ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার পদে বিবেচনাধীন মুসলিম প্রতিনিধি!

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বদলি করা হয়েছে বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত হিসেবে। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে এ ব্যাপারে জারি করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। তবে প্রণয় ভার্মার জায়গায় পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে কাকে নিয়োগ দেয়া হবে- যা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এক সময় বাংলাদেশে ভারতের সাবেক উপ-হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তীকে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে ভাবা হয়েছিল। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সন্দীপ ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঢাকায় উপ-হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

তবে কিছুদিন হলো, সেই ভাবনার পরিবর্তন করে পেশাদার কূটনীতিকের বাইরে কাউকে নিয়োগ করার ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে। সাধারণভাবে ওয়াশিংটন ও লন্ডন ছাড়া অন্য কোনো ভারতীয় দূতাবাসে রাজনৈতিক নিয়োগ দেয়ার নজির নেই। এবার সেই নজির তৈরি হতে চলেছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। দিল্লিতে এ ব্যপারে জোর আলোচনা চলছে।
ভারতের মিডিয়াতে এ ব্যাপারে নানা নাম নিয়ে চর্চা চলছে। গত বছরের সম্পর্কের শীতলতা কাটিয়ে ভারতের তরফে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একজন রাজনীতিবিদকে ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার করা হবে- পররাষ্ট্র নীতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। বিবিসি’র মতে, ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুরা চরম নির্যাতিত বলে বাংলাদেশে অনেকেই যে কথা বলে থাকেন, সেই ন্যারেটিভ মোকাবিলার একটা চেষ্টা দিল্লির তরফে দেখা যাচ্ছে।

জানা গেছে, বিজেপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশে এই মুহূর্তে কোনো পেশাদার কূটনীতিক পাঠাতে আগ্রহী নন। এই আবহে দু’টি নাম নিয়ে আলোচনা চলছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। একজন হলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ আরিফ মহম্মদ খান। অন্যজন হলেন, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ এম জে আকবর। দু’জনই এক সময়ে কেন্দ্রে মন্ত্রী ছিলেন। শাহবানু মামলার বিতর্কের জেরে তিনি রাজীব গান্ধীর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। পরে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে বিজেপি’র শীর্ষ নেতাদের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির খুবই পছন্দের মানুষ তিনি। বিহার ও কেরলের রাজ্যপালও ছিলেন তিনি। অন্যদিকে, সাংবাদিক এম জে আকবর বিজেপি মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমস্ত্রী ছিলেন। ১৯৮৯ সালে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। বাংলাদেশের সঙ্গে আকবরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও রয়েছে। তাছাড়া ইংরেজি, হিন্দি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাতেও তিনি খুবই স্বচ্ছন্দ।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি’র পাশাপাশি জামায়াতের সঙ্গে অবিরাম সংলাপ চালিয়ে যাওয়া খুবই জরুরি। এই অবস্থায় পেশাদার কূটনীতিবিদদের প্রথাগত পদ্ধতি খুব একটা কাজে আসবে না বলেই তারা মনে করেন। আর তাই ঢাকায় পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে রাজনীতির নিয়োগ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন