কিশোরগঞ্জে মন্ত্রিত্বের অপেক্ষার অবসানের প্রত্যাশা, আলোচনায় তিন হেভিওয়েট

কিশোরগঞ্জে মন্ত্রিত্বের অপেক্ষার অবসানের প্রত্যাশা, আলোচনায় তিন হেভিওয়েট

ফন্ট সাইজ:

কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে সর্বশেষ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারি তার মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগ জামানায় আর কোনো মন্ত্রী পায়নি কিশোরগঞ্জ। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদকালে মন্ত্রীশূন্য ছিল কিশোরগঞ্জ জেলা। স্বাধীনতার পর তখন প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাননি কিশোরগঞ্জের কেউ। ২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও একই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে মন্ত্রিসভায়। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বিএনপি। কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি আসনেও নিরঙ্কুশ জয় পায় দলটি। জেলার ৬টি আসনের ৫টিতে বিএনপি এবং একটিতে স্বতন্ত্র (বিএনপি’র বিদ্রোহী) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপি’র বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সিনিয়র এডভোকেট বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল আলমের মতো হেভিওয়েট নেতারা। স্বভাবতই নতুন সরকারের মন্ত্রিসভাকে ঘিরে আশায় বুক বাঁধছেন এ জেলার মানুষ। এই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার মধ্যদিয়ে অপেক্ষার অবসানের প্রত্যাশায় রয়েছেন তারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলার নির্বাচিত ছয়জন সংসদ সদস্যের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ড. এম ওসমান ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান এবং মো. শরীফুল আলম। তাদের মধ্যে কে বা কারা মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন, এ নিয়ে হিসাবনিকাশ শুরু হয়েছে নির্বাচনের ফলাফল পাওয়ার পর থেকেই। ফলে কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে কতোজন মন্ত্রিত্ব পাচ্ছেন, এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কিশোরগঞ্জের বিএনপি’র পাঁচজন সংসদ সদস্যের মধ্যে কেবল ড. এম ওসমান ফারুকের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ড. এম ওসমান ফারুক অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে এবারের মন্ত্রিসভায় ড. এম ওসমান ফারুক ঠাঁই পেতে পারেন বলে আশা করছেন তার সংসদীয় আসনের লোকজন।

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসন থেকে ৭৪ হাজার ৬৪৩ ভোটের বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন দেশ-বিদেশে আলোচিত রাজনীতিক ফজলুর রহমান। নির্বাচনে তার বিপুল বিজয়ে উদ্বেলিত সাধারণ মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ডিংয়ে বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ফজলুর রহমানের নাম। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে তার সোচ্চার কণ্ঠ তাকে একজন নন্দিত রাজনীতিকের মর্যাদা দিচ্ছেন নেটিজেনরা। রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফজলুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে উচ্চকণ্ঠ এবং জামায়াতবিরোধী সুস্পষ্ট অবস্থান শুরুতে বিএনপিতে অস্বস্তি তৈরি করলেও নির্বাচনী ময়দানে বিএনপি ফজলুর রহমানের সেই সুরকেই ধারণ করে ভূমিধস বিজয় লাভ করেছে। ফলে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়াটা তার প্রাপ্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরাও তার মন্ত্রিত্বের পক্ষে সরব রয়েছেন। অন্যদিকে মন্ত্রিসভায় তাকে দেখতে উন্মুখ হয়ে রয়েছেন হাওরে তার নির্বাচনী এলাকাসহ জেলার সাধারণ মানুষ। একজন পোড় খাওয়া অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে মন্ত্রিসভায় ফজলুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তাদের বিশ্বাস। এসব বিবেচনায় আগামী মন্ত্রিসভায় ফজলুর রহমান স্থান পাবেন, এমন প্রচার পাচ্ছে সর্বত্র। যদিও এ ব্যাপারে ফজলুর রহমান নিজে এটি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের বিষয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ-৬ (কুলিয়ারচর-ভৈরব) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপি সভাপতি মো. শরীফুল আলম। জেলার মধ্যে তিনি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪ ভোটের ব্যবধানে তিনি জয়ী হয়েছেন। দলের দুর্দিনের একজন পরীক্ষিত নেতা এবং বিপুল বিজয়ে মো. শরীফুল আলমের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার বিষয়টি বেশ জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন