পাহাড়ের গোর্খা আবেগকে উসকে দিয়ে প্রচার সারলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন

পাহাড়ের গোর্খা আবেগকে উসকে দিয়ে প্রচার সারলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এবার পাহাড়ে গোর্খা আবেগকে উসকে দেওয়া হয়েছে। আর এই কাজটি করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং। পাহাড়ের ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত করতে সরাসরি গোর্খা আবেগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। দার্জিলিংয়ের একটি ভার্চুয়াল সভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সাংবিধানিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মূল নিশানা ছিল রাজ্য সরকারের পাহাড় নীতি। গোর্খাদের উপর পুলিশি মামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজ্য প্রশাসন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাজার হাজার গোর্খা যুবক ও সাধারণ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। শাহের কথায়, পাহাড়ের গোর্খাদের ওপর যে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা চাপিয়ে পুলিশি রাজ চালানো হচ্ছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই তা বন্ধ হবে। আমরা সরকার গঠনের পর সমস্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
পাহাড়ের সমস্যা মেটাতে রাজ্য সরকার আদৌ আগ্রহী নয় বলে অভিযোগ করে অমিত শাহ দাবি করেছেন, গত দেড় বছরে তিনি নিজে দিল্লিতে তিনবার মিটিং ডাকলেও মুখ্যমন্ত্রী বা তার কোনও প্রতিনিধি সেখানে যাননি। এমনকি, রাজ্যে প্রতিনিধি পাঠালেও মমতা তার সঙ্গে দেখা করার সময় দেননি বলে ক্ষোভ উগরে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার কথায়, আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অন্তত তিনবার পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক ডেকেছিলাম। কিন্তু ‘দিদি’ বা তাঁর কোনও প্রতিনিধি সেই বৈঠকে উপস্থিত হননি। উনি চান না পাহাড়ে থাকা গোর্খা ভাইরা ন্যায় পাক। তিনি আরও জানান, সরকার আলোচনার জন্য একজন মধ্যস্থতাকারী (ইন্টারলোকিউটর) নিয়োগ করলেও রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে কাজের কাজ কিছু হয়নি।
শাহ বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পাহাড়ের মানুষ তাদের যোগ্য সম্মান ও ন্যায়বিচার পাবেন। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবার গোর্খা সমস্যার সমাধান হবেই। গোর্খা ভাইরা ন্যায় পাবে, নিজেদের অধিকারও পাবে। একইসঙ্গে তার প্রতিশ্রুতি, আগামী ৫ মে রাজ্যে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেই প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পরিবর্তন ঘটিয়ে গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। অমিত শাহের এই বার্তায় পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ নির্বাচনের আগে নতুন মাত্রা পেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন