সিরাজগঞ্জে একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ১৭ শিশু

ফন্ট সাইজ:

সিরাজগঞ্জে একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে জেলার পাঁচটি সরকারি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে ১৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৩০ জন শিশু এখন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭০ জন শিশু।
গতকাল বিকালে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির মানবজমিনকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এর আগে ৮৩ জন ভর্তি হলেও ৭০ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে। এখন শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ৩ জন, রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ২ জন, উল্লাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে ২ জন ও এনায়েতপুর খাজা ইউনূস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বেশির ভাগ শিশু প্রত্যন্ত গ্রামের। তারা আক্রান্ত শিশুদের কখনো হামের টিকা দেয়নি।
শিশুদের স্বজনরা জানান, হঠাৎ তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা দানা এবং প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়ার পর তারা সন্তানদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বিশেষ করে চরাঞ্চল থেকে আসা ফিরোজা খাতুন নামে এক শিশুর মা জানান, প্রথমে তার সন্তানের শুধু জ্বর ছিল, কিন্তু পরে সারা শরীরে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসায় কোনো উন্নতি না হওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে বর্তমানে তার সন্তান কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছেন। এ ছাড়া শিশুদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবার দেয়ার পাশাপাশি অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে যাতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে না পড়ে।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. নূরুল আমীন মানবজমিনকে বলেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হামের টিকা দেয়া থাকলে এই রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। বর্তমান জেলায় আক্রান্ত শিশুদের অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও নতুন করে আরও কোনো শিশু উপসর্গ নিয়ে আসে কিনা, সেদিকে সার্বক্ষণিক লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন