খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ: ছক কষা হয় আগের দিন সন্ধ্যার বৈঠকে

সহযোগীদের খবর

খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ: ছক কষা হয় আগের দিন সন্ধ্যার বৈঠকে

ফন্ট সাইজ:

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ: ছক কষা হয় আগের দিন সন্ধ্যার বৈঠকে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোডের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ওই ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় একটি বিশেষ বাহিনীর সদর দপ্তরে উচ্ছেদের চূড়ান্ত পরিকল্পনা হয়। পরিকল্পগুনার ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রভাবশালী কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। বৈঠকেই নির্ধারণ করা হয়, বাড়ি থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদে কে কোন ভূমিকা পালন করবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা রাখেন তৎকালীন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) একটি অংশ। তবে মাঠ পর্যায়ে মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ ও র‌্যাবকে। পুরো উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার ভিডিও ধারণের দায়িত্বও দেওয়া হয় এক সেনা কর্মকর্তাকে। উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সরাসরি মনিটরিং করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় একটি হত্যা মামলায় সম্প্রতি গ্রেফতার হন ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ। তিনি বর্তমানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে রিমান্ডে রয়েছেন।

খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি আলোচিত ও কলংকিত অধ্যায়। উচ্ছেদের আগে ঢাকা সেনানিবাসের ৬ নম্বর শহীদ মঈনুল রোডের বাড়িটিতে প্রায় ৩৮ বছর ধরে বসবাস করছিলেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর সরকার বাড়িটি খালেদা জিয়াকে লিজ দিয়েছিল। বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ওই সময় প্রতিবাদে হরতালও পালিত হয়।

খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সময় ডিজিএফআই’র কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন এক-এগারো সরকারের কুশীলব শেখ মামুন খালেদ। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে ডিজিএফআই’র মহাপরিচালক পদে বসায়। খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পুরো প্রক্রিয়া খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেন সাবেক প্রভাবশালী এই সেনা কর্মকর্তা।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দারা তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন-সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদে কার কী ভূমিকা ছিল। জবাবে শেখ মামুন খালেদ বলেন, উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন ডিজিএফআই’র মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবরসহ তৎকালীন সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ সেনা কর্মকর্তা বৈঠক করেন। সেখানেই সব পরিকল্পনা হয়। ওই বৈঠকে ব্রিফ করেন সেনাবাহিনীর তৎকালীন চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর স্ত্রীসহ ওই কর্মকর্তা দেশ ত্যাগ করতে চাইলে বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়। উচ্ছেদ পরিকল্পগুনা বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা রাখে তৎকালীন ডিজিএফআই’র একটি অংশ। আগের দিন সন্ধ্যার ওই বৈঠকে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয় সেভাবেই সব কিছু বাস্তবায়ন হয় বলে জানান মামুন খালেদ।

খালেদা জিয়ার বাড়ি থেকে উচ্ছেদে কোন কর্মকর্তা কী ভূমিকা রাখেন গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে তা বিস্তারিত তুলে ধরেন শেখ মামুন খালেদ। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। পুরো অভিযানের ভিডিও ধারণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘মু’ আদ্যাক্ষরের মেজর পর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে। এছাড়া আইএসপিআর-এর পরিচালক পর্যায়ের একজনসহ ডিজিএফআই’র বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন-এমন দাবি করেন শেখ মামুন খালেদ।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলায় প্রথম দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে ফের ছয় দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে মামুন খালেদের।

এদিকে এক-এগারো সরকারের সময় বিতর্কিত ভূমিকা পালনকারী আরেক সেনা কর্মকর্তা ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. আফজাল নাছেরও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একই হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তাকে। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক-এগারো সরকারের সময় বিভিন্ন শিল্পগু গোষ্ঠীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্যাতন করার অভিযোগ আছে।

রিমান্ডে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আফজাল নাছের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এক-এগারো সরকারের সময় তার অপকর্মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। নাম প্রকাশ না করে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, আফজাল নাছের দাবি করেছেন তিনি ভিক্টিমাইজ হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার তাকে চাকরিচ্যুত করেছে। কিন্তু কেন চাকরি হারালেন তা তিনি আজও জানেন না। তিনি গোয়েন্দাদের বলেছেন, আর্থিক সংকটের জন্য চাকরি করেন, অপরাধী হলে তিনি দেশে থাকতেন না।

আফজাল নাছের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করেন, এক-এগারোর সময়ে ডিজিএফআই’র পরিচালকের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন ব্রি. জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন ও নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর নির্দেশ পালন করেন তিনি।

এক-এগারো সরকারের আরেক কুশীলব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও মানব পাচার আইনে রাজধানীর পল্টন থানায় করা মামলায় রিমান্ডে রয়েছেন। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা এক-এগারো সরকারের আমলে কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপের মালিকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এক-এগারো সরকারের সময় বেশ কিছু শিল্প গ্রুপের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা নেন। ওই সময় ট্রুথ কমিশন গঠনের মাধ্যমে নানা অপকর্ম করেন। আমরা বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছি।

মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে হওয়া মানব পাচারের মামলা নিয়ে তদন্ত চলছে; মামলাটির তদন্ত সময়সাপেক্ষ উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, তাকে আরও কয়েক দফায় রিমান্ডে আনা লাগতে পারে।

গ্রেফতার সাবেক তিন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই এক-এগারোর সরকারের সময় বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ থাকলেও এখনও কোনো ভুক্তভোগী মামলা করেননি। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ভুক্তভোগীরা মৌখিক অভিযোগ করলেও নানা বাস্তবতায় মামলা করতে রাজি হচ্ছেন না।


প্রথম আলো

‘প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে হোঁচট’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধানক্ষমতা বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনে সংশোধন এবং গুমের মতো অপরাধ প্রতিরোধে আইনি সংস্কার এনেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এ জন্য কিছু অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল; কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যাদেশগুলো এখনই সংসদে অনুমোদন করা হচ্ছে না। ফলে ১০ এপ্রিলের পর থেকে এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিচার বিভাগ, দুদক, মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যত বেশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ পায়, সরকারের একচ্ছত্র ক্ষমতা তত সীমিত হয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। এ লক্ষ্যে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের যে উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের যাত্রার শুরুর দিকেই তা হোঁচট খেল। অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।

অবশ্য ক্ষমতাসীন দল বিএনপি বলছে, তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং ভিন্নমতসহ যেভাবে জুলাই সনদ সই হয়েছিল, সেভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া দুদক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে সংস্কার, গুম প্রতিরোধে করা অধ্যাদেশসহ কিছু বিষয় যাচাই–বাছাই করে আরও শক্তিশালী করে পরবর্তী সময়ে আইন করার সুপারিশ আছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি কবে নাগাদ এবং কতটা ‘শক্তিশালী’ আইন করবে, তা এখন দেখার বিষয়।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো (১২ মার্চ) উপস্থাপন করা হয়। ১০ এপ্রিলের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ সংসদ অনুমোদন না করলে সেটা কার্যকারিতা হারাবে।

অধ্যাদেশগুলো যাচাই–বাছাই করে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ১১৭টি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল করা এবং ১৬টি এখনই সংসদে বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। এই ১৬টি পরবর্তী সময়ে যাচাই–বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে। এর মধ্যে আছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত একটি, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়সংক্রান্ত দুটি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত তিনটি, গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত দুটি, দুদকসংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ।

আগামী সোমবার থেকে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের কার্যক্রম শুরু করবে জাতীয় সংসদ। যেসব অধ্যাদেশ অনুমোদন করা হচ্ছে, সেগুলোর পাশাপাশি যে চারটি রহিত করা হবে, সেগুলোও বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। সব মিলে বিল আনা হবে ১১৭টি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিল উত্থাপনের পর এখানে সংশোধনী প্রস্তাব দিয়ে আলোচনার সুযোগ পাবেন বিরোধী দলের সদস্যরা; কিন্তু তাঁদের সংশোধনী গ্রহণ করা হবে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে সরকারের মর্জির ওপর। কারণ, সংসদে যেকোনো আইন এমনকি সংবিধান সংশোধন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির।

বিশেষ কমিটির সদস্য জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পরবর্তী সময়ে নতুন বিল আনা হবে। তিনি বলেন, গুমের বিরুদ্ধে কার্যক্রম গ্রহণে তাঁরা একমত। এটিসহ দুদককে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার কমিশন—এগুলোর ক্ষেত্রেও কিছু সংশোধনীসহ পরবর্তী সময়ে বিল আনা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের এ–সংক্রান্ত নির্দেশনাও দেওয়া আছে। এ অধিবেশনে না হলে আগামী অধিবেশনে এসব বিষয়ে সংশোধিত আকারে নতুন বিল আনা হতে পারে বলে জানান চিফ হুইপ।

বিচার বিভাগে কী পরিবর্তন

বিদ্যমান সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে বিচারক নিয়োগ দেবেন। কিন্তু ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য কাজ করবেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী।

সংবিধানে বিচারক হওয়ার অযোগ্যতা সম্পর্কে বলা আছে। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে, সুপ্রিম কোর্টে অন্তত ১০ বছর আইনজীবী হিসেবে বা অন্তত ১০ বছর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে না থাকলে অথবা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে তিনি বিচারক পদে নিয়োগের যোগ্য হবেন না।

অতীতে কোনো সরকার বিচারক নিয়োগের আইন করেনি। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিচার বিভাগে রাজনৈতিকীকরণের অভিযোগও ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ করে। তাতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র এই কাউন্সিল যোগ্য ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতি বরাবর সুপারিশ করবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই আইন থাকলে অধিকতর যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের সুযোগ বাড়ে; কিন্তু বর্তমান সরকার এই অধ্যাদেশ অনুমোদন করছে না। ফলে নতুন আইন না হওয়া পর্যন্ত বিচারক নিয়োগ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

জুলাই জাতীয় সনদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে সংবিধানে স্বাধীন ‘জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের বিধান যুক্ত করার সুপারিশ আছে। এটিতে অবশ্য বিএনপির ভিন্নমত ছিল। দলটি বলেছিল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হবে।

অন্যদিকে অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ করা হয়। এ অধ্যাদেশ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে। বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটিবিষয়ক সব সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় এই সচিবালয়ের হাতে থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিবালয়ের সচিব প্রশাসনিক প্রধান হবেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই অধ্যাদেশ বিচার বিভাগ তথা অধস্তন আদালতের ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রভাব খর্ব করার পথ তৈরি করেছিল। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জুলাই জাতীয় সনদেও নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে কার্যকরভাবে পৃথক করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব সচিবালয় করার প্রস্তাব আছে। বিএনপিসহ ৩২টি দল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে এ প্রস্তাবে একমত হয়েছিল। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিচারক নিয়োগে আইন করার প্রতিশ্রুতি আছে বিএনপির। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি কবে নাগাদ এ–সংক্রান্ত আইন করবে এবং সেগুলো কেমন হবে।


কালের কণ্ঠ

দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘জ্বালানিতে কৃচ্ছ্র, প্রশ্ন লাভ-ক্ষতির’। খবরে বলা হয়, জীবনযাপন, অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মিশ্র প্রভাব থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে দেশের স্বার্থে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দরে অস্থিরতা তৈরির প্রেক্ষাপটে সরকার সাশ্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে অন্তত ৩০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় পরিবেশবান্ধব যানবাহন আমদানিরও সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এতে জ্বালানির পেছনে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ের পাশাপাশি যানজট কমা ও পরিবেশদূষণ কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ব্যবসার ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও জোর আলোচনা হচ্ছে।

জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকট তীব্র হয়ে উঠছে বিশ্বব্যাপী। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ রীতিমতো স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ থামার এখনো কোনো কার্যকর আভাস নেই। এমন প্রেক্ষাপটে সব দেশই নিজেদের মতো করে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা শুরু করেছে। অনেক দেশ কৃচ্ছ্রসাধনের পাশাপাশি অফিস-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ব্যবস্থা, কোথাও কোথাও জরুরি অবস্থা, কোথাও বা রেশনিং করে অফিস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশেও জ্বালানি নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

