ঢাকা-১ আসনের নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও ফল ঘোষণার পর দেখা গেল ব্যতিক্রমী চিত্র। প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে পারস্পরিক সৌজন্যে মুগ্ধ স্থানীয়রা। প্রশংসায় ভাসছেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপি খন্দকার আবু আশফাক ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বিএনপির নবনির্বাচিত এমপি খন্দকার আবু আশফাককে অভিনন্দন জানান।
নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, জনগণের রায়ে খন্দকার আবু আশফাক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আমি তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য দল-মত নির্বিশেষে দোহার-নবাবগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে বিজয়ের পরদিন শুক্রবার সকালে ভিন্ন এক বার্তা দেন খন্দকার আবু আশফাক। ফুলের তোড়া হাতে তিনি যান প্রতিদ্বন্দ্বী নজরুল ইসলামের বাসায়। প্রায় অর্ধঘণ্টাব্যাপী সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেন দু’জন। আপ্যায়নে ছিল ফল, বিস্কুট ও কোমল পানীয়। আলোচনায় উঠে আসে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়। এ সময় জামায়াত প্রাথী নজরুল দোহার- নবাবগঞ্জের উন্নয়নে তাকে চাইলে কাজে লাগানোর কথা বলেন। এ সময় খন্দকার আবু আশফাকা বলেন আমরা দু’জনে মিলেই দোহার-নবাবগঞ্জকে সাজাবো। নির্বাচনের আগে লন্ডনে কাটানো নানা বিষয়ের স্মৃতি চারণ করে আশফাক বলেন, আমি যখন লন্ডনে যেতাম তখন নজরুল আংকেল আমাকে অনেক সময় দিতেন, ঘুড়াতেন। আমার সঙ্গে তার মধুর সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের সম্পর্ক চাচা-ভাতিজার। নির্বাচনে আমরা কেউ কারও বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য রাখিনি। আমরা কেউ কারও বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগও করিনি। চাচা ভাতিজা একসঙ্গে দোহার-নবাবগঞ্জ গড়ব ইনশাল্লাহ।
বিজয় পরবর্তী সাক্ষাৎ শেষে আশফাক সাংবাদিকদের বলেন, আমি দোহার-নবাবগঞ্জের সবার এমপি। আমার বিজয়কে কেন্দ্র করে কেউ যেন ব্যক্তিগত আক্রোশে না জড়ায়। আমি চাই দোহার-নবাবগঞ্জ হোক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। জনগণকে দেয়া প্রতিশুতি রক্ষা করাই আমার চূড়ান্ত লক্ষ্য ।
স্থানীয়দের মতে, এমন রাজনৈতিক সৌজন্য অনেক দিন পর দেখা গেল। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনার বদলে দুই প্রার্থীর এই আচরণ ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রশংসা চলছে। অনেকে একে ‘পজিটিভ পলিটিক্স’-এর দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরও পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ। এতে ভবিষ্যতে উন্নয়নকেন্দ্রিক রাজনীতির পথ আরও প্রশস্ত হতে পারে।
ঢাকা-১ আসনে প্রশংসায় ভাসছেন আশফাক-নজরুল
স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
৩ মাস আগে
১৩ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার), ২০২৬, ৯ঃ৩২ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
