মমতা বনাম মোদির তরজায় উত্তপ্ত রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন

মমতা বনাম মোদির তরজায় উত্তপ্ত রাজনীতি

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মুখ হিসেবে তুলে রাজ্যজুড়ে জোর প্রচার শুরু করেছে। সঙ্গে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফলে লড়াইটি হচ্ছে মমতা বনাম মোদির। দু’জনের কথার লড়াইয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের ভোট রাজনীতি। মোদি পশ্চিমবঙ্গে এক সপ্তাহে তিনবার প্রচার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। টানা দু’দিন নির্বাচনী প্রচার ও রোড শোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গে থাকাটাও নজির বিহীন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামানোর জন্য তিনি চা বলয়ের রিসোর্টে রাত কাটাতেও দ্বিধা করেন নি। আর মমতা তো বাংলার মেয়ে থেকে ঘরের মেয়ে ওঠার বার্তা দিয়ে রাজ্য চষে বেড়াচ্ছেন। প্রার্থী নয়, তিনিই হলেন একমাত্র প্রার্থী রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে, সে কথা তিনি বার বার বলেছেন। তবে এবার প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার লড়াই করতে হচ্ছে মমতাকে। আর সেই সুযোগ নিয়ে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের নানা জায়গায় জনসভা ও রোড শো করছেন সেটাও বেশ অভাবনীয় ঘটনা। অথচ সেটাই এবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী লড়াইয়ের মন্ত্র হয়ে উঠেছে। অমিত শাহ ভবানীপুরের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারির মনোনয়ন পেশের সময় সঙ্গী হিসেবে ছিলেন। সেদিনই তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় ১৫ দিন তিনি পশ্চিমবঙ্গে থাকবেন।

রোববার সকালে নিজের সমাজমাধ্যমে উত্তরবঙ্গে শনিবারের ১৫ কিলোমিটারের রোড শোয়ে তিনি যে সাড়া পেয়েছেন, তা ‘ভালোবাসা’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। রোড শোয়ের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। শনিবারের রোড শোয়ে আচমকাই মাঝপথে নেমে পড়ে মোদি ১০০ মিটারের মতো পথ পায়ে হেঁটে জনসংযোগ করেন। পশ্চিমবঙ্গবাসীকে বিজেপির দেয়া ‘প্রতিশ্রুতি’র কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বিজেপি সরকার স্থানীয় উন্নয়নের সমস্যাগুলোর সমাধান করবে।’ একই সঙ্গে বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের যুব সম্প্রদায়ের জন্য নতুন সুযোগ নিয়ে আসবে বিজেপি সরকার।’ রোববারও তিনি শিলিগুড়িতে জনসভা করেন।

মোদির বক্তব্যের সঙ্গে মমতার তরজাও শুরু হয়েছে। মোদি ও অমিত শাহ যেখানে যেখানে সভা করছেন সেখানে গিয়ে মমতা পাল্টা সভা করে মোদির মুখোশ খোলার চেষ্টা করছেন।

রোববার পূর্ব বর্ধমান ও বাঁকুড়াতে চারটি জনসভা করেছেন। একটি জনসভায় তিনি মোদিকে সরাসরি মিথ্যেবাদী হিসেবে তুলে ধরেছেন। খন্ডঘোশের জনসভা থেকে মমতা বলেন, এত মিথ্যাবাদী ওরা! বলছে ওদের সরকার এলে সপ্তম পে কমিশন করে দেবে। আরে একটু তো খবর নাও। চেয়ারটার তো অমর্যাদা কোরো না। আমাদের বাজেটে ফেব্রুয়ারি মাসে সপ্তম পে কমিশন ঘোষণা করে দিয়েছি। বেঙ্গল একমাত্র স্টেট, যেখানে পেনশন দেওয়া হয়। অন্য কোনও রাজ্যে নেই।

পশ্চিমবঙ্গে না কি চাকরি হয় না, এই অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো পাল্টা প্রশ্ন করেন, তোমাদের ডিফেন্সে কটা লোক নিয়েছ? তোমার রেলে গ্যাংম্যান নেই। একটাও শূন্য পদ ভর্তি করোনি। বলেছিলে বছরে ২ কোটি লোকের চাকরি দেবে, একটাও দাওনি। আর বাংলায় ২ কোটি লোকের চাকরি আমরা দিয়েছি। আর ৪০ শতাংশ বেকারি কমেছে। এটাই সত্য। চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছি।

প্রচারে দুই শিবিরের কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ। জেলায় জেলায় ঘুরছেন দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা এবং দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক সম্মিলিতভাবেও জনসভা ও রোড শো করছেন। প্রচারের ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে টক্কর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির দুই শীর্ষনেতাও জেলায় জেলায় ঘুরে প্রচার সেরেছেন। রোড শো করেছেন।

আগামী ১০ দিনে রাজ্যে ৫০০ প্রচারসভা করবে বিজেপি। এবার রাজ্যে আসবেন অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। তারকা প্রচারক হিসেবে দ্বিতীয় দফায় ভোট প্রচার ঝড় তুলতে আসবেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন