দুঃসংবাদ দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানালেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় ২১ ঘণ্টার ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি। রবিবার ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেছি এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। এটাই ভালো খবর। কিন্তু খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ স্পষ্ট করে জানিয়েছে। কোন বিষয়ে তারা ছাড় দিতে প্রস্তুত এবং কোন বিষয়ে নয়। কিন্তু ইরান তাদের শর্ত মেনে নেয়নি। ভ্যান্স বলেন, আমি সব বিস্তারিত প্রকাশ করবো না। তবে মূল বিষয় হলো- আমরা এমন একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাই যে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং সেই সক্ষমতা অর্জনের পথেও যাবে না। তিনি যোগ করেন, এটাই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সেটিই অর্জনের চেষ্টা করেছি।
ভ্যান্স দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো- দীর্ঘমেয়াদে ইরান কি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে? তিনি বলেন, এখনও আমরা সেই নিশ্চয়তা পাইনি। তবে আশা করছি ভবিষ্যতে পাব। ভ্যান্স জানান, আলোচনায় ইরানের জব্দকৃত অর্থ নিয়েও কথা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। তিনি বলেন, আমরা যথেষ্ট নমনীয় ছিলাম এবং সমঝোতার চেষ্টা করেছি। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আমাদের বলেছিলেন- সদিচ্ছা নিয়ে এসে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে। আমরা তা করেছি, কিন্তু অগ্রগতি হয়নি।
ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা ‘অসাধারণ স্বাগতিক’ ছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আলোচনার ব্যর্থতার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়- ‘তারা আমাদের এবং ইরানকে কাছাকাছি আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক্সে জানান, ইসলামাবাদে ‘ব্যস্ত ও দীর্ঘ’ দিন কেটেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে বহু বার্তা ও প্রস্তাব আদান-প্রদান হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনায় হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক ইস্যু, যুদ্ধে ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান- এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাঘাই আরও বলেন, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সফলতা নির্ভর করছে ‘প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা, অতিরিক্ত ও অবৈধ দাবি থেকে বিরত থাকা এবং ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকৃতির ওপর।’
এই আলোচনা শুরু হয় শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জে ডি ভ্যান্স, সঙ্গে ছিলেন জারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ। ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ, সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়, যা ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কার্যকর হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, তাদের প্রতিনিধি দল দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ এবং সাহসিকতার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে ফলাফল যা-ই হোক না কেন।

Mohammad Yousuf
২ মাস আগেInfact US Team came at the Islamabad to play a Drama|as per directives of D. Trump. They had no good intention. Iranian Team earlier told they had no trust upon Trump and US delegates who came to sign a peace deal and final ceasefire. It is very sorrowful and repentable that the dictator Trump has made the entire globe "restless" by his unethical and illogical war with Iran. Export-import and world trade have been facing challenges. Dollar crisis, shortage of petrochemicals etc. are intense. Oil prices have already soared and prices of other essential products will go up more. Consequently, human life especially life of lower and middle classes will be miserable more across the world. Trump is responsible for all this. We curse him to plunge humanity into darkness. May Allah save this globe from this monster.