ফুটবল মাঠে আক্রমণচলাকালীন ফরোয়ার্ডের এক চুল এগিয়ে থাকায় গোল বাতিলের দৃশ্য ভক্তদের জন্য দীর্ঘদিনের বিরক্তির কারণ। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) ক্ষতিয়ে দেখা ও সময়ক্ষেপণ ম্যাচের উত্তেজনা অনেক সময়ই মাটি করে দেয়। তবে সেই দৃশ্যপট হয়তো চিরতরে বদলে যেতে চলেছে। কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (সিপিএল) উদ্বোধনী ম্যাচে পরীক্ষামূলকভাবে বহুল আলোচিত ‘বিকল্প অফসাইড আইন’ চালু করছে বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা)।
আর্সেনালের কিংবদন্তি কোচ এবং ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার এ নিয়মের মূল কারিগর। তারা ভাষায়, ‘পেশাদার প্রতিযোগিতায় এই নিয়ম পরীক্ষা করলে এর প্রভাব সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যাবে।’ নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আক্রমণভাগের একজন খেলোয়াড় তখনই অফসাইডে পড়বেন, যখন তার সম্পূর্ণ শরীর প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের শেষ সীমানাকে অতিক্রম করবে। অর্থাৎ, শরীরের কোনো একটি অংশও যদি ডিফেন্ডারের লাইনের সমান্তরালে থাকে, তবে তা আর অফসাইড বলে গণ্য হবে না। একে ফুটবলকে আরও গতিশীল এবং আক্রমণাত্মক করার বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবে ভাবা হচ্ছে। ফিফার মতে, খেলার গতি বাড়ানো ও সময় নষ্ট কমানোর লক্ষ্য থেকেই এই ধারণার জন্ম। সেইসঙ্গে, দর্শকদের জন্য আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়ার কথাও ভাবা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, ইউরোপের শীর্ষ লীগগুলো থাকতে কানাডাতেই কেনো এই পরীক্ষামূলক আইন চালু করা হচ্ছে। ২০১৯-এ শুরু হওয়া কানাডার এই লীগটি নবীন এবং বেশ সাহসী। ফিফা মনে করছে, প্রথাগত ইউরোপিয়ান লীগগুলোর রক্ষণশীলতা এড়িয়ে নতুন নিয়মের প্রভাব বুঝতে সিপিল-ই উপযুক্ত জায়গা। হ্যামিল্টনের ফোরজ এফসি এবং অ্যাটলেটিকো অটোয়ার মধ্যকার ম্যাচে আজ থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ফোরজ ফরোয়ার্ড ট্রিস্টান বোর্জেস বলেন, ‘এখন থেকে দৌড়ানোর সময় আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকবো। ডিফেন্ডারদের এখন থেকে আরও সতর্ক থাকতে হবে, যা আদতে খেলার রোমাঞ্চ বাড়াবে।’
অবশ্য, ইউরোপের অনেক বিশেষজ্ঞ এর সমালোচনাও করছেন। তাদের মতে, এর ফলে ডিফেন্ডাররা গোলপোস্টের খুব কাছে অবস্থান নেবে, যা খেলাকে রক্ষণাত্মক করে তুলতে পারে।
