প্রথম আলো
‘কার্যকারিতা হারাল গণভোট অধ্যাদেশ’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধে করা অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন গঠনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশসহ ১৩টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন বা অননুমোদন কোনোটাই করেনি জাতীয় সংসদ। ফলে এই অধ্যাদেশগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে এই ১৩ অধ্যাদেশও ছিল। অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের শেষ সময় ছিল গতকাল শুক্রবার। এ সময়ের মধ্যে এগুলো অনুমোদন বা অননুমোদনে কোনো বিল সংসদে আনা হয়নি।
সংসদ না থাকা অবস্থায় জারি করা অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করতে হয়। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে তা হয় পাস করতে হয়, নইলে প্রয়োজনে হেফাজতকরণব্যবস্থা রেখে রহিতকরণ বিল আনতে হয়। হেফাজতকরণ হলো অধ্যাদেশের অধীনে নেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখা। সংসদে পাস অথবা রহিত করা না হলে অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন, অর্থাৎ গত ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। যদিও বিএনপির সংসদ সদস্যরা গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেখানে আদেশটি এবং জুলাই সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাব নিয়ে গণভোট আয়োজনের কথা বলা হয়। এরপর গণভোট আয়োজনে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ জারি হয়। বিএনপি বলে আসছিল সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, সংবিধান সংশোধনের আদেশ নয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ৩১ মার্চ সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-কে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অন্তহীন প্রতারণার দলিল’ ও ‘জাতীয় প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই আদেশের কোনো আইনি বৈধতা নেই এবং এটি সূচনা থেকেই অবৈধ।
এখন গণভোট অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারানোর ফলে গণভোট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। যদিও বিরোধী দল বলে আসছিল, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারির ভিত্তি জুলাই গণ–অভ্যুত্থান এবং জনগণের গাঠনিক ক্ষমতা।
এদিকে গতকাল সংসদে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসংক্রান্ত ৩টি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত ৩টি এবং সংসদ সচিবালয়সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ (মোট ৭টি অধ্যাদেশ) রহিতকরণ বিল পাসের মাধ্যমে বাতিল করা হয়। সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে। আর সব মিলিয়ে ১১৩টি অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে সংসদ। রহিতকরণসহ অধ্যাদেশ সম্পর্কিত ৯১টি বিল পাস করা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে সংসদের অনুমোদন না পাওয়ায় যে অধ্যাদেশগুলো কার্যকারিতা হারিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে আছে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ২টি অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত ২ অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ।
বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে পাস করার সুপারিশ ছিল। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত এই অধ্যাদেশ পাস করার জন্য বিল আনা হয়নি।
শেষ দিনে ২৪ বিল
অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের শেষ দিন ছিল গতকাল শুক্রবার। এ কারণে সরকারি ছুটির দিনের সকাল–বিকেল দুই বেলা সংসদের বৈঠক বসে। গতকাল শেষ দিনে ২৪টি বিল পাস হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, বাংলাদেশ বনশিল্প করপোরেশন বিল, বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) বিল, আমানত সুরক্ষা বিল, দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (সংশোধন) বিল, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ব্যাংক রেজোল্যুশন বিল, অর্থ (২০২৫-২৬ অর্থবছর) বিল, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, বিশ্ববিদ্যালয়সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল, সাইবার সুরক্ষা বিল, মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংরক্ষণ) বিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আসছে উচ্চাভিলাষী বাজেট’। খবরে বলা হয়, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও চলমান বৈশ্বিক সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরের জন্য একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অর্থবিভাগ বাজেটের সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করেছে ৯ লাখ ২০ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেটের রেকর্ড হতে যাচ্ছে।
আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার রাতে জুম প্ল্যাটফর্মে অর্থমন্ত্রী বাজেট মনিটরিং ও কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এর পরই তিনি বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নিতে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
অর্থমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে-বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং চলমান বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান তৈরি করা। বিশেষ করে চারটি নতুন কর্মসূচি-ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড এবং খালকাটা কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেলের সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বৈশ্বিক সংকট ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকার পরও অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। কারণ নির্বাচনি ইশতেহার পূরণ এবং পে-স্কেলের সুপারিশ বাস্তবায়নে বিপুল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হবে।
এদিকে, সংশোধিত বাজেটে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে আসবে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা বলেছেন, এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। আগামী অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৬ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা করা হতে পারে। যদিও সংশোধিত বাজেটে ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ৩.৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল, দুর্বল রাজস্ব আদায় এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে। আগামী অর্থবছরের ঘাটতি জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া সংশোধিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বিএনপি সরকার তাদের প্রথম বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬.৫ শতাংশ উন্নীতকরণ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে এনে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখাই মূল লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ যুগান্তরকে বলেন, জ্বালানি সংকট মূল্যস্ফীতির একটি ‘ট্রিগার ফ্যাক্টর’ হিসাবে কাজ করে। জ্বালানি খরচ বাড়লে শিল্প উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। এতে উৎপাদকরা বাধ্য হয়ে পণ্যের দাম বাড়ান। একই সঙ্গে পরিবহণ খরচ বাড়ার কারণে সরবরাহ চেইনেও চাপ পড়ে। এ কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে বাজেটে।
কালের কণ্ঠ
‘গবেষণার টাকা নয়ছয়’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৭০টির ওপরে। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই গবেষণা খুব সীমিত। অথচ গবেষণা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টিই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল কাজ। তাই উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বড় প্রকল্প ‘হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’।
কিন্তু চার হাজার কোটি টাকার এই গবেষণা প্রকল্পে অভিযোগের অন্ত নেই। গবেষণার দিকে নজর না দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ লোপাট ও এর ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও হিট প্রকল্পের কয়েকজন কর্মকর্তা। বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এরই মধ্যে এ প্রকল্পে অসন্তুষ্টির কথা জানানো হয়েছে। ফলে বিপুল অঙ্কের ঋণের বোঝার এ প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হওয়ার পথে।
সূত্র জানায়, ইউজিসি বাস্তবায়নাধীন ‘হিট’ প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের অর্থের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের কাজ ২০২৩ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়। হিট প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে চার হাজার ১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫০.৯৬ শতাংশ অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ৪৯.৪ শতাংশ অর্থ দেবে বিশ্বব্যাংক।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য আসে। বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘হিট প্রকল্প নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করেছে। তারা বিষয়টি নিয়ে নাখোশ।’ এরপর প্রকল্পটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কিছুটা চাপের মধ্যেও পড়ে ইউজিসি।
এরপর গত ১ এপ্রিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ইউজিসি জানায়, হিট প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সন্তোষজনক। এই প্রকল্পের সামগ্রিক বাস্তবায়ন অগ্রগতি ‘মাঝারিমানের সন্তোষজনক’ (মডারেটলি সেটিসফ্যাক্টরি) বলে মূল্যায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রকল্পের সর্বশেষ বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। অর্থাৎ বিশ্বব্যাংকের সন্তুষ্টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে।
হিট প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসলে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয়। বলা হচ্ছে শত শত কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। অথচ রিসার্চ ফান্ডের জন্য এখন পর্যন্ত মাত্র ১১৬ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। আরেকটি ফান্ড ছাড়ার প্রক্রিয়া চলছে। আসলে এই প্রকল্পটির ডিপিপি আগে করা। কিন্তু সেই ডিপিপি অনুযায়ীই আমাদের কাজ করতে হচ্ছে, যা একটি বড় জটিলতা। সেগুলো সমন্বয় করেই আমাদের এগোতে হচ্ছে।’
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘সময়মতো যক্ষ্মার টিকাও মেলেনি, নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শঙ্কা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই দেশে এবার যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) এসে যক্ষ্মা রোগী শনাক্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। শনাক্তের হার কম হওয়ার অর্থ বিস্তারের ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে এরই মধ্যে ওষুধ ও কিটের মজুত শেষ হয়েছে। নতুন কেনাকাটাতেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যক্ষ্মা বিস্তারের শঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত মাসে করা স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্য বলছে, সরকারের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনটিপি) ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে জাতীয় কেস নোটিফিকেশন রেট (সিএনআর) নেমে এসেছে ১৬৯-এ, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২৪ সালের একই সময়ে এ হার ছিল ১৯৬ এবং ২০২৩ সালে ২০১। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শনাক্তকরণ কমে যাওয়া মানে রোগ কমে যাওয়া নয়; বরং এটি সেবা ও নজরদারিতে ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ১২১ জনের যক্ষ্মা হয়।
অর্থায়ন ও জনবল সংকটের প্রভাব
স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির (সেক্টর কর্মসূচি নামে পরিচিত) অধীন অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) আওতায় প্রায় তিন দশক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে এই কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়। গত বছর নতুন করে ডিপিপি জমা দিলেও অনুমোদন হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় বন্ধ রয়েছে ওষুধ ও টিকার কেনাকাটা। এতে মাঠ পর্যায়ের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে মার্কিন সহায়তা সংস্থা ইউএসএইড ও গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেছে। এককভাবে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে নতুন করে কোনো অর্থায়ন করবে না এই দুটি প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত জুনে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) করা হয়, যা এখনও অনুমোদন হয়নি।
গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবটিতে কিছু সংশোধনী দিয়ে ফের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত অর্থায়ন ও প্রশাসনিক অনুমোদন না হলে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে বড় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কর্মকর্তারা জানান, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালিত হতো রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন ও বৈদেশিক ফান্ডে। ২০২৪ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে জটিলতা এবং বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার পাশাপাশি জনবল ঘাটতির কারণে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে রোগী শনাক্তকরণেও ভাটা পড়েছে। এর ফলে উচ্চ হারে যক্ষ্মা ছড়াবে।
বিভাগভিত্তিক একই চিত্র
সব বিভাগেই রোগী শনাক্তের হার কমেছে। রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে যেখানে প্রতি লাখে শনাক্ত ছিল ২০০ জন, চতুর্থ প্রান্তিকে তা নেমে এসেছে ১৪৯-এ। অন্যদিকে সিলেট বিভাগ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও সেখানেও হার কমেছে— তৃতীয় প্রান্তিকে ২১৫ থেকে চতুর্থ প্রান্তিকে ২০১ জনে নেমে এসেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, দেশে প্রতি লাখে প্রায় ১২১ জন যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়। বছরে এ রোগে আক্রান্ত হয় প্রায় তিন লাখ ৭৫ হাজার মানুষ। প্রতিদিন গড়ে শনাক্ত হয় এক হাজার ৩৪ জন রোগী এবং বছরে প্রায় ৪২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় অর্থাৎ প্রতিদিন মারা যায় প্রায় ১২১ জন।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৬০ শতাংশই ফুসফুসের যক্ষ্মায় আক্রান্ত। ব্যাকটেরিয়াল পরীক্ষায় তা নিশ্চিত। এ ছাড়া ২৫ শতাংশ ফুসফুসের বাইরে এবং ১৫ শতাংশ রোগী ক্লিনিক্যালি নির্ণীত।
ইত্তেফাক
‘অর্থনীতির সব সূচকই চাপে, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, রিজার্ভে টান’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছর এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ‘বাস্তব চিত্র’ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বললেন, বিএনপির নতুন সরকার এমন একসময়ে দায়িত্ব নিয়েছে, যখন অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই চাপে। কমেছে প্রবৃদ্ধি। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। সামগ্রিকভাবে টান পড়েছে রিজার্ভেও। জনগণের আস্থা পুনর্গঠন বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী অর্থনীতির ‘প্রকৃত চিত্র’ তুলে ধরেন। সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে দিনের কার্যসূচিতে যাওয়ার শুরুতেই তিনি এই বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে বিগত ১৬ বছরের অর্থনীতির ক্ষতগুলো চিত্রায়িত করার পাশাপাশি বিএনপির আগের শাসনামলের ‘সাফল্য’ তুলে ধরে তুলনামূলক চিত্রও বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রতিশ্রুত দর্শন ও নীতি-কৌশলও তুলে ধরেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করানোর পাশাপাশি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতকে অকার্যকর করে দিয়েছে
বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকার সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করানোর পাশাপাশি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতকে অকার্যকর করে দিয়েছে। বিগত বিএনপি সরকার অর্থনীতির মূল সূচকগুলো যেখানে ইতিবাচক ধারায় নিয়ে এসে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে গিয়েছিল, বিগত ১৬ বছরে তা অনেকটাই ধূলিসাত্ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে হুন্ডি প্রবাহ এবং অর্থ পাচারের কারণে রিজার্ভের পরিমাণ কমে ২০ বিলিয়নে নেমে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে এবং রেমিট্যান্স বা প্রবাস আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো গভীর ও বহুমাত্রিক
মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো গভীর ও বহুমাত্রিক। আশার বাণী শুনিয়ে বললেন, সুশাসন, সংস্কার ও জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।
বক্তব্যের শুরুতে আমির খসরু বলেন, সর্বশেষ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল মেয়াদে আমরা এ দায়িত্ব পালন করেছি। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে এবং জনগণকে সাথে নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করে। এ দায়বদ্ধতা থেকে আমি আজ এই সংসদের মাধ্যমে আমাদের সর্বশেষ অর্থবছর ২০০৫-০৬, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক, সামাজিক খাতের সূচক এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থার একটা চিত্র দেশবাসীকে অবহিত করতে পারি। পাশাপাশি জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে একটি উন্নত, মর্যাদাশীল ও বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গঠনে আমাদের প্রতিশ্রুত দর্শন ও নীতি-কৌশলের বিষয়েও দেশবাসীকে অবহিত করতে চাই।
প্রবৃদ্ধি কমেছে, বেড়েছে আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ
সরকারি তথ্য তুলে ধরে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বিবৃতিতে বলেন, বিগত সরকারের আমলে সামষ্টিক অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি পেলেও এর ভেতরে বেশ কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে ওঠে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ছিল তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে, ৭.১৭ শতাংশ। পরবর্তী সময় দুর্বৃত্তায়ন ও ভ্রান্তনীতির কারণে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ শেষে প্রবৃদ্ধির হার কমে ৪.২২ শতাংশ হয়। মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছায়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.৬৬ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৩.৫১ শতাংশে। কৃষিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৭৭ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে ৩.৩০ শতাংশে নেমে আসে। মন্ত্রী বলেন, একটি অর্থনীতি যখন শিল্পের চালিকা শক্তি হারিয়ে ফেলে, তখন কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়। সামগ্রিক উত্পাদনশীলতা হ্রাস পায়। বিগত সময়ে এটি চরমভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘ফ্যাসিবাদী লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে’। খবরে বলা হয়, বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একইসাথে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে, ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কোন অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যৎ পথচলা কী হবে- সে বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা তার উদ্দেশ্য। তিনি জানান, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী এবং জনগণকে সাথে নিয়েই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। এ দায়বদ্ধতা থেকেই ২০০৫-০৬ অর্থবছর, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতি, সামাজিক সূচক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থনীতির আকার বড়, ভিত দুর্বল
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন- অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি পেলেও এর গুণগত ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ, সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪.২২ শতাংশে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত পর্যায় থেকে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
এই পরিসংখ্যানগুলো একটি গভীর সঙ্কেত দেয়-প্রবৃদ্ধি আর উন্নয়ন এক জিনিস নয়। অর্থনীতির ভিত যদি দুর্বল হয়, তাহলে প্রবৃদ্ধির সংখ্যাও স্থায়ী হয় না। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের ওপর থেকে নেমে মাত্র ৩.৫ শতাংশে আসা এবং কৃষি খাতের গতি মন্থর হয়ে পড়া সেই বাস্তবতাকেই তুলে ধরে।
কর্মসংস্থানের ভেতরের সঙ্কট : ‘চাকরি আছে, আয় নেই’
অর্থনীতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো কর্মসংস্থানের গুণগত সঙ্কট। কৃষি খাত মোট জিডিপির মাত্র ১১.৬ শতাংশ যোগ করলেও সেখানে কর্মরত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ, বিপুল জনগোষ্ঠী কম উৎপাদনশীল খাতে আটকে আছে।
শিল্প ও সেবা খাতে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় তরুণরা বাধ্য হয়ে কৃষিতে ফিরে যাচ্ছে। এর ফলে তৈরি হচ্ছে ‘ছদ্ম-বেকারত্ব’- যেখানে মানুষ কাজ করছে, কিন্তু উৎপাদনশীলতা কম, আয় সীমিত এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
বণিক বার্তা
‘চলছে ধারণক্ষমতার চার গুণ, বাড়তি বাসের রুট পারমিট বাতিলের পরিকল্পনা’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ—এ তিন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালকে ঘিরে চাপে রয়েছে ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা। তিনটি টার্মিনালে মোট ধারণক্ষমতা মাত্র ১ হাজার ২৫০টি বাসের হলেও বর্তমানে সেখানে চলাচল করছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বাস চলাচলের কারণে টার্মিনালগুলোয় বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে, এর প্রভাবে যানজট বাড়ছে পুরো নগরে।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিছু পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা করছে নতুন সরকার। যানজট নিরসনের লক্ষ্যে অতিরিক্ত বাসের রুট পারমিট বাতিলেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ বাসগুলোকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে টার্মিনালগুলোর চাপ যেমন কমবে, রাজধানীর সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থায়ও শৃঙ্খলা ফিরবে বলে তারা মনে করছেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাবতলী টার্মিনালের প্রকৃত ধারণক্ষমতা মাত্র ২৫০টি বাসের। অথচ সেখানে চলাচল করছে ৮০০ থেকে ১ হাজার বাস। আন্তঃজেলা এ টার্মিনাল থেকে মূলত উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর এবং পাটুরিয়া, আরিচা ও মাওয়া রুটের বাস চলাচল করে থাকে।
মহাখালী বাস টার্মিনালে ৩৫০টি বাস রাখার জায়গা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেখানে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০টি বাস যাতায়াত করছে। ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলার বাসগুলো ছেড়ে যায় রাজধানীর একেবারে মধ্যখানে অবস্থিত এ টার্মিনাল থেকে। অন্যদিকে সায়েদাবাদ থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের বাস ছেড়ে যায়। রাজধানীর বৃহত্তম এ টার্মিনালে ৬৫০টি বাসের ধারণক্ষমতা। এর বিপরীতে চলাচলরত বাসের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০-এ। সে হিসাবে টার্মিনালগুলোর প্রতিটিতেই বর্তমানে ধারণক্ষমতার চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি বাস চলাচল করছে, যা রাজধানীর পরিবহন শৃঙ্খলায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ।
সম্প্রতি সায়েদাবাদে গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনালের সর্বত্রই এলোমেলোভাবে বাস রাখা। ভেতরে নির্ধারিত কাউন্টার ও সংলগ্ন খোলা জায়গা থাকলেও বাস্তবে তা ব্যবহার করা হয় না। এর পরিবর্তে অধিকাংশ বাস মূল সড়কের ওপর দাঁড় করানো হয়। ফলে যাত্রীদেরও ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি সড়ক থেকেই বাসে উঠতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে যাত্রী সংগ্রহের প্রতিযোগিতায় পরিবহন কর্তৃপক্ষ নিয়ম ভেঙে টার্মিনালের বাইরে একাধিক কাউন্টারও স্থাপন করেছে। সেগুলো থেকে নির্বিঘ্নে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের সরাসরি সড়ক থেকেই তোলা হচ্ছে বাসে। এতে সড়কের একটি বড় অংশ দখল হয়ে পড়ছে, যা বিঘ্ন সৃষ্টি করছে স্বাভাবিক যান চলাচলে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে এ সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে।
ঢাকার বাস টার্মিনালগুলোয় ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বাস চলাচলের বিষয়টি পরিবহন মালিকরাও স্বীকার করছেন। অনেক পরিবহন কোম্পানি টার্মিনালগুলোকে ডিপোর মতো করে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম। এ প্রসঙ্গে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকার বিভিন্ন টার্মিনালে প্রয়োজনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বাস অবস্থান করছে, যা সড়কে যানজট তৈরি করছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত টার্মিনালের বাইরে সড়ক ও আবাসিক এলাকায় বাস পার্কিং করা হচ্ছে, যা নগর জীবনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।’
আজকের পত্রিকা
‘মব দমনের প্রশিক্ষণ নেবে পুলিশের বিশেষ ইউনিট’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়,ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর মাঠপর্যায়ে পুলিশের সিদ্ধান্তহীনতা ও সমন্বয়হীনতার যে চিত্র সামনে এসেছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে পরিকল্পনা নিয়েছে নতুন সরকার। পুলিশকে ‘মব’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার তৎপরতা মোকাবিলায় বিদেশি পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। জঙ্গি দমনে প্রশিক্ষিত ইউনিটগুলোকেই মব নিয়ন্ত্রণ ও দাঙ্গা দমনের কৌশলে দক্ষ করে তোলা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দ্বিধা কাটিয়ে আইনের মধ্যে থেকে কার্যকর বলপ্রয়োগ নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।
’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর টানা তিন দিন মাঠে না থাকা পুলিশ সদস্যরা ধীরে ধীরে কাজে ফেরার পর প্রায় দুই বছর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এখনো অনেক সদস্য বাস্তব পরিস্থিতিতে কোন পর্যায়ে কী মাত্রায় শক্তি প্রয়োগ করতে হবে, এ নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তাঁদের মধ্যে অস্বস্তি ও একধরনের ভয় কাজ করছে। এ সুযোগে বিভিন্ন স্থানে উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠীগুলো এখনো মব সৃষ্টি করে সহিংসতা ছড়াচ্ছে, যদিও সংখ্যা আগের তুলনায় কম। এতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশও সমস্যায় পড়ছে। ফলে প্রচলিত মৌলিক প্রশিক্ষণের বাইরে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতিনির্ভর প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখছে সরকার। এজন্য বেশ কয়েকটি দেশের পুলিশের কর্মপদ্ধতির সঙ্গে মিলিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে সরকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’
আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে প্রায় দুই বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘মব’ হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিছু ঘটনায় পুলিশের সামনেই হামলা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পর্যন্ত হামলার শিকার হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও খুব বড় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি।
তবে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। দায়িত্ব নিয়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, দেশে আর কাউকে মব করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু মানসিকভাবে এখনো চাপে থাকা পুলিশ বাহিনী কীভাবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে, সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের কাছে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ করে ‘মব’ মোকাবিলার কৌশল বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এসব দেশ কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ওয়ান-ইলেভেনের অজানা সত্য উদঘাটনের তাগিদ’। খবরে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের কোনো বিধান নেই। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে যেসব ব্যক্তি ২০০৭-০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তাদের অনেককে রিমান্ডের সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছে, এমন অভিযোগ রয়েছে।
দুদক আইন অনুযায়ী, কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্তের বিষয়ে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি পরবর্তীতে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে না। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বিধান না থাকলে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ে দুর্নীতি দমনের নামে যে নির্যাতন ও কর্মকান্ড হয়েছে, তা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো। তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়তো রোধ করা যেতে পারে। তারা মনে করেন, দুই দশক পরও সেই সময়ের পূর্ণ সত্য আজও অনেকটাই আড়ালে রয়ে গেছে। এ বিষয়ে এখন অনুসন্ধান ও তদন্ত করা যায় কি না, খতিয়ে দেখা দরকার।
সাবেক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল ও প্রসিকিউশন) মো. মঈদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুদক আইনে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের কোনো বিধান নেই। আবার কোনো ব্যক্তি দুদক কর্মকর্তা দ্বারা হয়রানির শিকার হলে পরবর্তীতে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে না। কিন্তু ২০১৩ সালে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী ওয়ান-ইলেভেন সময়ে যাদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে, তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন কি না, সেটি আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে দেখতে পারেন।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তদানীনন্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্গঠনের পর সেনা-সমর্থিত ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ সরকার হিসেবে পরিচিতি পায়। এ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে। এই নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ঘোষিত লক্ষ্য ছিলÑ রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দুর্নীতির নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া। জরুরি অবস্থার আওতায় জারি করা আইনি কাঠামো ব্যবহার করে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তখন রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার অনেককে দ্রুত গ্রেপ্তার ও মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত করা হয়। কিন্তু এসব মামলার বেশির ভাগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়ায়, আবার অনেক ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতে সাজার রায় উচ্চ আদালতে বাতিল হওয়ায় তখনকার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের উদ্দেশ্য, কার্যকারিতা, বিচারিক প্রক্রিয়া ও তার ফলাফল নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছে।
সহযোগীদের খবর
কার্যকারিতা হারাল গণভোট অধ্যাদেশ
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
২ মাস আগে
১১ এপ্রিল (শনিবার), ২০২৬, ৯ঃ২০ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

Susanta bikash barua
২ মাস আগেইতিহাসের পরিক্রমা। বিএনপি সামনের দিনে বলবে, "এই রাজাকারগুলো আমরা রাকিবো কোথায়"।