অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সত্যিকারের অঘটন জিম্বাবুয়ের

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সত্যিকারের অঘটন জিম্বাবুয়ের

ফন্ট সাইজ:

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত নেপাল যা করতে পারেনি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেটিই করে দেখালো জিম্বাবুয়ে। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথম সত্যিকারের অঘটন ঘটালো দলটি। গতকাল দারুণ ব্যাটিংয়ের পর দুর্দান্ত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে জিম্বাবুইয়ানরা জয় তুলে নেয় ২৩ রানে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০০৭-এ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রথম দেখাতেই জয় পাওয়া জিম্বাবুয়ে এ সংস্করণের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দেখাতেও জয়যাত্রা অব্যাহত রাখলো। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। রান তাড়ায় ৩ বল বাকি থাকতে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। আগের ওমান ম্যাচের নায়ক ব্লেসিং মুজারাবানির হাতে আরেকবার ওঠে ম্যাচসেরার পুরস্কার। জিম্বাবুইয়ান পেসার
ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম পেলেন ম্যাচে ৪ উইকেটের স্বাদ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এদিন ১০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন এ ডানহাতি ফাস্ট বোলার। জিম্বাবুয়ের জয়ের আরেক নায়ক ব্র্যাড ইভান্স। আগের ম্যাচের মতো এদিনও ৩ উইকেট নেন তিনি। রান তাড়ায় দ্রুত স্কোরকার্ডে রান যোগ করা শুরু করলেও, তৃতীয় ওভারে নিজেদের তৃতীয় উইকেট হারিয়ে বিপাকে
পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। একে একে ফিরে যান জস ইংলিস, ক্যামেরন গ্রিন ও টিম ডেভিড। গ্রিন ও ডেভিডকে তো রানের খাতাই খুলতে দেননি যথাক্রমে ইভান্স ও মুজারাবানি। পরের ওভারে দলীয় ২৯ রানে অধিনায়ক ট্রাভিস হেডও (১৫ বলে ১৭) ফিরে যান সাজঘরে। পঞ্চম উইকেটের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাট রেনশ। দুজন মিলে ৫৯ বলে যোগ করেন ৭৭ রান। এটিই অস্ট্রেলিয়ার উল্লেখযোগ্য জুটি। আর কোনো জুটি ১৫ রানও ছুঁতে পারেনি। দলীয় ১০৬ রানে আউট হন ম্যাক্সওয়েল। ৩২ বলে ১টি করে চার-ছক্কায় ৩১ রান করেন এ তারকা ব্যাটার। আরেক প্রান্ত আগলে রেখে রান যোগ করতে থাকেন ম্যাট রেনশ। তবে দলীয় ১৩৯ রানে তিনিও ফিরে গেলে আটকে যায় অজিদের রানের চাকা। ৪৪ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৬৫ রান আসে রেনশের ব্যাট থেকে। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামার আগেই বড় দুঃসংবাদ পায় জিম্বাবুয়ে। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে বিশ্বকাপই শেষ হয়ে যায় দলের অন্যতম তারকা ব্রেন্ডন টেলরের। তবে তাকে হতাশ করেনি সতীর্থরা। উদ্বোধনী জুটিতেই অষ্টম ওভারে ৬১ রান তুলে ফেলেন ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি। ২১ বলে ৩৫ রানে আউট হন মারুমানি। পরের উইকেটের জুটিতে রায়ান বার্লকে নিয়ে ৭০ রানের জুটি গড়েন বেনেট। ৩০ বলে ৩৫ রানে বার্ল ফিরলে অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে নিয়ে রান যোগ করতে থাকেন বেনেট। শেষ পর্যন্ত ৫৬ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন জিম্বাবুইয়ান ওপেনার। ১৩ বলে ২৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন রাজা।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন