রাশিয়ায় গোপনে সেনা নিয়োগ কার্যক্রম

রাশিয়ায় গোপনে সেনা নিয়োগ কার্যক্রম

ফন্ট সাইজ:

রাশিয়ায় গোপনে সেনা নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। বড় বড় কোম্পানিকে তাদের কর্মীদের সামরিক সেবার জন্য মনোনীত করতে বলা হচ্ছে। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াজান অঞ্চলের গভর্নর পাভেল মালকভ স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কর্মীদের মধ্যে থেকে ‘প্রার্থী’ হিসেবে একটি তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এটি সেনা নিয়োগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি যুক্ত করার একটি বিরল উদ্যোগ। কোম্পানির আকার অনুযায়ী প্রার্থীর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০ মার্চের এই নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫০-৩০০ কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ২ জনের নাম দিতে হবে। ৩০০-৫০০ কর্মী থাকলে ৩ জন, ৫০০ বা তার বেশি কর্মী থাকলে ৫ জন মনোনয়ন দিতে হবে।

সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকা না দিলে কোনো শাস্তির কথা এখনও উল্লেখ করা হয়নি। ইউরোমাইদান প্রেসের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তাদের ওপর নতুন ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই এক ধরনের গোপন সামরিক সমাবেশের ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মনোনীত কর্মীরা রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে ‘চুক্তিভিত্তিক সামরিক সেবা’র জন্য প্রার্থী হবে। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য এই চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগই প্রধান উৎস এবং এটি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বিবেচিত হয়। এই নির্দেশনা অঞ্চলের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য, মালিকানার ধরন যা-ই হোক না কেন। এতে ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বাক্ষরিত দুটি ডিক্রির উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণের প্রেক্ষাপটে দেশকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছিল। রিয়াজানের স্থানীয় আইনে বলা হয়েছে, এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাধা দিলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ রুবল জরিমানা করা হতে পারে। এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে রাশিয়া নতুন সেনা সংগ্রহে নানা উপায় খুঁজছে। দেশটি নাগরিকদের বড় অঙ্কের সাইন-আপ বোনাস দিচ্ছে এবং অনানুষ্ঠানিক বা গোপন বিদেশি নিয়োগ নেটওয়ার্কও ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৫ সালে মস্কো জানিয়েছিল, ৪ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ সামরিক চুক্তিতে যোগ দিয়েছে। তবে বড় শহরগুলোতে এখন নিয়োগের হার কমে গেছে। কারণ মানুষ যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে আগের চেয়ে বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন