সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাজী বোরহান উদ্দিন রাস্তা যেন ‘ক্যান্সার’ রোগী। এ রাস্তাটি দীর্ঘ ১৫ বছর বছর থেকে অচলাবস্থার কারণে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ার কারণে বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। এ রাস্তাটি বিএনপি সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তখনকার স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব, কানাইঘাটের কৃতী সন্তান আবুল হারিছ চৌধুরীর যৌথ প্রচেষ্টায় বাস্তবায়ন হয়। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়া পর্যন্ত এ রাস্তাটি আর কখনো সংস্কার হয়নি। এ রাস্তায় এক সময় বাস গাড়ি চলতো কিন্তু ভাঙাচোরার কারণে অনন্ত ১৫ বছর থেকে বাস চলাচল বন্ধ আছে। মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ছিল সিএনজি গাড়ি। তাও কয়েক বছর থেকে সিলেট-কানাইঘাট-গাছবাড়ী সরাসরি সিএনজি পর্যন্ত চলে না। এখানকার মানুষ পার্শ্ববর্তী বিয়ানীবাজার-জকিগঞ্জ, জৈন্তাপুর উপজেলা হয়ে সিলেট শহরে যাতায়াত করেন। রাস্তাটি এতই ঝুঁকিপূর্ণ যে স্বাভাবিক কোনো মানুষ হাঁটারও উপযুক্ত নয়। খানাখন্দে ভরপুর এ রাস্তাটির সংস্কারে বিভিন্ন সময় সামাজিক আন্দোলন হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এই একটি রাস্তার কারণে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মক কঠিন হয়ে গেছে। তবে আশার কথা হচ্ছে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বশেষ একনেক বৈঠকে রাস্তাটির সংস্কারের জন্য প্রায় ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বর্তমান স্থানীয় সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান রাস্তাটি সংস্কারে নির্বাচিত হবার পর থেকেই দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারও নতুন করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় যুবক তাওহীদুল ইসলাম বলেন, বোরহান উদ্দিন রাস্তা এখন নিজেই মারাত্মক ইনজুরিতে ভোগে আইসিইউতে আছে, এখান থেকে উত্তোরণের জন্য শুনেছি ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যাতে দ্রুত চিকিৎসা করে রাস্তাটি সুস্থ করে তোলা হয় এটাই আমাদের দাবি।
সিলেটে গাজী বোরহান উদ্দিন রাস্তার দ্রুত টেন্ডার চান এলাকার মানুষ
মুফিজুর রহমান, কানাইঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি
১১ এপ্রিল (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
