২০২৪-এর ৫ই আগস্ট দেশের সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক অস্থির সময় পার হয়েছে। ক্রিকেটে নজিরবিহীন রাজনীতি প্রবেশ করায় মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে ক্রিকেট বোর্ডের ভেতরের পরিস্থিতিই বেশি আলোচিত হয়েছে। গত বছর বিসিবি নির্বাচনের পর অস্থিরতা আরও বাড়ে, বিশেষ করে ভারতে নিরাপত্তা ইস্যুতে বিশ্বকাপ বয়কটের আলোচনায় শোরগোল পড়ে যায়। অবশেষে দেশে জাতীয় নির্বাচন শেষ হয়েছে এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পথে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন যে বিসিবিতে এবার স্বস্তি ফিরবে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন মনে করেন, এখন সময় এসেছে মাঠের খেলায় পূর্ণ মনোযোগ দেয়ার। বিশ্বকাপ বয়কট বা রাজনৈতিক তর্কের মতো বিষয়গুলো পেছনে ফেলে সাফল্যের জন্য ২২ গজে মন দেয়াকেই তিনি এখন প্রধান কাজ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আগে ক্রিকেট প্রশাসনে সরকারের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ বা রাজনীতি ছিল না, তবে এবার তা বেশ জড়িয়ে গেছে। গত এক-দেড় বছর ক্রিকেটকে কেবল নেতিবাচকভাবেই দেখা হয়েছে, ফলে আমাদের ভালো সাফল্যগুলো আড়ালে পড়ে গেছে। আমি চাই সামনে যে প্রচুর খেলা আছে, সেখানে সবাই যেন নেতিবাচকতা ভুলে ইতিবাচকভাবে ক্রিকেটের সাথে থাকে।’ক্রিকেটের বর্তমান অস্থিরতা ও রাজনীতির প্রভাব নিয়ে সুমন বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন। তার মতে, গত এক-দেড় বছর ক্রিকেটের মূল বিষয়ের চেয়ে বাইরের বিতর্ক নিয়ে বেশি চর্চা হয়েছে। এর ফলে মাঠের খেলার চেয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলোই মানুষের কাছে বড় হয়ে ধরা দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্রিকেটের একটি নেতিবাচক ছবি ফুটে উঠেছে। সুমন মনে করেন, এই নেতিবাচক প্রচারণার কারণে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও সুন্দর পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তিনি চান এখন থেকে নেতিবাচক আলোচনা বন্ধ করে খেলার মান বাড়ানোর দিকে নজর দেয়া হোক। সুমন বলেন, ‘আমাদের ভালো জিনিসগুলো নিয়ে খুব কম আলাপ হয়েছে, কিন্তু খারাপ দিকগুলো নিয়ে অনেক বেশি চর্চা হয়েছে। এখন এই ধারা বদলানো দরকার। আমি বিশ্বাস করি, মাঠ ও মাঠের বাইরে সব দিক থেকে যদি ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকে, তবে আমাদের ক্রিকেটাররা আবার ভালো ফর্মে ফিরতে পারবে।’ আগামী এক বছর বাংলাদেশ দলের জন্য দারুণ এক ব্যস্ত সময় অপেক্ষা করছে। বেশ কয়েকটি বড় সিরিজ ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট সামনে আছে। সুমন এই সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তার মতে, মাঠের বাইরে কী হচ্ছে বা বোর্ড কীভাবে চলছে, তা নিয়ে খেলোয়াড়দের মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই। বরং তাদের পুরো ধ্যানজ্ঞান থাকা উচিত কেবল অনুশীলনে এবং ম্যাচ জয়ের কৌশলে। দর্শকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে আমাদের অনেক খেলা আছে এবং এটি একটি ব্যস্ত সময় হতে যাচ্ছে। এই সময়টাতে আমার চাওয়া হলো, সবাই যেন আগের মতো ক্রিকেটের সাথেই থাকে এবং দলকে মন থেকে সমর্থন দেয়। মাঠের জয়ই পারে সবকিছু আবার স্বাভাবিক করে দিতে।’ দেশের সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য খেলোয়াড়দেরও মানসিক ও কৌশলগতভাবে সাহসী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য সুমনের পরামর্শ খুব সহজ। তার মতে সব ভুলে সামনের ২২ গজে মন দেওয়া। তিনি চান ক্রিকেটাররা কোনো ভয় বা চাপ ছাড়াই নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলুক। মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই হলো সব সমালোচনার সেরা জবাব। যদি খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে পারে, তবে বাইরের সব নেতিবাচক কথা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। সুমনের কথায়, ‘ক্রিকেটারদের জন্য পরামর্শ হলো, আপনারা স্রেফ মাঠের খেলায় মনোযোগ দিন। দিনশেষে মাঠে ভালো করলে বাইরের সমালোচনাগুলো আর গুরুত্ব পায় না। সেখানে ভালো করাই হলো সবচেয়ে বড় কাজ।’ তিনি মনে করেন, ক্রিকেটের জয়গান গাওয়ার এটিই সঠিক সময়। নতুন এই সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট আবার সঠিক পথে ফিরবে এবং মাঠের লড়াইয়ে ক্রিকেটাররা নিজেদের সেরা সাফল্য উপহৃার দেবে বলে তিনি আশাবাদী। দিনশেষে খেলার জয়ই দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারে।
মাঠের সাফল্য দিয়েই ঘুরে দাঁড়াবে ক্রিকেট
স্পোর্টস রিপোর্টার
১৫ ফেব্রুয়ারি (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
