হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু একশ’ ছাড়ালো, আজ থেকে টিকা কার্যক্রম

ফন্ট সাইজ:

দেশ জুড়ে হামের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ ছুঁই ছুঁই। গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার পর্যন্ত) হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যুসহ ২০ দিনে এই রোগে ৯৮ শিশুর সন্দেহজনক মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ৭৯২ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। হাম প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আজ (রোববার) থেকে সারা দেশে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সকাল ৯টা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হবে। শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটিও বাতিল করেছে সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৭৮৭ জন। সবমিলিয়ে শনিবার পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৭৬ জনে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৬০ জনসহ সবমিলিয়ে হাম নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৬ জনে।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, জরুরি টিকাদান কার্যক্রমের লক্ষ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটি (নিট্যাগ) এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুপারিশ করে। ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশু- আগে টিকা নেয়া থাকুক বা না থাকুক এই কার্যক্রমের আওতায় আসবে।

সরকার বলছে, প্রথম ধাপে দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় কার্যক্রম শুরু হবে। এগুলো দেশের ১৮ জেলার আওতাধীন ৩০টি উপজেলা। পরে পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১শে মে ২০২৬-এর মধ্যে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নবাবগঞ্জে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত পাবনা সদরে, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ঝালকাঠির নলছিটিতে এবং স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী গাজীপুরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। বাকি স্পটগুলোতে সিভিল সার্জন স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে কার্যক্রম শুরু করবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ সংক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৩১৫ জন এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দুই হাজার ৩৯৪ জন। সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে এক হাজার ১৯২ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯৯ জন। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭১৭ শিশু, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২২৮ জন। বরিশাল বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬। এখানে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৫৯ শিশু, ছাড়পত্র পেয়েছে ১২৪ জন। খুলনা বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৯ শিশু। নতুন ভর্তি ১৮ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছে পাঁচজন। ময়মনসিংহ বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮৬ শিশু এবং ছাড়পত্র পেয়েছে ৪৯ জন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন