বণিক বার্তা
‘দক্ষিণ এশিয়ায় ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে সবার পেছনে বাংলাদেশ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের শিক্ষার মান নিয়ে বিগত এক দশক ধরেই নানা মহলে চলছে সমালোচনা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনেও বারবার শিক্ষাক্ষেত্রের এ সংকটের বিষয়টি উঠে এসেছে।
ইউনেস্কো প্রকাশিত বিশ্ব শিক্ষা পরিসংখ্যানের তথ্যেও এ চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে বাংলাদেশের অবস্থান সবার পেছনে। এখানে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ২০২৪; নেপালের ২০২৫; শ্রীলংকা ও ভুটানের ২০২৩ এবং মালদ্বীপের ২০২২ সালের তথ্য ধরে বিশ্লেষণটি করা হয়েছে। কেননা নেপাল বাদে বাকি দেশগুলোর সর্বশেষ প্রতিবেদন ওই নির্দিষ্ট বছরগুলোতেই প্রকাশ হয়।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্তরে গড়ে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার মাত্র ৫৫ শতাংশ। ইউনেস্কো এ হার নির্ধারণে দুটি মানদণ্ড বিবেচনা করেছে—প্রথমত, শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট স্তরে পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেয়েছেন কিনা এবং দ্বিতীয়ত, তাদের সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা সে স্তরের জন্য উপযুক্ত কিনা। এ মানদণ্ড অনুযায়ী দেখা যায়, বাংলাদেশে নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৫৫ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ দুই স্তরেই দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি স্পষ্ট।
অন্যদিকে এ সূচকে সাতটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মালদ্বীপ। দেশটিতে নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে ন্যূনতম যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশ, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৯৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং সার্বিকভাবে মাধ্যমিক স্তরে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি।
দেশে শিক্ষার মান দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নবিদ্ধ, যার অন্যতম প্রধান কারণ দক্ষ শিক্ষকের অভাব। এ সংকটের পেছনে মূলত দুটি কারণ বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। প্রথমত, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব। অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিক বিবেচনা, স্বজনপ্রীতি কিংবা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে যখন বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হতো, তখন এ ধরনের অনিয়ম বেশি দেখা গেছে। এমনকি ভুয়া সনদ ব্যবহার করেও শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
দ্বিতীয়ত, বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। অনেক সময় সরকার প্রশিক্ষণের জন্য বিদ্যালয়গুলোর কাছে শিক্ষকদের তালিকা চাইলেও প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না পাঠিয়ে স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে নাম পাঠিয়েছে। ফলে দেখা গেছে, গণিতের প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন বাংলা বা ধর্মীয় শিক্ষার শিক্ষক। ফলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কার্যকর না হয়ে অনেক ক্ষেত্রেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরও শিক্ষকরা তা পাঠদানে প্রয়োগ করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষকদের দক্ষতার এ ঘাটতি সরাসরি শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফলে প্রভাব ফেলছে। বিভিন্ন বার্ষিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত মানের দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।’
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা, যাতে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহী হয়। পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক তৈরির জন্য সব স্তরে প্রি-সার্ভিস প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালুর ওপরও এ শিক্ষাবিদ জোর দেন, যা এরই মধ্যে উন্নত অনেক দেশে কার্যকরভাবে চালু রয়েছে।
বিশ্ব শিক্ষা পরিসংখ্যানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার বিবেচনায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভুটান। দেশটিতে মাধ্যমিক স্তরে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে আছে যথাক্রমে নেপাল ও ভারত। দেশ দুটিতে এ হার যথাক্রমে ৯৭ দশমিক ৪ ও ৯২ দশমিক ৩০ শতাংশ। এছাড়া শ্রীলংকা ও পাকিস্তানে এ হার যথাক্রমে ৮০ দশমিক ৪ ও ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে দুটো চ্যালেঞ্জ স্পষ্টভাবে সামনে আসে। প্রথমত, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষকের অভাব, বিশেষত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব এবং দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি। আমাদের শিক্ষকদের হয়তো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে, কিন্তু শ্রেণীকক্ষে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক “শিখন-শিক্ষণ” পদ্ধতিতে তাদের বড় অংশেরই দক্ষতার ঘাটতি আছে। এটি কেবল প্রশিক্ষণের দুর্বলতা নয়, বরং আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং গ্রাম ও শহরের মধ্যবর্তী বৈষম্যের ফল।’
তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শ্রেণী অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে না পারা বা এসএসসি পরীক্ষায় অনেক ক্ষেত্রে অকৃতকার্য হওয়ার বড় কারণ বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। বিশেষ করে গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি ও বাংলার মতো মৌলিক বিষয়ে আমাদের মারাত্মক শিক্ষক সংকট রয়েছে। বাংলার শিক্ষক যদি বিজ্ঞান পড়ান, তবে শিক্ষার মানোন্নয়ন অসম্ভব। সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার যে পরিকল্পনা করছে, তা ইতিবাচক। তবে যারা বর্তমানে শিক্ষকতা করছেন, তাদের জন্য নিয়মিত এবং বিষয়ভিত্তিক উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত এখন অনেক ক্ষেত্রে ৬০-৭০ জন, যা পাঠদানের জন্য অত্যন্ত কঠিন। এ অনুপাত সঠিক স্তরে নামিয়ে আনতে হবে।’
বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৪-এও। এ পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে মাধ্যমিক স্তরে শ্রেণীকক্ষে ইংরেজি পড়ান ৫৯ হাজার ৭৯১ শিক্ষক। তাদের মধ্যে ২৪ দশমিক ৩৪ শতাংশই উচ্চ মাধ্যমিকের পর আর ইংরেজি পড়েননি, ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশ বাধ্যতামূলক ১০০ নম্বরের ইংরেজিসহ এবং ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ বাধ্যতামূলক ৩০০ নম্বরের ইংরেজিসহ বিএ ডিগ্রিধারী। আর ইংরেজিতে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর যোগ্যতাসম্পন্ন মাত্র ১৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের ক্ষেত্রে আরো ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে গণিতে। মাধ্যমিক স্তরে শ্রেণীকক্ষে গণিত পড়ান ৬১ হাজার ৭০৭ শিক্ষক। তাদের মধ্যে ৫৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ শিক্ষকই উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পর আর গণিত পড়েননি। ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ শিক্ষক অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে গণিতসহ বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ১৭ দশমিক ২৮ শতাংশ শিক্ষক গণিত, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানসহ বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আর গণিতে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে এমন শিক্ষকের হার মাত্র ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়। উভয় কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ। মাধ্যমিক স্তরে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার নিয়ে ইউনেস্কোর পরিসংখ্যানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখানে যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সেগুলো হলো প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা। সে হিসাবে এটি ৫৫ শতাংশ। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা আরো ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। বহু শিক্ষক আছেন যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট আছে ঠিকই কিন্তু ওই যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের দক্ষতা নেই। একইভাবে এমনও অনেক শিক্ষক আছেন যাদের বিএডসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ আছে কিন্তু প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জন করেননি তারা। শ্রেণীকক্ষে পাঠদানে এসব প্রশিক্ষণের কোনো প্রভাব নেই। সুতরাং যদি প্রায়োগিক দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের কথা বিবেচনা করা হয় তাহলে আমাদের ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার আরো কম।’
এ সমস্যা রাতারাতি সমাধানযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনজুর আহমদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের অদক্ষতার বিষয়গুলো আমাদের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত সে অনুযায়ী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।’
শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত অর্থেই যদি আমরা সমাধান চাই তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা নিতে হবে। যারা সার্টিফিকেট অর্জন করছেন তাদের প্রকৃত দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বর্তমানে বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত বিএড ডিগ্রির মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে, যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে দায়সারা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পরিবর্তে বিষয়ভিত্তিক কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি এবং শ্রেণীকক্ষে তার বাস্তব প্রয়োগ বাধ্যতামূলক করতে হবে। কারণ শিক্ষার মূল চালিকাশক্তি শিক্ষক—তাই দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত না করে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়।’
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘চিহ্নিত হচ্ছে এসপিদের রাজনৈতিক পরিচয়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ সুপারদের (এসপি) রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে খোদ পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গোপনীয় প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত গোপনীয় প্রতিবেদন আনঅফিশিয়াল চ্যানেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতে পুলিশের মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এ শীর্ষ পদে সরকারের আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের পদায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনো এসপি পদে আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের একটি অংশ কর্মরত। এছাড়া জামায়াতপন্থি এসপিদের সংখ্যাও কম নয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেশের ৬৪ জেলার এসপিদের মধ্যে বিএনপিপন্থি ১৬, জামায়তপন্থি ৩২ এবং আওয়ামী ও মধ্যমপন্থি হিসাবে ৮ জন করে কর্মরত ছিলেন ১৬ জন।
এদিকে বর্তমান সরকারের আমলে এ পর্যন্ত নয় জেলার এসপি বদল করা হয়েছে। এগুলো হলো-সিলেট, ময়মনসিংহ, জামালপুর, হবিগঞ্জ, বরিশাল, বগুড়া, মাগুরা, মাদারীপুর ও খাগড়াছড়ি। তবে দুইজন বিএনপিপন্থি না হওয়ায় এ পদায়ন নিয়ে কিছুটা ক্ষোভও রয়েছে পুলিশের অভ্যন্তরে। যদিও পুলিশের মধ্যে পেশাদার হিসাবে পরিচিত কিছুসংখ্যক কর্মকর্তা মনে করেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এ বাহিনীকে সত্যিকারার্থে দলমতনিরপেক্ষ শক্তিশালী পেশাদার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। যদি কোনো সরকার এমন চিন্তা থেকে কঠিন কাজটা শুরু না করে, তাহলে পুলিশের পেশাদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কোনো লাভ নেই। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক আইজিপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল কাইয়ুম যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি তো একটি দল করি। এক অর্থে সরকারের অংশ। তাই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এ ধরনের তালিকা করা বা তালিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া কতটুকু ঠিক হচ্ছে-বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে মতামত দেব। আমি মিডিয়ায় সব কথা বলতে পারব না। বিষয়টা আপনারা বুঝে নিন।’
সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। যেভাবে দলীয় ট্যাগ দিয়ে তালিকা করা হচ্ছে, সেটি মোটেও ঠিক নয়। পদায়নের ক্ষেত্রে একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত মেধা, যোগ্যতা ও সততা।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন যেভাবে তালিকা বা পদায়ন করা হচ্ছে, সেটি তো প্রভাবিত মতামত।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্র যুগান্তরকে জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত এসপিদের আমলনামা এরই মধ্যে সংগ্রহ করেছে সরকার। তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক আদর্শও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত গোপনীয় প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে করা ওই প্রতিবেদনটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের একটি কপি যুগান্তরের হাতে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকা জেলার এসপি মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগ আমলে এসপি পদে পদোন্নতি পান। গত নভেম্বরে তিনি ঢাকা জেলায় যোগদান করেন। মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে পদোন্নতি পেলেও ভালো কোনো জায়গায় পোস্টিং ছিল না। ট্রেনিং সেন্টারে কাজ করেছি।’
নারায়ণগঞ্জের এসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর বিষয়ে পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি আওয়ামীপন্থি, আওয়ামী সুবিধাভোগী এবং আওয়ামী লীগ আমলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত। ২৫তম বিসিএস কর্মকর্তা উখিয়া সার্কেলে এএসপি হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, র্যাব ও পিবিআইতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এবং সর্বশেষ পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এসপি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীনের বিষয়ে বলা হয়েছে, তিনি জামায়াতপন্থি এবং আওয়ামী লীগের আংশিক সুবিধাভোগী। পদোন্নতি পেয়েছেন আওয়ামী লীগ আমলে। গাজীপুরে যোগদানের আগে বরিশালের পুলিশ সুপার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুকের বিষয়ে গোপনীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা হলেও আওয়ামী আমলের আংশিক সুবিধাভোগী। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি আংশিক পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন। আব্দুল্লাহ আল ফারুক যুগান্তরকে বলেন, আমি পদোন্নতি পেয়েছি ২০২০ সালে। আওয়ামী লীগের আমলে ভালো কোনো পোস্টিং পাইনি। চার বছর ছিলাম ট্রেনিং সেন্টারে।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলমের বিষয়ে বলা হয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগ আমলে আংশিক সুবিধাভোগী জামায়াতপন্থি অফিসার। পদোন্নতি পেয়েছেন আওয়ামী লীগ আমলেই। মানিকগঞ্জের এসপি মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের বিষয়েও একই ধরনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। টাঙ্গাইলের এসপি মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি আওয়ামী আংশিক সুবিধাভোগী। তাকে সুবিধাবাদী কর্মকর্তা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগ আমলে পদোন্নতিবঞ্চিত ছিলেন। কিশোরগঞ্জের এসপি ড. এসএম ফরহাদ হোসেনকে জামায়াতপন্থি কর্মকর্তা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি আওয়ামী সুবিধাবঞ্চিত ও আংশিক পদোন্নতিবঞ্চিত।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জামায়াতপন্থি এবং আওয়ামী সুবিধাভোগী অফিসার বলে পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার বিষয়ে আরও বলা হয়েছে, তিনি সুবিধাবাদী এবং আওয়ামী লীগ আমলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত। গোপালগঞ্জের এসপি মো. হাবীবুল্লাহর বিষয়ে বলা হয়েছে, ২৭তম ব্যাচের এ কর্মকর্তা জামায়াতপন্থি, আওয়ামী সুবিধাভোগী এবং আংশিক পদোন্নতিবঞ্চিত। রাজবাড়ীর এসপি মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদকে জামায়াতপন্থি কর্মকর্তা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি আওয়ামী সুবিধাভোগী এবং আওয়ামী লীগ আমলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত।
কুমিল্লার এসপি আনিছুজ্জামানকে বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি আওয়ামী আংশিক সুবিধাভোগী এবং আওয়ামী লীগ আমলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত। এসপি আনিসুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট পতনের পর আমি পদোন্নতি পেয়েছি। তবে পুলিশ সদস্যদের যেভাবে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে, সেটা ঠিক না। এ ধরনের ট্যাগ আইনের সঠিক প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে।’ যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, আনিসুজ্জামান এসপি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ২০১৮ সালে। কুমিল্লার এসপি হওয়ার আগে তিনি রাজশাহী ও ঢাকার এসপি ছিলেন। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকও তিনি।
ফেনীর এসপি শফিকুল ইসলাম বিএনপিপন্থি, আওয়ামী সুবিধাবঞ্চিত ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাঙামাটির এসপি মুহম্মদ আব্দুর রকিব, চাঁদপুরের এসপি রবিউল ইসলাম এবং লক্ষ্মীপুরের এসপি আবু তারেকের (আংশিক পদোন্নতিবঞ্চিত উল্লেখ করা হয়েছে) বিষয়েও একই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে। তবে আদর্শগতভাবে তারা জামায়াতপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়। কক্সবাজারের এসপি এএনএম সাজেদুর রহমানের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি একজন বিএনপিপন্থি অফিসার। ২৭তম ব্যাচের এ কর্মকর্তা আওয়ামী আংশিক সুবিধাভোগী এবং আওয়ামী আমলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত। বান্দারবানের এসপি আব্দুর রহমান এবং রাঙামাটির এসপি মুহম্মদ আব্দুর রকিবের বিষয়েও একই ধরনের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তারা জামায়াতপন্থি কর্মকর্তা।
পুলিশের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে যেসব এসপিকে জামায়াতপন্থি, আওয়ামী আংশিক সুবিধাভোগী এবং আওয়ামী আমলে পদোন্নতিবঞ্চিত উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন-পাবনার আনোয়ার জাহিদ, রংপুরের মারুফাত হুসাইন, নোয়াখালীর টিএম মোশাররফ হোসেন এবং পঞ্চগড়ের রবিউল ইসলাম। যেসব এসপির বিষয়ে জামায়াতপন্থি, আওয়ামী আংশিক সুবিধাভোগী এবং আওয়ামী আমলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন-নাটোরের মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব, জয়পুরহাটের মিনা মাহমুদা, যশোরের সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, বাগেরহাটের মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, নড়াইলের আল মামুন শিকদার, মৌলভীবাজারের মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, নেত্রকোনার তরিকুল ইসলাম, শেরপুরের কামরুল ইসলাম এবং নীলফামারীর শেখ জাহিদুল ইসলাম। লালমনিরহাটের এসপি আসাদুজ্জামানকে জামায়াতপন্থি উল্লেখ করা হলেও বলা হয়েছে, তিনি আওয়ামী সুবিধাবঞ্চিত। আওয়ামী লীগ আমলে তার পদোন্নতি হয়েছিল। গাইবান্ধার এসপি জসিম উদ্দিনকে জামায়াতপন্থি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি সুবিধাবাদী, আওয়ামী লীগ আমলে আংশিক সুবিধাভোগী এবং আংশিক পদোন্নতিপ্রাপ্ত।
গোপনীয় প্রতিবেদনে যেসব এসপিকে মধ্যপন্থি (আওয়ামী আমলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত, সুবিধাবাদী ও আংশিক সুবিধাভোগী) উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গৌতম কুমার বিশ্বাস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহ মো. আব্দুর রব, ঝিনাইদহের মাহফুজ আফজাল, চুয়াডাঙ্গার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ভোলার শহিদুল্লাহ কাওছার, পটুয়াখালীর আবু ইউসুফ, বরগুনার কুদরত-ই-খুদা এবং দিনাজপুরের জেদান আল মুসা। প্রতিবেদনে যেসব এসপিকে আওয়ামীপন্থি, আওয়ামী সুবিধাভোগী এবং আওয়ামী আমলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন সাতক্ষীরার আরেফিন জুয়েল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন, শরীয়তপুরের রওনক জাহান, মেহেরপুরের উজ্জল কুমার রায় এবং সুনামগঞ্জের আবু বাসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) খোন্দকার নজমুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, ‘জেলায় কর্মরত এসপিদের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর কড়া নজর রাখছে। তাদের বিষয়ে নানাভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সার্বিক বিষয় মূল্যায়ন করে ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় নতুন এসপি দেওয়া হয়েছে। চলমান কাজের অংশ হিসাবে পর্যায়ক্রমে আরও বেশ কয়েকটি জেলায় নতুন এসপি দেওয়া হতে পারে।’
প্রথম আলো
‘৬ শিশু হাসপাতালের ভবন পড়ে আছে, বিপুল ব্যয়’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিপুল ব্যয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় আধুনিক হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হলেও বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে আছে। হাসপাতাল ভবন আছে, কিন্তু কার্যক্রম চালু হয়নি—এমন চিত্র দেখা গেছে রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও কুমিল্লায়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা কথা বলে জানতে পেরেছেন, এই ছয়টি হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ করলেও জনবল, আসবাব, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অর্থ বরাদ্দ না থাকায় রংপুর ছাড়া বাকি পাঁচটি হাসপাতাল স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো প্রতিষ্ঠান ভবন বুঝে নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অব্যবহৃত অবকাঠামো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, একাধিক ভবনে চুরির ঘটনাও ঘটছে।
হাসপাতালগুলো হচ্ছে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল, রংপুর শিশু হাসপাতাল, বরিশাল শিশু হাসপাতাল, কুমিল্লা শিশু হাসপাতাল ও সিলেট জেলা হাসপাতাল। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিলেট জেলা হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তখন এ হাসপাতাল শিশু হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিষয়ে স্থানীয় মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে জেলা হাসপাতালের ঠিক পাশেই অবস্থিত সদর হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালটি নতুন জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। অন্যদিকে জেলা হাসপাতালের কার্যক্রম বর্তমানের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিয়ে সেটিকে শিশু হাসপাতালে রূপান্তর করারও মৌখিক প্রস্তাব ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়নি। এই ছয়টি হাসপাতাল ভবন নির্মাণে সরকার এখন পর্যন্ত ৩২০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে। নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (এনআইসিইউ) মোট শয্যা রয়েছে ১ হাজার ৫০টি। কোনো হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ৬ বছর আগে, কোনোটি ১০ মাস আগে।
সম্প্রতি হামের মতো সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবে বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর চাপ বাড়ছে। সেখানে সীমিত শয্যা ও জনবল নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের অবকাঠামো পড়ে থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ের অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণেই এ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) মঈনুল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ) সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা ছাড়াই এসব হাসপাতালের ভবন তৈরি করা হয়। হাসপাতাল কীভাবে চলবে, তা চিন্তা করা হয়নি। হাসপাতাল চালু করতে প্রশাসনিক অনুমোদন লাগবে। জনবলের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। সর্বোপরি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেতে হবে। হাসপাতালগুলো চালু করার জন্য ইতিমধ্যে আমরা বেশ কয়েকটি মিটিং করেছি। দ্রুততম সময়ে সব প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা করছি।’
রংপুরে ৬ বছর ধরে পড়ে আছে ভবন
রংপুরের ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ছয় বছর আগে। এরপর এটি চালু করতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের চিঠি-চালাচালি হয়েছে বেশ কয়েকবার। হাসপাতাল চালু করতে কমিটি করা হয়েছে কয়েকবার; কিন্তু সেই হাসপাতাল এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের রংপুর কার্যালয়ের তথ্য বলছে, সিটি করপোরেশনের সামনে সদর হাসপাতালের ১ একর ৭৮ শতাংশ জমিতে তিনতলা হাসপাতাল ভবন ও আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩১ কোটি ৪৮ লাখ ৯২ হাজার ৮০৯ টাকা।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ৮ মার্চ সিভিল সার্জনকে হাসপাতাল ভবন বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় করোনা রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। এরপর ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রশাসনিক অনুমোদন, জনবলের পদ সৃষ্টিসহ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ছাড়াই তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর ও সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৫ জুন ৬৫৯ জনবল নিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এরপর একাধিকবার সুপারিশসহ প্রতিবেদন পাঠানো হলেও হাসপাতাল চালু হয়নি। এর মধ্যে গত বছরের ৫ অক্টোবর ১০০ শয্যার সেবা কার্যক্রম চালুকরণে অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। তবে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
জেলা সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতাল চালু না হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ জেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় কয়েকবার তুলেছেন তিনি। আর এটি চালু করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার কথা জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান।
কালের কণ্ঠ
‘ভারত থেকে এলো আরো ৮ হাজার টন ডিজেল’-এটি কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আরো আট হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। ভারত থেকে আসা এই ডিজেল পদ্মা অয়েল পিএলসির পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছেছে।
গতকাল শনিবার মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) কাজী মো. রবিউল আলম এই তথ্য জানান। তিনি জানান, গত ৭ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়।
গত শুক্রবার মধ্যরাতে পুরো চালান, অর্থাৎ আট হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছে। বর্তমানে আমদানি করা ডিজেল বিতরণ কার্যক্রম চলমান। কাজী মো. রবিউল আলম জানান, ভারত থেকে ডিজেল আমদানি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আগামী ১৭ এপ্রিল আরো পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির জন্য পাম্পিং করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পদ্মা অয়েল পিএলসির পার্বতীপুর ডিপোর ডেপুটি ম্যানেজার (অপারেশন) মো. আহসান হাবিব চৌধুরী জানান, শুক্রবার মধ্যরাতে ডিপোতে আট হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের চালান এসেছে। ডিপোতে এখন পর্যাপ্ত ডিজেল মজুদ রয়েছে।
এর আগে ১১ ও ২৩ মার্চ দুই দফায় পাঁচ হাজার করে মোট ১০ হাজার মেট্রিক টন এবং ১ এপ্রিল আরো সাত হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে আসে। সর্বশেষ চালানসহ চার দফায় মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পাইপলাইন প্রকল্প দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আমদানিব্যবস্থা আরো আধুনিক ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত পরিশোধিত ডিজেল বাংলাদেশে আমদানি করা হচ্ছে। ২০২১ সাল থেকে চলছে এই আমদানি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানে ভারত থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম চালানের আট হাজার মেট্রিক টন এর মধ্যেই এসে পৌঁছেছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘বাজেটের আকার ১৮ শতাংশ বাড়ছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই খরচ বাড়ার প্রধান কারণ বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় বৃদ্ধি, সুদের পরিশোধ বাড়া এবং সরকারি কর্মচারীর প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়ন।
এ সিদ্ধান্তগুলো গত শুক্রবার রাতে অনলাইনে অনুষ্ঠিত সরকারের আর্থিক, মুদ্রা ও বিনিময় হার-সংক্রান্ত কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিল এবং বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় বৈঠকে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় সাত হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছিল বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। যা পরে সংশোধিত হয়ে সাত লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নামানো হয়। উন্নয়ন খরচ কমিয়ে ভর্তুকি ও অনুন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো হয়েছিল।
এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী বাজেট প্রায় ১৮ শতাংশ বাড়ছে। অতীতে প্রতিবছর সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাজেট বাড়ানো হতো। গত অর্থবছর এর ব্যতিক্রম ছিল।
গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত অর্থ বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অর্থমন্ত্রী, অর্থ সচিব ও ইআরডি সচিব আইএমএফের বৈঠকে যোগ দিতে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কারণে বৈঠকটি দ্রুত শেষ করা হয়। তারা ফিরে এসে বাজেট প্রণয়ন নিয়ে আবার আলোচনা করবেন।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা সমকালকে জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাথমিক বাজেটের আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতির ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতি এতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন। তারা জানান, সরকার আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
‘উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সীমাবদ্ধতা’
গত শুক্রবার সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং বহুমাত্রিক চাপ মোকাবিলার মধ্য দিয়ে আমরা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি। তিনি আরও বলেন, নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট ঘিরে জনগণের ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। একই সঙ্গে আমরা আশা করি, অতীত থেকে পাওয়া নানা সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও জনগণ বিবেচনায় নেবেন। তাঁর মতে, সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রবৃদ্ধি নয়, বরং একটি টেকসই, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।
ইত্তেফাক
‘ঘাটতি মেটাতে ঋণ-নির্ভরতা বাড়ছে আগামী বাজেটে’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থবিভাগ বাজেটের সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করেছে ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ উন্নীতকরণ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। এবার বাজেট বাস্তবায়নে ঘাটতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। ঘাটতি অর্থায়নে ঋণ-নির্ভরতা বড়ানোর হবে। অর্থমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে—বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন।
এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং চলমান বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান তৈরি করার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চারটি নতুন কর্মসূচি-ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড এবং খালকাটা কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ঐ বৈঠকের পরই অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নিতে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। এবারের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেলের সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
ঘাটতি মেটাতে বাড়বে ঋণ: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের আদায় করার কথা ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উত্স থেকে আদায় ধরা হয়েছে আরো ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আয় ১ লাখ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঘাটতি বাজেটের বড় অংশ দেশি-বিদেশি উত্স থেকে ঋণ করে মেটানো হবে।
চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের কাছাকাছি উন্নীত হতে পারে। পরিমাণের দিক থেকে ঋণের অংশ দাঁড়াতে পারে প্রায় পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকায়।
নির্বাচনের আগে নতুন সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণের সুদ মওকুফ, খাল খনন, গাছ লাগানো ইত্যাদি কাজ শুরু করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ১৩ হাজার কোটি লাগবে বলে ইতিমধ্যে অর্থ বিভাগকে জানিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এদিকে চলতি অর্থবছরে সুদ পরিশোধ খাতে মোট ব্যয় ধরা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা আরো কিছুটা বাড়বে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর অংশবিশেষ বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। অর্থ বিভাগ নতুন বেতনকাঠামোর একটা অংশ বাস্তবায়ন করতে আগামী অর্থবছরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার চিন্তা করছে। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এটা বাড়িয়ে আড়াই লাখ কোটি টাকায় উন্নীত করা হতে পারে আগামী বাজেটে। এ জন্য বাড়তি বরাদ্দ লাগবে ২০ হাজার কোটি টাকা।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘আগামী অর্থবছরে কর ছাড়ে ব্যাপক কাটছাঁটের উদ্যোগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজস্ব আয় বাড়াতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে কর ছাড়ের পরিমাণ ব্যাপক কাটছাঁট করতে যাচ্ছে সরকার। এই করছাড় কমিয়ে অতিরিক্ত কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে চায় সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন খাতে এক অর্থবছরেই এক লাখ ৭ হাজার ১৩২ কোটি টাকা কার ছাড় দিয়েছে। আগামী অর্থবছরে (২০২৬-২০২৭) এটি কমিয়ে ৯৭ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, প্রতি বছর বিভিন্ন খাতে কী পরিমাণ কর ছাড় দেয়া হয় তা খতিয়ে দেখতে দির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এই ছাড় আদৌ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না তা দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে এনবিআরের শুল্ক, কাস্টমস ও আয়কর খাতে তিনটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। উপদেষ্টা জানিয়েছেন, কর পরিহার, কর অব্যাহতি বা কর জালিয়াতির যে সংস্কৃতি ছিল তা থেকে বেরিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থায় যেতে কাজ করবে এ টাস্কফোর্স।
এই টাস্কফোর্স আগামী অর্থবছরে কর ছাড় কমিয়ে কত টাকা আয় করা সম্ভব তারও একটি চিত্র তুলে ধরবে।
এ বিষয়ে এনবিআর এক সূত্র জানিয়েছেন, প্রতি বছর আয়কর খাতে নানা ধরনের কর ছাড় দেয়া হয়। যদিও এই কর ছাড় নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। অভিযোগ আছে, প্রভাবশালীরা এসব কর ছাড়ের সুবিধা পান। ফলে সরকার বঞ্চিত হয় প্রকৃত করপ্রাপ্তি থেকে। আবার কর ছাড় দেয়ার ফলে তৈরী পোশাকসহ কিছু শিল্প খাত এগিয়ে গেলেও এখন আর এসব খাতে ছাড়ের প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি জানান, রেমিট্যান্স খাতে বেশ কয়েক বছর ধরে আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। এখন এটি কিছুটা কমানো যায় কিনা তা ভেবে দেখা হবে। একই সাথে কৃষি ও মৎস্য খাতে করছাড়েরও ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়েছে। এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে আগামী অর্থবছরে কর ছাড়ের পরিমাণ কমিয়ে আনা হবে। আশা করা যাচ্ছে করছাড় কমিয়ে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় করা সম্ভব হতে পারে।
উল্লেখ্য, কর ছাড় হচ্ছে, সরকার যখন বিশেষ কোনো সামাজিক বা অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্ধারিত হারের চেয়ে কম কর আদায় করে বা কোনো খাতকে করমুক্ত সুবিধা দেয়, তাকে কর ছাড় বা কর এক্সজামশন বলা হয়। এটি মূলত এক ধরনের পরোক্ষ সরকারি ভর্তুকি হিসেবে কাজ করে, যা শেষমেশ জনগণকেই বহন করতে হয়।
১৮ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের অন্যতম সর্বনি¤œ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই অনুপাত ছিল ৭.৩০ শতাংশ, যা পরবর্তী অর্থবছরে আরো কমে ৬.৭৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এখন এটি হয়তো আরো হ্রাস পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার গড় কর-জিডিপি অনুপাত যেখানে প্রায় ১২ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। একটি উন্নয়নশীল দেশের টেকসই অর্থনীতির জন্য এই অনুপাত অন্তত ১৫ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন। সরকারও জানিয়েছে ২০৩০ সাল নাগাদ এটিকে ১৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাদ হওয়ায় হতাশ এনসিপি’। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না হওয়ায় হতাশ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া দলটির নেতারা বলছেন, সংসদীয় কার্যক্রমে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও সামগ্রিকভাবে ‘পুরোনো পথে’ ফিরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব নেওয়া বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এনসিপির নেতারা বলছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও অধিকারভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত করা হবে। বিশেষ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় মৌলিক পরিবর্তন আসবে এবং নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জবাবদিহির বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হয়নি। স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য জারি করা সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলে বিল পাস করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগে আগের মতো সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হলো।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, রাষ্ট্রকে বিনির্মাণ করার একটা সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন আবার আগের ‘স্টাইলে’ ফিরে যাওয়ার পুরো পথটাই যেন পরিষ্কার হয়ে গেল। যদি রাষ্ট্র আগের মতো দলীয়করণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামোর দিকে ফিরে যায়, তাহলে সেটি জনগণের প্রত্যাশার বিপরীত হবে। তাঁর মতে, এটি মূলত জনরায়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ একটি সূচনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল, সংসদের ভেতরে আলোচনা, যুক্তি ও বিতর্কের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে দাবি আদায়ের যে সংস্কৃতি, সেটি কমে আসবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
বিল পাস নিয়ে ইতিমধ্যে সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটেছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশসহ ৯৮টি হুবহু বিল আকারে পাসের বিষয়ে একমত হয়েছিল সরকারি ও বিরোধী দল। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল পাসের জন্য গত শুক্রবার সংসদে উত্থাপন হলে তিনটি সংশোধনী দেন সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য, যা গ্রহণ করে বিলটি পাস করা হয়। এ নিয়ে অধিবেশনে উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরকারি দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐকমত্য ভঙ্গের অভিযোগও তোলেন।
দেশ রূপান্তর
‘নতুন আবরণে হবে পাবলিক পরীক্ষা’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাবলিক পরীক্ষায় খারাপ ফলের পর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের সুযোগ রয়েছে। প্রতিবছর সেই সুযোগে হাজারো শিক্ষার্থী আবেদন করে এবং অনেকের ফল পরিবর্তনও হয়ে থাকে। তবে আগামীতে পুনঃনিরীক্ষণের বদলে যুক্ত হতে যাচ্ছে পুনর্মূল্যায়ন। ফল চ্যালেঞ্জ করে শিক্ষার্থীরা যে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করে তেমন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খাতা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ চালু হতে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ফেল করা শিক্ষার্থীরা দুইবারের বেশি পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে না। এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষকরা উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছেন কি না, তা নজরদারি করতে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে মূল্যায়িত উত্তরপত্র নিরীক্ষণও করা হবে এবং পরীক্ষার কক্ষগুলো থাকবে সিসি ক্যামেরার আওতাধীন।
আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। আসন্ন এই পরীক্ষা নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁস যাতে না হয় এবং সুষ্ঠুভাবে যাতে সম্পাদিত হতে পারে সেজন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব নানা উদ্যোগের মধ্যে একটি বিষয় সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে আর তা হলো পাবলিক পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের বদলে পুনর্মূল্যায়ন। মূলত পরীক্ষার্থীরা যাতে বঞ্চিত না হয় এবং তাদের উত্তরপত্র যাতে সঠিকভাবে মূল্যায়িত হয় সেই ধারণা থেকেই উঠে এসেছে পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টি। আর তা করতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট সংশোধনের কথাও বলছেন।
গত শুক্রবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আয়োজনে এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে কেন্দ্র সচিবদের উপস্থিতিতে এক মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় ফল প্রকাশের পর পুনর্মূল্যায়ন চালু করতে পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০ সংশোধন করা হবে। অনেক সময় যথাযথ উত্তর দিলেও পরীক্ষক কম নম্বর দিলে আইনের কারণে সেখানে পুনঃনিরীক্ষণের সময় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। এতে শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাবলিক পরীক্ষায় যাতে আর কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য আইন সংশোধনের মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে পরীক্ষকরা যাতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে গিয়ে কম নম্বর কিংবা বেশি নম্বর না দেন, সেজন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি টিম কাজ করবে। এই টিম দৈবচয়ন ভিত্তিতে বিভিন্ন বোর্ডের উত্তরপত্র নিরীক্ষণ করে পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আমরা চাই শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের যথাযথ মূল্যায়ন।
সহযোগীদের খবর
দক্ষিণ এশিয়ায় ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে সবার পেছনে বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
২ মাস আগে
১২ এপ্রিল (রবিবার), ২০২৬, ৯ঃ৩০ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

Lima
২ মাস আগেশিক্ষক দের অর্থনৈতিক সুবিধা না দিয়ে দক্ষ বানাবেন কি করে? সবার সুবিধা আছে শুধু শিক্ষক কিছু দাবি করলেই এরা খারাপ।