ভারতের জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন। আর জাতীয় গান হল বন্দেমাতরম। এতদিন সরকারি কর্মসূচিতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এবং এটি গাওয়ার সময় উঠে দাঁড়ানোও বাধ্যতামূলক। এবার থেকে জাতীয় সঙ্গীতের আগে গাইতে হবে জাতীয় গান। এবং সেই সময়েও বাধ্যতামূলক ভাবে উঠে দাঁড়াতে হবে। এই সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকায় সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে জানানো হয়েছে, যে সব অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন গাওয়া হয় সেই সব অনুষ্ঠানে আগে গাইতে হবে বন্দেমাতরম। বন্দেমাতরম গানটির সংশোধিত চালু পুরো গানটি গাইতে হবে। এজন্য সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বন্দেমাতরম গাইতে হবে ১৯০ সেকেন্ড অর্থাৎ ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডে। জনগণমন গাওয়া হয় ৫২ সেকেন্ডে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা বন্দেমাতরম-এর সার্ধশতবর্ষে ভারত সরকার নানা ধরণের কর্মসূচি পালন করছে। এই আবহে বন্দেমাতরম গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা বলে তারা মনে করছেন। বিরোধীদের আরও অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে এই নির্দেশনা। বিজেপি এখন রবীন্দ্রনাথ বনাম বঙ্কিমচন্দ্র আবহ তৈরি করছে।
এদিকে,অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড সরকারের নির্দেশিকার প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে লিখেছে, এই নির্দেশিকা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে বিরুদ্ধে। এটি সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে। তাদের যুক্তি, বন্দেমাতরম গানটিতে দুর্গা এবং অন্যান্য দেবদেবীর পুজোর উল্লেখ রয়েছে, যা ইসলামী বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা আরও জানিয়েছে, মুসলিমরা এক ঈশ্বরেই বিশ্বাসী। তা হল আল্লাহ। বোর্ডের দাবি, গানের বেশ কয়েকটি পংক্তি ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের পরিপন্থী। কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কেন্দ্র সরকার এই নির্দেশিকা প্রত্যাহার না করে, তাহলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হবে।

A R Sarker
৪ মাস আগেএগুলো ভারত ভাংগনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।