নারীদের জন্য সংরক্ষণ নয়, আসল উদ্দেশ্য আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ

সংসদের বিশেষ অধিবেশন প্রসঙ্গে সোনিয়া গান্ধী

নারীদের জন্য সংরক্ষণ নয়, আসল উদ্দেশ্য আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ

ফন্ট সাইজ:

ভারতের সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে সীমানা পুনর্নির্ধারণের "অত্যন্ত বিপজ্জনক” পরিকল্পনা কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে। এরফলে সংবিধানের উপর একটি আঘাত আনা হবে- এই অভিমত প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী । তিনি দ্য হিন্দু পত্রিকায় এক উপসম্পাদকীয়তে বলেছেন, আইনসভায় নারীদের জন্য সংরক্ষণ নয়, বরং আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণই আসল বিষয়, যার জন্য মোদি সরকার এই সপ্তাহে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে। তিনি বলেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকারের এই সীমানা পুনর্নির্ধারণ পরিকল্পনা "অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সরাসরি সংবিধানের উপর একটি আঘাত"।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নারী সংরক্ষণ বিলের সংশোধনের জন্য সমর্থন চেয়ে সব দলকে চিঠি লেখার পরেই এই ঘটনাটি ঘটেছে। নারী সংরক্ষণ বিল বা নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম, আইনসভাগুলিতে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এটি ২০২৩ সালে সংসদে পাস হয়েছিল। একটি প্রস্তাবিত আইনে এর বাস্তবায়নকে ২০২৭ সালের আদমশুমারি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ২০১১ সালের আদমশুমারির উপর ভিত্তি করে করার কথা বলা হয়েছে, যাতে এটি ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই কার্যকর হয়।
কংগ্রেস নেত্রী বলেছেন, “আসল সমস্যা নারী কোটা নয়, সীমানা পুনর্নির্ধারণ। যখন তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার তুঙ্গে থাকবে, তখন সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেছেন, “এই অস্বাভাবিক তাড়াহুড়োর একটাই কারণ থাকতে পারে, আর তা হলো রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করা এবং বিরোধী দলকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী বরাবরের মতোই সত্যকে বিকৃত করছেন।”
গত রোববারেই পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী এই ডিলিমিটেশানে বা সীমানা পুনর্নির্ধারনের পরিণতি সম্পর্কে রাজ্যের মানুষকে সতর্ক করেছেন।
কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেত্রী বলেছেন, কেন্দ্রই নারী সংরক্ষণ বিলটিকে পরবর্তী আদমশুমারির সঙ্গে যুক্ত করেছে। তিনি লিখেছেন,“বিরোধী দল এই শর্ত চায়নি। বস্তুত, রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে জোরালোভাবে দাবি করেছিলেন যে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই সংরক্ষণের এই বিধানটি কার্যকর করা হোক। সরকার নিজেদের কোনো কারণে তাতে রাজি হয়নি।”
সোনিয়া গান্ধী প্রশ্ন তুলেছেন, “আমরা জানতে পেরেছি যে, ২০২৯ সাল থেকেই নারী সংরক্ষণ কার্যকর করার জন্য ৩৩৪-এ ধারা সংশোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান পরিবর্তন করতে ৩০ মাস সময় লাগল কেন? আর বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য তিনি কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে পারলেন না কেন? বিরোধী নেতারা সরকারকে একবার নয়, তিনবার চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন যে, ২৯শে এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সরকারের নতুন প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হোক। কিন্তু সেই সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত অনুরোধটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে “। তিনি আরও বলেন, "এটি একটি হীন কৌশল যা প্রধানমন্ত্রীর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার প্রবণতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তার -আমার কথাই শেষ কথা' মনোভাবকে প্রতিফলিত করে"।

সংসদের বিশেষ অধিবেশনটি ১৬ই এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত, সরকার অধিবেশনে ঠিক কী বিষয় বিবেচনা করতে চায়, সে বিষয়ে সাংসদদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জানায়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন