দেড় মাস বিরতির পর আবারো বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ৭ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা কাট-অফ রেটে ৫০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে। এর আগে বুধবার নিলামের মাধ্যমে ১২২ টাকা ৭০ পয়সা দরে ৭০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়। সবশেষ গত ২রা মার্চ আড়াই কোটি ডলার কেনা হয় ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে। সবমিলিয়ে চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত ১২০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৫ হাজার ৬১৩.৫০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এদিকে, রেমিট্যান্স প্রবাহও ইতিবাচক রয়েছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে (বিপিএম৬ অনুযায়ী) আবার ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ১৬ই এপ্রিল পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলারে, যা দীর্ঘদিন পর ৩০ বিলিয়নের মাইলফলক অতিক্রম করলো। একই সময়ে মোট (গ্রস) রিজার্ভের পরিমাণ হয়েছে ৩৫.০৩ বিলিয়ন ডলার।
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনা এবং ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার ক্রয় করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ডলারের দরে স্থিতিশীলতা আসে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার আসার পরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ডলারের দরে সামান্য নড়চড় হয়। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ডলারের দর বাড়তে থাকে। দেড় বছর ধরে ১২২ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ৩০ পয়সায় কেনাবেচা হতে থাকা ডলারের দর বেড়ে মার্চের মাঝামাঝি ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় উঠে যায়। এরপর বাজার থেকে ডলার কেনা বন্ধ রাখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, চলতি সপ্তাহে রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা দরে ডলার কেনার জন্য ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তবে নিলামে তুলনামূলক কম দামে ডলার কেনার মাধ্যমে বাজারে একটি বার্তা দেয়া হয়, ডলারের দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সার আশপাশে স্থিতিশীল রাখাই লক্ষ্য।
এদিকে, রিজার্ভ বাড়ার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। চলতি (এপ্রিল) মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে এসেছে ১.৬০৭ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ১.২৮৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২৫.২ শতাংশ বেশি। শুধু ১৩ ও ১৪ই এপ্রিল- এ দু’দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ১৭১ মিলিয়ন ডলার, যা রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিশালী ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ২৭.৮১৬ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২৩.০৬৯ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০.৬ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা দেশের বৈদেশিক খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনছে। বিশেষ করে গত মার্চে রেকর্ড ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহ এই ধারা আরও শক্তিশালী করেছে।
