চাকরি দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

চাকরি দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মথরপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাকরি দেয়ার নাম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলার পর শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে সাঘাটা থানা পুলিশ। রোববার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার পূর্ব অনন্তপুর গ্রামের আফজাল হোসেনের দায়ের করা একটি মামলায় জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর শনিবার রাতেই তাকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। রোববার গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ তার জামিন আবেদন করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদীর ছেলে রবিউল ইসলামকে মথরপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ‘ল্যাব সহকারী’ পদে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জাহিদুল ইসলাম। এই প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে তিনি আফজাল হোসেনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। কিন্তু ঘুষ নিয়েও তিনি রবিউল ইসলামকে নিয়োগ না দিয়ে কৌশলে নিজের ছেলেকে ওই পদে চাকরি দেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার তাদের পাওনা টাকা ফেরত চাইলে জাহিদুল ইসলাম নানা টালবাহানা শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে ২০২৫ সালে আদালতের শরণাপন্ন হন আফজাল হোসেন। তার দায়ের করা সেই মামলাতেই অবশেষে আইনের আওতায় এলেন এই প্রধান শিক্ষক। আদালতে বাদীর পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী সাহাদুল আলম জানান, জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শুধু এই একটি মামলাই নয়, বরং আরও অনেক মানুষকে প্রতারিত করার অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন পদে চাকরি দেয়ার নাম করে অন্তত ১০ জনের কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই ভুক্তভোগীদের মধ্যে তিন থেকে চারজন তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। বাকি যারা প্রতারিত হয়েছেন, তারাও মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। জাহিদুল ইসলামের এই কর্মকাণ্ডে স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সাঘাটা থানা পুলিশ জানিয়েছে, জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতারণার শিকার অন্য ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন