নতুন-পুরোনোতে হবে মন্ত্রিসভা

সহযোগীদের খবর

নতুন-পুরোনোতে হবে মন্ত্রিসভা

ফন্ট সাইজ:

আজকের পত্রিকা
আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘নতুন-পুরোনোতে হবে মন্ত্রিসভা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশের আগামী সরকারের প্রধানমন্ত্রীও হচ্ছেন তিনি। তার নেতৃত্বেই গঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভা। এই মন্ত্রিসভায় চমক থাকবে বলে আভাস দিয়েছেন বিএনপির নেতারা।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক সূত্র বলেছে, তারেক রহমান তার মন্ত্রিসভায় দলের অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান নেতাদের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত তরুণদের সমন্বয় ঘটাবেন। তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অর্থনীতি সচল করা। গুরুত্ব পাবে ‘মব ভায়োলেন্স’।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় জিয়া পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের যাত্রা শুরু হবে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সর্বত্র আলোচনা চলছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার কবে গঠিত হবে, সেই মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন-এসব নিয়ে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ইতিপূর্বে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন। নির্বাচনের ছয় দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর আভাসও দেয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ করাতে হবে। তবে জাতীয় সংসদের স্পিকার না থাকায় এ নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সংবিধানেই এর সমাধান আছে। সে অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি বা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতে পারবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন। ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব এক ব্রিফিংয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সবচেয়ে দ্রুত সময়ে (ক্ষমতা) হস্তান্তর হবে।...এটা তিন দিনের মধ্যে হয়ে যেতে পারে। ১৫, ১৬ ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে। আমার মনে হয় না এটি ১৭, ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে।’ এটা স্পষ্ট, সব ঠিক থাকলে নির্বাচনের পর ছয় দিনের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
বিএনপির সূত্র বলেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত বাস্তবতায় এবার সরকার গঠন ও অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন চিন্তা করছে দল। নির্বাচনে বিজয়কে ফলপ্রসূ করতে সবার আগে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিচ্ছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা। বিরাজমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটাতে ‘মব সন্ত্রাসের’ বিষয়টি অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সরকার কেমন হবে, সেখানে জোটের শরিক দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি। নির্বাচনে বিজয়ের পর গতকাল শুক্রবার স্থায়ী কমিটির সভা হয়েছে। ওই সভাতেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করা শরিক তিন দলের প্রধানও নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁরা হলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর।

বিএনপির পক্ষ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং দেশ পরিচালনার কথা বলা হয়েছিল। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বলেছি, যে সকল রাজনৈতিক দলকে একসাথে নিয়ে আন্দোলন, সংগ্রাম করেছি, আমরা চাই কম-বেশি সকলকে নিয়ে একসাথে দেশ পরিচালনা করতে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত নুরুল হক নুর আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান সব সময় আমাদের বলেছেন, জাতীয় সরকার করতে চান। আমরাও বিএনপির সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামসহ যেকোনো সংকটে ছিলাম। নির্বাচনে আমরা তারেক রহমানের ওপর আস্থা রেখেছিলাম। আগামীতেও আমরা তাঁর ওপর আস্থা রেখে এগোতে চাই।’

সূত্র বলেছে, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে কাউকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে বিরোধী দলের বিষয়েও উদারতার দরজা খোলা রাখতে চান বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। ক্ষেত্রবিশেষে তাদের ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শকেও আমলে নেওয়ার চিন্তা আছে তাদের।

বিএনপির সূত্র বলেছে, মন্ত্রিসভা গঠনে নতুন বাস্তবতাকে বিবেচনা করছে দল। দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ছিলেন বিএনপির এমন একাধিক নেতা বলেন, অতীতে মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভারসাম্য, অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব ও জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ বিষয়গুলো সব সময়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন বাস্তবতায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী করার ক্ষেত্রে দক্ষতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে; বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র, আইন, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে কঠোর কিন্তু গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দেখা যেতে পারে।
দলের আরেকটি সূত্র বলেছে, দলের চেয়ারম্যান দেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের ভিন্নমাত্রা যোগ করেছেন। নিজের নেতৃত্ব এবং চিন্তা-চেতনার সঙ্গে মিল আছে এবং যাঁদের সঙ্গে কাজ করতে তিনি স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন—এমন ব্যক্তিদেরই মন্ত্রিসভায় বেছে নেবেন তারেক রহমান। এই বিবেচনায় মন্ত্রিসভায় অপেক্ষাকৃত তরুণদের প্রাধান্য দেখা যেতে পারে। তবে পরীক্ষিত প্রবীণেরাও মন্ত্রিসভায় থাকবেন, এটিও নিশ্চিত।

দলীয় সূত্র বলছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী ‘মব ভায়োলেন্স’ ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে বিএনপি। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংসতার ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং নতুন সরকারের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন দলের চেয়ারম্যান। এই বাস্তবতায় তিনি এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে কঠোর অবস্থানে আছেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান।
বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, সরকার গঠনের পর ইশতেহারভিত্তিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রস্তুতির পাশাপাশি বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কাক্সিক্ষত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের মনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে এর কোনো বিকল্প নেই।

সরকার গঠন করলে বিএনপির সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে-গতকাল সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনীতিকে সচল করা। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা।

নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরও দলীয় নেতা-কর্মীদের বিজয় মিছিল বা আনন্দমিছিল না করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর আক্ষরিক অর্থ হলো, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কোনো প্রকার শক্তি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকা। এতে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ বা উসকানির ঝুঁকি কমবে এবং সরকার দায়িত্ব নেয়ার আগেই আইনশৃঙ্খলার বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে।

বিএনপির সরকার কেমন হবে জানতে চাইলে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘যে সরকার হবে, সেই সরকার দীর্ঘ গণতান্ত্রিক পথযাত্রার পর অনেক গুম, খুন, হামলা-মামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অনেক শহীদের সংগ্রামের ওপর দাঁড়িয়ে। সুতরাং আমাদের নেতা ইনশা আল্লাহ শহীদদের মায়েদের যে প্রত্যাশা, সেটি পূরণ করবেন। আগামীর বাংলাদেশে প্রত্যেক মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে, সমস্যার সমাধান করবে। এই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র অটুট রাখবে। এটি আমাদের নেতা সুনিশ্চিত করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
সমকাল
সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘জয় নিরঙ্কুশ, ভোটব্যাংকে বড় পরিবর্তন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অতীতের ভোটের সব হিসাবনিকাশ পাল্টে গেছে। আসনভিত্তিক দলগুলোর ভোটব্যাংকেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
বিএনপি ২০০-এর বেশি আসন পেলেও অন্তত ৫০টি আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে ১০ হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে। পাশাপাশি পাঁচ হাজারের কম ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে ২১টি আসনে। এমনকি অতীতে বিএনপির দুর্গখ্যাত জেলাগুলোতেও দলটি আসন হারিয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের দুর্গখ্যাত গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, গাজীপুর, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জের মতো জেলার আসনগুলোতে একচেটিয়া আসন লাভের কারণে জয়ের ব্যবধান অনেক বড় হয়েছে।
জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুর বিভাগে এবার লাঙ্গল প্রতীক কোনো আসনে জয়ী হতে পারেনি। এমনকি দেশের কোনো জেলার আসনেই দলটির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি।
ইসি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জামায়াত এই নির্বাচনে ৬৮টি আসন পেলেও দলভিত্তিক হিসেবে উপস্থিত ভোটের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট পেতে পারে।
যুগান্তর
যুগান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ৫৯.৪৪, গণভোটে ৬০.২৬’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।
অর্থাৎ একই দিন দুটিরই ভোটগ্রহণ হলেও ভোট পড়ার হারে দশমিক ৮২ শতাংশ পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে রায় পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। আর ‘না’ এর পক্ষে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন ভোট দিয়েছেন।

দেশ রূপান্তর
দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘ শান্তিপূর্ণ ভোট, অভিযোগ গণনায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় শান্তিপূর্ণ ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত একে অপরের বিরুদ্ধে কারচুপি, জালিয়াতি এবং কেন্দ্র দখলসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে।

এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশনে এসে জামায়াতের ক্ষোভ জানানোর পাশাপাশি বিএনপির একাধিক প্রার্থী অভিযোগ জমা দিয়েছেন। সার্বিক বিষয়ে ইসির ভাষ্য, অতীতের যে কোনো মানদন্ডে অত্যন্ত ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে।

প্রথম আলো
প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘দুই যুগ পর নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে সরকারে যাচ্ছে বিএনপি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দুই যুগ পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি একাই জয় পেয়েছে ২০৯টি। জোটের শরিকেরা পেয়েছে আরও ৩টি আসন। সব মিলিয়ে পরবর্তী সংসদে বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২১২। তবে আরও দুটি আসনে জয়লাভের সম্ভাবনা আছে বিএনপির। আদালতের নির্দেশে এ দুটি আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে।

দলটির ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপির বিজয়ী সদস্যদের মধ্যে ধর্ম, লিঙ্গ, নবীন-প্রবীণের বৈচিত্র্য রয়েছে। সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে যাঁরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের সবাই জয়ী হয়েছেন। এবার নির্বাচিতদের মধ্যে ছয়জন নারী সদস্য রয়েছেন; যা অন্য দলে নেই।
নতুন সরকারকে আর্থসামাজিক ও সংস্কারের মতো নানা জটিল বিষয়ের সমাধান করতে হবে।
সংসদের ভেতরে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী বিরোধী দলকে মোকাবেলা করতে হবে।

বণিক বার্তা
বণিক বার্তার প্রথম পাতার শিরোনাম ‘বিজয়ীদের গেজেট আজ, শপথ হতে পারে সোমবার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসি সূত্রে এতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হবে আজ শনিবার। আর আগামী সোমবার বিজয়ীদের শপথ পড়ানো হতে পারে।

ইতোমধ্যে সারাদেশের রিটার্নিং অফিস থেকে বিস্তারিত ফলাফল ইসিতে এসে পৌঁছেছে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর সংবলিত আসনভিত্তিক ফলাফলের মূল প্রামাণ্য দলিল এখনো ইসিতে আসেনি বলে জানা গেছে।
এসব দলিলের হার্ড কপি সরাসরি বহন করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের বিশেষ দূতের মাধ্যমে কমিশনে আসার কথা রয়েছে। এই ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) কমিশনের পাঁচ সদস্যের স্বাক্ষর শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজি প্রেসে পাঠানো হবে গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য।

ইত্তেফাক
ইত্তেফাকের শিরোনাম ‘নির্বাচনী আলোচনায় শীর্ষে থেকেও হারলেন যারা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিচিত হেভিওয়েট নেতাদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নতুন ও ব্যতিক্রমী প্রার্থী জনমনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছিলেন। নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথের জনসভা— সবখানেই তারা ছিলেন আলোচনার তুঙ্গে। তবে ভোটের চূড়ান্ত হিসাবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। জনমঞ্চে সাড়া ফেললেও ব্যালট বাক্সে তাদের অনেকেই সুবিধা করতে পারেননি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ঢাকা-৮ আসন থেকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক পাটোয়ারী নির্বাচনে অংশ নেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে নিয়ে মন্তব্য এবং নানা কর্মকাণ্ড করে ছিলেন আলোচনায়। শেষ পর্যন্ত হেরে যান মির্জা আব্বাসের কাছে।
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে হেরেছেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর যোগ দেন এনসিপিতে। ঢাকা-৯ আসন থেকে দলটির মনোনয়নও পান। তবে এনসিপির জামায়াত জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর দল থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন।

অনেক দিন ধরেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ঘটনায় আলোচনায় আসা খেলাফত মজলিস নেতা মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসনে হেরে গেছেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী ববি হাজ্জাজের কাছে। বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তীও এই নির্বাচনে ছিলেন আলোচিত। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। তবে ব্যালটে সুবিধা করতে পারেননি তিনিও।

খুলনা-৫ আসনে হেরে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। পরওয়ারের চেয়ে দুই হাজার ৭০২ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেছেন বিএনপি দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবি।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী, কিন্তু তিনি সনাতন ধর্মের অনুসারী-এ পরিচয়ই এবারের নির্বাচন আলোচিত করেছে খুলনা–১ আসনের কৃষ্ণ নন্দীকে। জামায়াতের হিন্দু শাখার সাবেক এই সভাপতি ভোটের মাঠে নানা বক্তব্যে ছিলেন আলোচনায়। তবে ব্যালটে সুবিধা করে উঠতে পারেননি। খুলনার ৬টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হেরেছেন তিনি।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলমও পঞ্চগড়-১ আসনে পরাজিত হয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন