হরমুজ অবরোধের পর যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ‘গাণিতিক’ সতর্কবার্তা

হরমুজ অবরোধের পর যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ‘গাণিতিক’ সতর্কবার্তা

ফন্ট সাইজ:

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করার হুমকি নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন। হোয়াইট হাউসকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা গ্যাসের দামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। তিনি হোয়াইট হাউসের আশপাশে বর্তমান পেট্রোলের দামের একটি ছবি শেয়ার করে মার্কিন জনগণকে সতর্ক করেন। বলেন, ‘‘খুব শিগগিরই তোমরা এই দামগুলো মিস করবে।’ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ঘোষণা দেয় যে ইরান সময় অনুযায়ী সোমবার সন্ধ্যা থেকে তারা ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়া সব সামুদ্রিক চলাচলের ওপর অবরোধ কার্যকর করবে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ লিখেছেন, বর্তমান পাম্পে (তেলের যে) দাম আছে তা উপভোগ করুন। এই তথাকথিত ‘অবরোধ’-এর পর খুব শিগগিরই ৪-৫ ডলারের গ্যাসের জন্য নস্টালজিক হয়ে পড়বেন।"ΔO_BSOH>0 ⇒ f(f(O))>f(O)"

এক্ষেত্রে তিনি একটি গাণিতিক সমীকরণ শেয়ার করেন। তা হলো এর সঙ্গে তিনি গুগল ম্যাপস-এর একটি স্ক্রিনশট দিয়েছেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির দাম দেখানো ছিল। এর মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যতে দামের তীব্র বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেন। এক্সের ব্যবহারকারীদের মতে, এই সমীকরণের অর্থ হলো- যদি হরমুজ অবরোধের তীব্রতা বাড়ে (ΔO_BSOH > 0), তাহলে তেলের দাম সরলভাবে নয়, বরং বহুগুণে ও জটিলভাবে বাড়বে e (f(f(O)) > f(O))।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘সহজ ভাষায়: সরবরাহ কমে গেলে → দাম বাড়ে → সেই চাপ আরও বাড়তে থাকে। প্রথম ধাক্কায় দাম বাড়ে, আর সেই ধাক্কার প্রতিক্রিয়ায় আবারও দাম বাড়ে। যতদিন সস্তা গ্যাস পাচ্ছেন, উপভোগ করুন।;

ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন নৌবাহিনী দ্রুত হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ ও বের হওয়া জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ শুরু করবে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সময় সকাল ১০টা (ইরানে বিকাল ৫:৩০) থেকে ইরানের সব বন্দরের ওপর অবরোধ কার্যকর হবে। সেন্টকম বলেছে, ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়া সব দেশের জাহাজের ওপর নিরপেক্ষভাবে এই অবরোধ প্রয়োগ করা হবে। এর মধ্যে আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সব ইরানি বন্দর অন্তর্ভুক্ত। তবে তারা জানায়, ইরান ছাড়া অন্য দেশের বন্দরগুলোর মধ্যে যাতায়াতকারী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

আরও বলা হয়, অবরোধ শুরু হওয়ার আগে বাণিজ্যিক নাবিকদের আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেয়া হবে এবং তাদের ‘নোটিস টু মেরিনার্স’ সম্প্রচার পর্যবেক্ষণ করতে ও প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।

সোমবার ইরানের বন্দর অবরোধের নির্দেশ দেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। লেনদেন শুরু হওয়ার পর মে মাসের জন্য ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৫০ ডলারে পৌঁছায়। আর জুনের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ১০২ ডলারে ওঠে। এশিয়ায় শুরুতে লেনদেনে দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক প্রায় ২ শতাংশ পড়ে যায়, পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। জাপানের নিক্কেই সূচকও ০.৩ শতাংশ কমে যায়। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর তেলের দাম কমেছিল এবং শেয়ারবাজারে উত্থান হয়েছিল। তবে ইসরাইল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় সেই স্থিতিশীলতা দ্রুত নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন