ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে চাপ সৃষ্টি করতে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’কে ক্যারিবীয় সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে এটি ইতিমধ্যে মোতায়েন থাকা অন্যান্য মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সম্পদের সঙ্গে যুক্ত হবে। কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের সঙ্গে আরেক দফা আলোচনা হতে পারে। তবে সেই আলোচনা বাস্তবায়িত হয়নি। এ সপ্তাহে তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একজন ওমান ও কাতার সফর করে মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় করেছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
দ্বিতীয় রণতরী পাঠানোর বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি আমরা চুক্তি করতে না পারি, তাহলে আমাদের এটা প্রয়োজন হবে। তিনি আরও যোগ করেন, খুব শিগগিরই এটি রওনা দেবে। এরই মধ্যে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো সতর্ক করেছে যে, যেকোনো হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এমন এক সময়ে যখন গাজায় ইসরাইল-হামাস অভিঘাতে অঞ্চলটি এখনও অস্থির। অন্যদিকে, গত মাসে দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমনে নিহত হাজারো মানুষের ৪০ দিনের শোকপালন শুরু করেছে ইরানিরা, যা নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ আরও বাড়াচ্ছে।
ফোর্ড রণতরীটি যোগ দেবে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং তার সঙ্গে থাকা গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলোর সঙ্গে। এগুলো দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ওই অঞ্চলে রয়েছে। গত সপ্তাহে লিংকনের কাছে আসা একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন বাহিনী। একই দিনে ইরান হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ থামানোর চেষ্টা করে।
গত অক্টোবরে ভূমধ্যসাগর থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে ফোর্ডকে পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প, যখন প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক অভিযানের আগে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছিল। ওই অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়। তবে এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কৌশলের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক বলে মনে হচ্ছে, যেখানে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পশ্চিম গোলার্ধকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
ফোর্ডের অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইউএস সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, লাতিন আমেরিকায় মার্কিন বাহিনী পশ্চিম গোলার্ধে অবৈধ কার্যকলাপ ও কুদৃষ্টি সম্পন্ন শক্তির বিরুদ্ধে কাজ চালিয়ে যাবে। মুখপাত্র কর্নেল ইমানুয়েল অর্টিজ বলেন, সামরিক অবস্থান বদলালেও আমাদের কার্যক্ষমতা বদলায় না। আমাদের বাহিনী শক্তি প্রদর্শন, আত্মরক্ষা এবং মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তুত।
ফোর্ড স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ৫০০০ সেনা নিয়ে আসছে। যদিও লিংকন গ্রুপে আগে থেকেই থাকা সক্ষমতার বাইরে নতুন অস্ত্র বা প্রযুক্তি খুব বেশি যোগ হবে না। তবে দুটি বিমানবাহী রণতরী থাকলে সামরিক পরিকল্পনাকারী ও প্রেসিডেন্টের হাতে দ্বিগুণ বিমান ও গোলাবারুদ থাকবে। বর্তমানে ফোর্ড ক্যারিবীয় অঞ্চলে থাকায়, ইরানের উপকূলে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ট্রাম্প বারবার হুমকি দিয়েছেন, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি করাতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করবেন। গত সপ্তাহে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, সমঝোতা না হলে ইরানের জন্য দিনটি খুব খারাপ হবে। গত বছর একই ধরনের আলোচনা ভেঙে যায়, যখন ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু করে, যার মধ্যে মার্কিন বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালায়।
