ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জের ৪টি আসনেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। বহুল কাঙ্ক্ষিত এ নির্বাচনে শান্তিুপূর্ণ ভোটগ্রহণের মাধ্যমে বড় ব্যবধানে তারা বিজয়ী হন। জেলার সবক’টি আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা আনন্দে উদ্বেলিত। রাতে ফলাফল পাওয়ার পর হবিগঞ্জ শহরসহ প্রতিটি আসনের কর্মী-সমর্থকরা বিজয় মিছিল বের করেন। ৪টি আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ের নেপথ্যে ছিল কিছু বিশেষ কারণ। তাদের অতীত কর্মকাণ্ড, পারিবারিক পরিচিতি ও নিজেদের মেধার বহিঃপ্রকাশ। পাশাপাশি নির্বাচনে দিন-রাত সমর্থকদের অক্লান্ত পরিশ্রম সবমিলিয়ে তাদের বিজয় ছিল অনেকটাই নিশ্চিত। আর সর্বশেষ নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেই তারা বিশাল ভোটের ব্যধানের বিজয় ছিনিয়ে আনেন।
হবিগঞ্জ-১ আসন: বিএনপি’র ড. রেজা কিবরিয়া প্রায় ৫০ হাজারের অধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩২। এ ছাড়া এ আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৩৭ ভোট। এর ফলে অনেকটা ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে জয় পান তিনি। এ জয়ের পেছনে রেজা, তার পরিবারের সদস্য ও সমর্থকরা দিনরাত পরিশ্রম করে সফল হন। বিশেষ করে নির্বাচনী মাঠে দিনরাত প্রচারণায় অংশ নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন তার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে সমন্বয় করে রেজার নির্বাচনী প্রচারণাকে তুঙ্গে তুলেছিলেন তিনি। যার ফলে বিএনপি’র সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিজয় হাতছাড়া হয়নি।
হবিগঞ্জ-২ আসন: বিএনপি’র আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জয়ী হয়েছে। প্রায় ৬০ হাজারের অধিক ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৩। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিগত নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণকারী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল বাছিত আজাদ। তিনি পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৭৬২ ভোট। ২০১৮ সালে ড. সাখাওয়াত হাসান জীবনকে বাদ দিয়ে জোটের স্বার্থে আব্দুল বাছিত আজাদকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এর ফলে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল এ দুই নেতার মধ্যে। এবার জীবন বিজয়ী হয়ে তার আশা পূর্ণ করলেন। বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. আবুল মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন এলাকায় গরিবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে তিনি এলাকার মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছেন। এ ছাড়া অমায়িক ব্যবহার, ব্যক্তিগত সততা ও পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে তিনি দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়।
হবিগঞ্জ-৩ আসন: বিএনপি’র প্রার্থী জিকে গউছ জয়ী হন। তিনি ৯৬ হাজারের অধিক বড় ভোটের ব্যবধানে সদরের এ আসনে জয়ী হন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৪৮। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কাজী মহসিন আহমেদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৬৮ ভোট। জিকে গউছের আগে তিনবার হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে শহরে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। জেলে থেকেও তিনি পৌরসভার নির্বাচনে বিজয়ী হন। যার জন্য সদর আসনে নির্বাচনে জিকে গউছ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। যার কারণে জামায়াত প্রার্থী তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন অনেকটা পিছিয়ে। জেলা শহরের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকার সুবাদে ভোটাররা এবারো বিশাল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন। এ ছাড়া ৫ই আগস্টের পর দেশের ক্রান্তিলগ্নে বিভিন্ন বড় সমস্যার জিকে গউছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেন এ কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা। যার কারণে নির্বাচনে তিনি বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।
হবিগঞ্জ-৪ আসন: বিএনপি’র প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল জয়ী হয়েছেন। তিনি লক্ষাধিক ভোট বেশি পেয়ে বিজয় অর্জন করেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফন্ট প্রার্থী আলোচিত ইসলামী বক্তা গিয়াস উদ্দিন আত্ তাহেরী পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট। এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী শিল্পপতি সৈয়দ ফয়সল দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছেন। বিশেষ করে নিজস্ব চা-বাগানসহ একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সুবাদে এলাকার মানুষের সঙ্গে তাদের একটা বিশেষ সম্পর্ক তৈরি হয়ে আসছে। যুগের পর যুগ তারা এলাকার গরিব, অসহায় মানুষদের বিভিন্ন সহযোগিতা করে আসছেন। আর এ থেকে তার একটি নিজস্ব ভোটব্যাংকও রয়েছে। যে কারণে জেলার প্রার্থীদের মধ্যে বিশাল ভোটের ব্যবধানে তিনি বিজয়ী হন।
হবিগঞ্জের ৪টি আসনেই বিএনপি’র জয়ের নেপথ্যে...
রাশেদ আহমদ খান, হবিগঞ্জ থেকে
১৪ ফেব্রুয়ারি (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
