২৪ ঘণ্টায় আরও দশ শিশুর মৃত্যু

হামের টিকাদান শুরু

২৪ ঘণ্টায় আরও দশ শিশুর মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহজনক আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ২২ দিনে হাম সন্দেহজনক মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৩ জনে। দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় একযোগে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে মিজলস (হাম) প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার নবাবগঞ্জে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরীক্ষা অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত রোগীদের ৮২ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। তাই আমরা বর্তমানে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী দেশের সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। রোববার থেকে সেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এই বয়সী শিশুদের মধ্যে যারা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই মুহূর্তে টিকা দেয়া হচ্ছে না। অসুস্থ শিশু ছাড়া বাকি সবাইকে টিকার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। আর যারা অসুস্থ, তাদের কেবল ভিটামিন ‘এ’ প্রদান করা হবে। মন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফ এসব এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি বলে শনাক্ত করেছে। এই এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শেষ করার পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিশেষ এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। প্রথম পর্যায়ে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচির আওতাভুক্ত ৩০টি উপজেলা হলোÑরাজশাহীর গোদাগাড়ী; ঢাকার নবাবগঞ্জ; মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর; ঝালকাঠির নলছিটি; ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর; চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া; নওগাঁর পোরশা; গাজীপুর সদর; নেত্রকোণার আটপাড়া; শরীয়তপুরের জাজিরা; বরগুনা সদর; মাদারীপুর সদর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, ভোলাগঞ্জ ও সদর; নাটোর সদর এবং যশোর সদর।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ৩রা মে থেকে বাকি জেলা ও উপজেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে টিকা দেয়া হবে, যাতে সব শিশু ঝুঁকিতে না থাকে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে হামের যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। হাম এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা করোনা মহামারির চেয়েও কম উদ্বেগজনক নয়।

উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ১১৩ শিশুর: হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে। গত ২২ দিনে সারা দেশে হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ৭৬১০ জন শিশু এবং মৃত্যু হয়েছে ১১৩ জনের। এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের, আক্রান্ত হয়েছে ৯৭৪ জন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ই মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হাম সন্দেহে ৭ হাজার ৬১০ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে পরীক্ষায় ৯২৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাম সন্দেহে ১১৩ জন শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩২৫৯ জন শিশু, এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৪৬৮ জন। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম সন্দেহে ৬৫৪ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। মৃত্যুর হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী বিভাগে, ৫৫ জন। এরপরই আছে ঢাকা বিভাগ, ১০ জন। এ সময় ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট বিভাগে মৃত্যুর কোনো ঘটনা নেই।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন