নির্বাচনে অনিয়ম ও প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়ার অভিযোগ বিসিবি’র বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রধান করে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের এডহক কমিটি।
গতকাল বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন এনএসসি’র পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান। এর আগে তিনি এনএসসি’র গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল এহসান জানিয়েছেন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এডহক কমিটির মেয়াদ তিন মাস। আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার কথা আইসিসিকে ই-মেইলে জানিয়েছে এনএসসি।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অনুমোদনে গত মাসে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। বিসিবি’র গত নির্বাচনে অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেয়া হয় এই কমিটিকে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে সেই কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেন গত রোববার। এর দু’দিন পর ব?্যবস্থা নিলো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। সংবাদ সম্মেলনে প্রায় ২৭ মিনিটের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান এনএসসি’র পরিচালক। সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপের বেশ কিছু নজির উঠে এসেছে সেই কমিটির পর্যবেক্ষণে।
এ ছাড়াও সেই নির্বাচনে জিততে বিসিবি সভাপতি হওয়া আমিনুল ইসলাম বুলবুলেরও দায়িত্বের বাইরে প্রভাব খাটানো ও অনিয়মের অনেক ঘটনার উল্লেখ আছে কমিটির প্রতিবেদনে। বিসিবি নির্বাচনের তিনটি ক্যাটাগরি থেকেই অনেক অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত কমিটি এবং সেসবের অনেকগুলোর পরিষ্কার উদাহরণও উঠে এসেছে তাদের পর্যবেক্ষণে। যার মধ্যে আছে জেলা-বিভাগের এডহক কমিটি বিসিবি’র নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুনঃগঠন করা।
বিসিবি’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও বিসিবি’র অন্যতম পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম যথাক্রমে ঢাকা জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর হয়েছেন। যেটা কমিটির কাছে ক্রীড়া উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ মনে হয়েছে। জেলা-বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে একবার কাউন্সিলর নাম পাঠিয়েছিল। সেই নামের পরিবর্তে বিসিবি সভাপতির চিঠির প্রেক্ষিতে আবার কাউন্সিলর নাম প্রেরণ করতে চিঠি দেয়া হয়। এই চিঠিও কমিটির কাছে বিসিবি সভাপতির হস্তক্ষেপ মনে হয়েছে।
বিসিবি সভাপতির আরও অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে কমিটি। বিশেষ করে সি ক্যাটাগরিতে ১০ জন জাতীয় ক্রিকেট খেলোয়াড় মনোনীত করার দায়িত্ব বোর্ডের। তদন্ত কমিটি বোর্ড মিটিংয়ের কোনো সভা খুঁজে পায়নি এবং বিসিবি সিইও’র কাছে চিঠি দিয়েও উত্তর পায়নি। তাই এটি কমিটির কাছে বিসিবি সভাপতির হস্তক্ষেপ মনে হয়েছে। জেলা-বিভাগ, সি ক্যাটাগরির পাশাপশি ক্লাব ক্যাটাগরির কাউন্সিলরশিপেও অনিয়ম পেয়েছে বিসিবি। ফারুক আহমেদের কাউন্সিলরশিপ নির্ধারিত সময়ের পরে জমা পড়েছে।
এটি কমিটির কাছে নির্বাচনে অনিয়ম বলে প্রতীয়মান মনে হয়েছে। বিসিবি’র গঠনতন্ত্রে এডহক কমিটির বিধান নেই। তবে বিসিবি অন্য দশটি ফেডারেশনের মতো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধিভুক্ত সংস্থা। তাই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ২০১৮ সালের ২১ ধারা অনুযায়ী যে কোনো সময় যেকোনো ফেডারেশনের এডহক কমিটি গঠন করতে পারে। এ নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক আমিনুল এহসান বলেন, ‘তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে নির্বাচনে অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে যথাযথ কর্তৃপক্ষ। এটি আইসিসিকে জানানো হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২০১৮ সালের আইন মোতাবেক এই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন এডহক কমিটি দিয়েছে।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল সরকারি হস্তক্ষেপ গ্রহণ করে না।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নির্বাচিত কমিটি ভেঙে এডহক কমিটি আইসিসি’র কাছে পাঠিয়েছে। আইসিসি এই কমিটি গ্রহণ করবে কিনা এই বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক সুস্পষ্ট কিছু বলেননি। তার উত্তর, ‘বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। কমিটির ব্যাপারেও তারা অবহিত।’ এডহক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ পুনরায় নির্বাচন করতে পারবেন কিনা এই বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। ফেডারেশনগুলোর নির্বাচনে এডহক কমিটির কেউ প্রার্থী হতে পারবেন কিনা সেটা স্পষ্ট নেই। এমনকি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আইনেও কিছু নেই। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) এডহক কমিটির ১১ জনের নাম ঘোষণার সময় বলেছেন, ‘এই এডহক কমিটি আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।’ এডহক কমিটির দায়িত্ব মূলত সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করাই। এডহক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ পুনরায় নির্বাচন করতে পারবেন কিনা এই বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। বারবার এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলেও তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত কমিটির কাছে তারা দায়িত্ব হস্তান্তর করবে, এডহক কমিটির দায়িত্ব এ রকমই।’ নতুন অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের ইতিহাসের সফলতম ওপেনার। ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের পথ ধরে তৎকালীন সভাপতি নাজমুল হাসানের বিদায়ের পর এই নিয়ে টানা তিনজন সাবেক অধিনায়ক বিসিবি প্রধানের দায়িত্ব পেলেন।
কারা আছেন এডহক কমিটিতে
তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে আছেন আরেক সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতহার আলি খানও। আছেন সাবেক পরিচালক ফাহিম সিনহা ও রফিকুল ইসলাম বাবু। এ ছাড়াও রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের ছেলে ইব্রাহিম আহমেদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, যিনি বর্তমান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী। এডহক কমিটি ঘোষণা থেকেই শুরু হয়ে গেছে তাদের দায়িত্ব। কমিটির প্রথম সভা হবে এ দিন সন্ধ্যায়ই।
বিসিবি’র এডহক কমিটি:
তামিম ইকবাল (কমিটির প্রধান), রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আতাহার আলী খান, তানজীম চৌধুরী, সালমান ইস্পাহিনী, রফিকুল ইসলাম, ফাহিম সিনহা

Zahur
৩ মাস আগেকমিটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের ছেলে, মির্জা আব্বাসের ছেলে, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে, ববি হাজ্জাজের স্ত্রী.....
বুজতে পারছিনা দোষটাকি বিএনপি কে দিবো... আমারতো মনে হয় বিএনপি এর কোনো দোষ নাই , আমরা তো জেনে বুঝেই ভোট দিসি, দোষ হলে সেটা জনগণের।