। ৯ই মার্চ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচ হবে পার্থের রেক্ট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে। তিন গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দলের সঙ্গী হয়ে পরবর্তী পর্বে যাবে তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্য থেকে সেরা দুটি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন