অভিজ্ঞদের মনোনয়নই ছিল বিএনপি’র তুরুপের তাস

আবেগাপ্লুত দক্ষিণের মানুষ

অভিজ্ঞদের মনোনয়নই ছিল বিএনপি’র তুরুপের তাস

ফন্ট সাইজ:

ভূমিধস বিজয়। বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে ১৮টি আসনেই বিজয় পেয়েছে বিএনপি জোট। তাও বিপুল ব্যবধানে। নেতৃবৃন্দের আহ্বানে গতকাল পথে-ঘাটে কোনো আনন্দ মিছিল না হওয়ায় পুরো বরিশালের রাজপথ ছিল অনেকটাই ফাঁকা। ফাঁকা রাজনৈতিক দলের অফিসগুলোও। তবে চায়ের দোকানগুলোতে ঝড় উঠেছে নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ নিয়ে। নির্বাচনের আগের দিনও বরিশালের ২১টি আসনের মধ্যে বিএনপি’র ১০ থেকে ১২টি, ইসলামী আন্দোলন ২টি এবং জামায়াতের ৮ থেকে ১০টি আসনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছিলেন সবাই। বিশেষ করে জামায়াত পিরোজপুর ১ ও ২-এ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই পুত্রের আসন, পটুয়াখালীর ১টি, ভোলার ১টি, বরিশালের ১১ দলের জোটের ১টিসহ ২টি আসনে বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল।

একইভাবে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর চরমোনাই পীরের ভাই দু’টি আসনে নির্বাচন করেছিলেন। বরিশাল-৫ ও ৬। বরিশাল-৫ না হলেও বরিশাল-৬ এবং পটুয়াখালী-৪, বরগুনা ১ এ জয়ের সম্ভাবনা খুঁজছিলেন অনেকে। কিন্তু জামায়াত সাঈদী পুত্রের একটি এবং পটুয়াখালী ২ আসনটি লাভ করে। আর সারা দেশের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বরগুনার একটি আসন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। পীরের ভাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল হক দু’টি আসনে হেরে যান বিপুল ভোটের ব্যবধানে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে নিয়ে স্বপ্ন ছিল তার সমর্থকদের। কিন্তু তিনিও বরিশাল-৩ আসনে ধানের শীষের এড. জয়নুল আবেদীনের কাছে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। সবচেয়ে চমক ছিল পিরোজপুর-২ আসনে। এ আসনটি নিশ্চিত ধরে নিয়েছিল ভোটাররা। কিন্তু এ আসনটিও জামায়াত ধরে রাখতে পারেনি। কেন বিএনপি’র ভূমিধস বিজয় আর কেন জামায়াতের আশানুরূপ ফল না পাওয়া- এটি নিয়েই চলছে জোর আলোচনা। বিএনপি তার প্রার্থী বাছাইয়ে নবীনদের তুলনায় অভিজ্ঞতার গুরুত্বকে বড় করে দেখেছেন বলে জানায় কলামিস্ট জাকিরুল মোমিন। তিনি বলেন, বরিশাল জেলার ৬ আসনেই অভিজ্ঞ প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছেন।

যেমন বরিশাল-১ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-২ অভিজ্ঞ, এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। বরিশাল-৩ এ বিশিষ্ট আইনজীবী এড. জয়নুল আবেদীন, বরিশাল-৫ এ অভিজ্ঞ মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল-৬ এ সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান। এদের সবার বয়সই ৭০ ঊর্র্ধ্ব। ঝানু রাজনীতিবিদ। শুধু বরিশাল-৪ এ নবীন রাজীব আহসানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এই প্রার্থীদের সঙ্গে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের নতুন প্রার্থীরা কেউই সুবিধা করতে পারেননি। ভোলায়ও একই অবস্থা। অভিজ্ঞ হাফিজ ইব্রাহিম, মেজর হাফিজউদ্দিন বীরবিক্রমকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। পটুয়াখালীতে এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মাহাবুবুর রহমান ঝালকাঠিতে ইলেন ভুট্টোকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এরা বিপদে বিএনপিকে বা বিএনপি’র নেতাকর্মীকে ছেড়ে যাননি। এরই পুরস্কার পেয়েছেন ঝানু এই রাজনীতিবিদরা। ঠিকাদার, ব্যবসায়ী ইকরামুল হকের মতে এবার ভোটাররা যে কোনো কারণেই হোন জামায়াতসহ ইসলামী আন্দোলনের উপর নানা কারণে ক্ষুব্ধ ছিল। এই মনোভাব যত সময় গড়িয়েছে ততই গাঢ় হয়েছে। অনেকেরই ধারণা ছিল ইসলামী দলগুলো ক্ষমতায় এলে দেশ তালেবান হয়ে যাবে। নারীরা রাস্তায় বের হতে পারবে না। আর এই আতঙ্কিত নারীদের ভোটই ছিল পুরুষের সমান। তার মতে বেশির ভাগ নারী ভোটার এবার বিএনপিকে বেছে নিয়েছে শুধু এই কারণে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন