আর্তমানবতার সেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বারকোনা প্রতিভা স্বাবলম্বী সংস্থা’। গতকাল দিনব্যাপী উপজেলার বারকোনা বাজার এলাকায় সংস্থার কার্যালয়ে এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পের মাধ্যমে এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক অসহায় ও দুস্থ মানুষ বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল কবীর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইব্রাহীম হোসেন মণ্ডল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বারকোনা প্রতিভা স্বাবলম্বী সংস্থার সভাপতি ও শিকড় হাউজিংয়ের চেয়ারম্যান আলহাজ শহীদুজ্জামান খন্দকার। উদ্বোধনী বক্তব্যে আশরাফুল কবীর বলেন, একটি সুস্থ জাতি গঠনে স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব অপরিসীম। সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি যখন বেসরকারি বা সামাজিক সংগঠনগুলো এভাবে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়, তখন তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
বারকোনা প্রতিভা স্বাবলম্বী সংস্থা যে উদ্যোগ নিয়েছে- তাতে এই দুর্গম এলাকার পাঁচ শতাধিক মানুষ উপকৃত হলো। বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা গ্রামপর্যায়ে নিয়ে আসা একটি কঠিন কাজ। আমি আশা করি, এই সংস্থার মতো অন্যান্য সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সংগঠনও সাধারণ মানুষের কল্যাণে এভাবে এগিয়ে আসবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের সকল মানবিক কাজে আমাদের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে। সমাপনী ও সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ শহীদুজ্জামান খন্দকার বলেন, বারকোনা প্রতিভা স্বাবলম্বী সংস্থা কেবল একটি নাম নয়, এটি এই এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক। আমরা চাই আমাদের এলাকার কোনো মানুষ যেন অর্থের অভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত না থাকে। শিকড় হাউজিং এবং এই সংস্থার মূল লক্ষ্যই হলো মানুষের সেবা করা। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা থাকলে আমরা বারকোনাসহ পুরো সাঘাটা উপজেলার মানুষের কল্যাণে আজীবন কাজ করে যেতে চাই। দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করেন বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আজিজুল হাকিম বাপ্পা এবং বগুড়া ডায়াবেটিক হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাঈম আহমেদ। স্থানীয়রা জানান, বাড়ির কাছে এমন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সেবা পেয়ে তারা অত্যন্ত খুশি। সংস্থার এই মানবিক কার্যক্রম যেন আগামীতেও অব্যাহত থাকে, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
