রংপুরে যুবক রাকিব হাসান (২০)কে কুপিয়ে হত্যার জেরে বাড়ি ও দোকানপাটে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে রংপুর জুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শুক্রবার রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ার ২টি বাড়ি ও ১০টি দোকানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। এনিয়ে এলাকাবাসী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) হাবিবুর রহমানসহ পুলিশ কর্মকর্তারা। এ সময় নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তায় প্রশাসন মাঠে রয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করেন তারা। মাছুয়াপাড়ার রুহুল আমিন, বিনোদিনী দাস, সুবর্ণা দাসসহ অন্যরা বলেন, রাতে একদল সন্ত্রাসীরা আমাদের ঘরবাড়ি, দোকানপাটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
আমরা সবাই ভীত হয়ে পড়েছিলাম। অনেকে জীবন রক্ষার্থে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। আমাদের ঘরবাড়ি দোকানপাটের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তিসহ জীবনের নিরাপত্তা চাই। উপ-পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, রাকিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের ডিবি, সিটিএসবি তথ্য সংগ্রহ করছে। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ব শত্রুতা, মাদক ব্যবসা নাকি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার রয়েছে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। উল্লেখ্য, গত ৯ই এপ্রিল বিকালে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় আব্দুস সামাদের ছেলে রাকিব হাসানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. মমিনসহ (৪২) ৭ জনের নামে এবং ৩ জন অজ্ঞাতকে আসামি করে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের আগের দিন মমিনের সঙ্গে রাকিব হাসানের হাতাহাতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে রাকিবের পা ভেঙে দেয় মমিন। এ ঘটনায় রাকিবের বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে মমিনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।
