নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত পদের অর্ধেক চিকিৎসকই নেই কর্মস্থলে, যারা আছেন তাদের মধ্যেও চারজন দীর্ঘদিন ধরে অন্যত্র ডেপুটেশনে। একজন আবার দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। ফলে চিকিৎসক সংকট যেন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ রয়েছে, আধুনিক যন্ত্রপাতি অকেজো পড়ে আছে। এতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে অনুমোদিত ৪১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ২০ জন। তাদের মধ্যেও ৪ জন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেপুটেশনে রয়েছেন এবং একজন চিকিৎসক বছরের পর বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত।
উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের ৮টি পদের মধ্যে আছেন ৪ জন। ৩৭ জন নার্সের মধ্যে কর্মরত ৩৪ জন। স্বাস্থ্য সহকারীর ৫০টি পদের বিপরীতে আছেন ২৭ জন। একটি মাত্র সরকারি এম্বুলেন্স থাকলেও চালক নেই। ডেপুটেশনে থাকা চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন ডা. এ. কে. এম আব্দুল্লাহ আল মামুন (কার্ডিওলজি), যিনি ২০২৩ সাল থেকে নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে কর্মরত; ডা. মো. আব্দুল হান্নান (চক্ষু), ২০১৭ সাল থেকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে; ডা. মোহাম্মদ নঈম ইকবাল মোল্লা (শিশু), ২০২৪ সাল থেকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ডা. জেন্টি মজুমদার (সহকারী সার্জন), ২০২৪ সাল থেকে শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেপুটেশনে আছেন। এ ছাড়া আইএমও ডা. সজীব পাল চৌধুরী ২০১৯ সাল থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এ ছাড়া হাসপাতালটিতে ৫০০ এমএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি এক্স-রে মেশিন থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে রেডিওগ্রাফার না থাকায় সেটি অকেজো পড়ে আছে।
ফলে রোগীদের বাইরে গিয়ে কয়েকগুণ বেশি খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও অজ্ঞানকারী চিকিৎসক ও গাইনি বিশেষজ্ঞ একসঙ্গে না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সেবা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমিতসংখ্যক চিকিৎসকের মধ্যেও কেউ কেউ ডেপুটেশনে চলে যাওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। গত ৩রা মার্চ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে পাশের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর ভিড় দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের চেয়ে রোগী বেশি আপনাদের চেম্বারে কি যে জাদু করেছেন আপনারা। পরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত সেবা না পাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আল মামুন বলেন, চিকিৎসক সংকট ও ডেপুটেশনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শূন্য পদ পূরণ এবং ডেপুটেশনে থাকা চিকিৎসকদের ফিরিয়ে আনা গেলে সেবার মান অনেকটাই উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