অনেকের প্যানিক বায়িংয়ের কারণে পাম্পগুলোতে সংকট দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ আবার তেলের মজুদ করছেন। সরকারি সংস্থার অভিযানে অসাধু চক্রের জ্বালানি তেল মজুদের ঘটনা ধরা পড়ছে। সরকারের দিক থেকে জ্বালানি তেলের সংকট নেই বলার পরও জনগণের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। তাদের অনেকেই হুজুগে বেশি বেশি তেল কিনে রাখছে বলে শোনা যাচ্ছে।

দেশের এই সংকটময় সময়ে সবারই দায়িত্বশীল আচরণ করার কথা থাকলেও কারো কারো মধ্যে তেল মজুদ করার মানসিকতার কারণে তেলের পাম্পগুলোতে বাড়তি চাহিদা দেখা যাচ্ছে। ফলে তেল সরবরাহ দেওয়ার স্বল্প সময়ের মধ্যে তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বিষয়টি সরকারকেও ভাবিয়ে তুলছে। এরই মধ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের প্রচেষ্টা চলছে। চট্টগ্রাম বন্দরেও জ্বালানি তেলবাহী একের পর এক জাহাজ এসে ভিড়ছে।

কিন্তু সরকার বহুমুখী পদক্ষেপে হাঁটছে। জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এক দিন আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, সরকারি-বেসরকারি অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা ও ব্যাংকিং লেনদেন সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চলবে।

আর কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান ও রেস্টুরেন্ট ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে। আগামী কাল রবিবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের মাধ্যমে সরকার অন্তত ৩০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য ঠিক করেছে। সরকার জ্বালানি তেলনির্ভর যানবাহনে উৎসাহ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য যানবাহন আমদানি ইলেকট্রিক পরিবহনকে উৎসাহিত করতে শুল্কছাড়ও দিয়েছে। এতে পরিবেশদূষণ কমবে বলে সরকার মনে করছে। আর জ্বালানি আমদানি ৩০ শতাংশ কমলে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন যানবাহন কেনা বন্ধ রাখা, বিদেশভ্রমণ সীমিত করা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা বন্ধ করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সমকাল

‘আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বিচার বিভাগ’-এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিতের সিদ্ধান্তে আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বিচার বিভাগ। অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা আবার চলে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। বিলুপ্ত হবে গত ১১ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। ফলে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার বিষয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা আপাতত পূরণ হচ্ছে না।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এই অধ্যাদেশগুলো আপাতত আইনে পরিণত হচ্ছে না। আইনজীবীরা বলছেন, বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছে তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেল।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সংসদে প্রতিবেদন দেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় বিষয়ক দুটি অধ্যাদেশ কার্যত বাতিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের নামে স্থগিতের সুপারিশ করায় হতাশা ও ক্ষোভ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। অধ্যাদেশ তিনটি হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করে আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে টিআইবি এই আহ্বান জানায়।

বিচারপতি নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন হুমকির মুখে ফেলবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন, সংবিধানে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন করার কথা বলা আছে। কিন্তু এত বছরেও তা করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করায় কিছুটা হলেও অগ্রগতি হয়েছিল। কেন তা গ্রহণ করা হচ্ছে না তা পরিষ্কার নয়। দেরিতে হলেও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো যেন আইনে পরিণত করা হয়, এমন প্রত্যাশা তাদের।

গত বছর ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। পরের মাসে সচিবালয়ের উদ্বোধনকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছিলেন, ‘আগামী দিনে যে নির্বাচিত সরকার আসবে, তাদের তো বটেই এবং যত অংশীজন আছে, তাদের সবাইকে এই ধারাবাহিকতা, এই সচিবালয়ের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন বজায় রাখা, গণতন্ত্রকে বজায় রাখা– এই ধারাবাহিকতা যেন অটল থাকে, অটুট থাকে।’

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘বিমান ভাড়ায় দিশাহারা যাত্রীরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জরুরি প্রয়োজনে মাসে তিন বার ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে হয়। আগে যে টাকা দিয়ে যাওয়া-আসা করতাম, এখন সেই টাকা দিয়ে এক দিকের টিকিটও হচ্ছে না। বিমানের ভাড়া ট্রেনের তুলনায় চার-পাঁচ গুণ বেশি হয়ে গেছে।’—বলছিলেন আকাশপথের নিয়মিত যাত্রী শিক্ষক-গবেষক সৈয়দা বদরুন নেসা। একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন গৃহিণী লায়লা আরজুমান্দ হক। তিনি বলেন, ‘চিকিত্সার কারণে মাসে তিন থেকে চার দিন ঢাকা-রাজশাহী করতে হয় আমাকে। এখন যে হারে বিমানভাড়া বেড়েছে, তাতে শঙ্কিত আমি। আগে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় টিকিট মিললেও এখন ৭ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকার নিচে পাওয়া দুষ্কর। সরকারের উচিত, ফুয়েলের দাম কমিয়ে ভাড়া একটি নির্দিষ্ট সীমায় আনা।’

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা লেগেছে দেশের আকাশপথে। জ্বালানির দাম বাড়ার অজুহাতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটেই টিকিটের দাম এখন আকাশচুম্বী। এতে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে দেশীয় এভিয়েশন খাত। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের প্রতিটি টিকিটের দাম গড়ে হাজার টাকা এবং আন্তর্জাতিক রুটে ৫ হাজার টাকারও বেশি বেড়েছে। ভাড়ার এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ যাত্রীরা। চড়া মূল্যের কারণে যাত্রীসংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমনিতেই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় প্রায় স্থবির বিমান চলাচল, তার ওপর জ্বালানি মূল্যের ধাক্কা পরিস্থিতি অনেক জটিল করে তুলেছে। বড় ধরনের লোকসানে পড়ার আশঙ্কা করছে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলো। এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি বেড়েছে ১০৭ টাকা। এতে খাতটিতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে শুধু এয়ারলাইনস নয়, পর্যটনশিল্প এবং নিয়মিত আকাশপথের যাত্রীরাও দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

বেড়েছে টিকিটের দাম: অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে টিকিটের ওপর। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার কিংবা সৈয়দপুর সব রুটেই টিকিটের ন্যূনতম দাম এখন সাধারণের নাগালের বাইরে। আগে যেখানে ঢাকা-সৈয়দপুর বা ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় টিকিট পাওয়া যেত, বর্তমানে সেখানে ন্যূনতম ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার নিচে টিকিট মিলছে না। শেষ মুহূর্তের টিকিটের ক্ষেত্রে এই দাম ১০ হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-যশোর রুটে টিকিটের দাম বেড়েছে ১ হাজার টাকা, অন্য পাঁচটি রুটে বেড়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা। এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী ইমরান আসিফ বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম ২০-২২ দিনে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ভাড়া না বাড়ালে চলছিল না। আশা করি, এটি অস্থায়ী।’

বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ার কারণে তাদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রা জানিয়েছে, গত এক বছরে জ্বালানির দাম যে হারে বেড়েছে, সে অনুযায়ী ভাড়া সমন্বয় না করলে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে পর্যটকদের জন্য যাতায়াত এখন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। আগে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় টিকিট মিললেও এখন ৭ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকার নিচে পাওয়া দুষ্কর। ঢাকা-যশোর-রাজশাহী রুটেও টিকিটের বাড়তি দামের কারণে যাত্রীরা সড়ক বা রেলপথে ঝুঁকছেন। আন্তর্জাতিক রুটেও একই চিত্র। ঢাকা থেকে কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই, জেদ্দা, রিয়াদসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতে যাত্রীদের ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত

‘সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিতর্কে রাজনীতিতে সঙ্কটের আভাস’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বা সংবিধান সংস্কার নিয়ে সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দলের (জামায়াত-এনসিপি) মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সরকার সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে, অন্যদিকে বিরোধী দল জুলাই সনদ অনুযায়ী সরাসরি সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি তুলেছে। তারা গণভোট অনুযায়ী জনগণের রায় মেনে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়নের দাবিতে আজ শনিবার বিক্ষোভ সমাবেশেরও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর আগে গত বুধবার সংসদ থেকে ওয়াকআউট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে সরকারি দল বলছে, দাবি আদায়ের নামে রাজপথে আগের মতো অরাজকতা করার চেষ্টা করা হলে সেটি কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাবি আদায় ও সেটি মোকাবেলায় সরকার ও বিরোধী দলের বক্তব্যে দেশে ফের বড় সঙ্কট তৈরি হতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার সংসদে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উত্থাপনকালে বলা হয়েছে, গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উত্থাপিত হচ্ছে না। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, আগামী ১২ এপ্রিলের পর এই অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে জাতীয় সংসদ গঠিত বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশগুলো এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তীতে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী নতুন বিল আনার সুপারিশ করেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো আবার নতুন করে বিল না আনা পর্যন্ত এগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ কমিটির রিপোর্টে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও গাজী নজরুল ইসলাম মোট ১২টি অধ্যাদেশের ওপর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিয়েছেন। প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত আকারেই পাস করার সুপারিশ করেছে কমিটি। এর মধ্যে সংশোধিত আকারে ১৫টি অধ্যাদেশ সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ গঠিত ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি পর পর তিনটি বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে এই চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করেছে।

বিএনপি মনে করে সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা একমাত্র সংসদের, কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বা সংস্কার পরিষদের নয়। তারা ‘জুলাই সনদ’কে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা দলিল মনে করে, যা সংসদের মাধ্যমে পাস হতে হবে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি মনে করে, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অনুমোদন দিয়েছে তাই এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও তার সুপারিশ বাস্তবায়ন করা আইনগত বাধ্যবাধকতা। এই অবস্থায় সরকার সংবিধান সংশোধনে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, তবে বিরোধী দল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এবং একই দাবিতে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউটও করেছে। মূলত, সাংবিধানিক কাঠামো বজায় রেখে সংস্কার (সরকার) বনাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায় অনুযায়ী দ্রুত ও আমূল সংস্কারের (বিরোধী দল) মধ্যে এই দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘সৌদি থেকে সার আমদানির অনিশ্চয়তা কাটেনি, বিকল্প উৎসে জোর সরকারের’। খবরে বলা হয়, এ পরিস্থিতিতে সারবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নিতে সরকারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। সংকট মোকাবেলায় সরকার অবশ্য সারের বিকল্প উৎসও খুঁজতে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নন-ইউরিয়া সার আমদানির জন্য চীন, মরক্কো ও আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং শিগগিরই চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ইউরিয়ার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পুরনো উৎসের পাশাপাশি ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে।

দেশের ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সৌদি আরব থেকে আমদানি করা হয়। চলতি বছরে সৌদি আরব থেকে ছয় লাখ টন ডিএপি আমদানির চুক্তি রয়েছে। এর আওতায় প্রতি মাসে ৪০ হাজার টন করে সার আনার কথা থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে আমদানি করা হয়েছে কেবল এক লট। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে মার্চের চালান আনা হয়নি। চলতি এপ্রিলে ৪০ হাজার টন ডিএপি আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও তা নির্ভর করছে জাহাজের সময়সূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার ওপর। এছাড়া আসন্ন আমন মৌসুমকে সামনে রেখে বিসিআইসি সৌদি আরব থেকে দুই লাখ টন ইউরিয়া আমদানি করতে চায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে সারের সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশের কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরব থেকে নিয়মিত আমদানি হওয়া সার পরিবহনে জটিলতা দেখা দেয়ার শঙ্কা বাড়ছে।

সার আমদানির জন্য জাহাজ ব্যবস্থাপনার কাজটি করে থাকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। চলতি মাসে সৌদি আরব থেকে ডিএপি আমদানির জন্য জাহাজ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং অ্যান্ড ট্রাম্পিং) ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘এপ্রিলে সৌদি আরব থেকে ডিএপি আমদানির বিষয়ে আমাদের এখনো কিছু জানানো হয়নি। তাছাড়া হরমুজ প্রণালিতে অনেক জাহাজ আটকে আছে। ফলে ওই পথে পণ্য আনায় কিছু জটিলতা তো থাকছেই।’

দেশে নন-ইউরিয়া সার যেমন ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি আমদানি করে থাকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। অন্যদিকে ইউরিয়া উৎপাদন ও আমদানির দায়িত্বে রয়েছে বিসিআইসি। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী দুই-তিন মাস দেশে সারের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকবে। ফলে বর্তমান স্বল্প মজুদ দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব। তবে জুলাই-আগস্টে আমন ধানের বীজতলা তৈরি ও রোপণ শুরু হলে সারের চাহিদা বেড়ে যাবে।

বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে গত বুধবার পর্যন্ত ইউরিয়ার মজুদ ছিল ৩ লাখ ৫৯ হাজার টনের মতো। জুন পর্যন্ত চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার টন। তবে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এ তিন মাসের আমন মৌসুমে ইউরিয়ার চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৬ লাখ ৬৫ হাজার টনে। বাড়তি এ চাহিদা মেটাতে সরকার এরই মধ্যে আমদানি কার্যক্রম জোরদার করেছে।

আজকের পত্রিকা

‘অন্তর্বর্তীর ১৩৩ অধ্যাদেশ: সংস্কারের বড় অংশ শঙ্কায়’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জারি করা কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং অনেকগুলো যাচাই-বাছাই করে পরে নতুন করে সংসদে তোলার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। অথচ যাচাই-বাছাই করতে চাওয়া অধ্যাদেশগুলো আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে অনুমোদন করা না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তেমনটা ঘটলে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শুরু হওয়া রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রমের বড় অংশ ভেস্তে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সরকার আইনে পরিণত না করে অনেক অগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করছে বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। গতকাল শুক্রবার তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সরকার বিচার বিভাগের সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে? এটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার করা হবে, এটা তারা মুখে যতটুকু বলে বাস্তবে কতটুকু করবে—তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু, ১৫টি সংশোধনীসহ পাসের জন্য গত বৃহস্পতিবার সংসদের কাছে সুপারিশ করে সংসদের বিশেষ কমিটি। আর সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশসহ চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তীকালে নতুন করে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করে কমিটি। কিন্তু ৯ এপ্রিলের মধ্যে বিল পাস না হলে রহিতকরণের চারটিসহ নতুন করে বিল আকারে উত্থাপনের ১৬টি অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

জুলাই জাতীয় সনদে সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয় স্থাপনে বিএনপির আপত্তি না থাকলেও অধ্যাদেশটি রহিতে মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী মত দিয়েছে বিশেষ কমিটি। এ ক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি—এটি বহাল থাকলে সরকারের সঙ্গে বিচার বিভাগের কাজের কোনো সমন্বয় থাকবে না। প্রধান বিচারপতি নিম্ন আদালতের বিচারকদের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের অধিকারী হবেন। একজন ব্যক্তির একক নিয়ন্ত্রণ বিচারকদের ক্ষতির কারণ হতে পারে। ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে বিরোধী দল এতে আপত্তি জানিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচার নিয়োগ অধ্যাদেশটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়েছে উল্লেখ করে বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিচার বিভাগের আলাদা সচিবালয় অধ্যাদেশ সরকার বাতিলের তালিকায় রেখেছে। কিন্তু এটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত। এটাকে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করার জন্য নতুনভাবে উত্থাপন করে বিচার-বিশ্লেষণের পর আইন হিসেবে পাস করা উচিত।

বিদ্যমান অধ্যাদেশ বাতিল করে ভবিষ্যতে নতুন করে তোলার সুপারিশ করা ১৬ অধ্যাদেশের মধ্যে আছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ। এ বিষয়ে কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, মানবাধিকার কমিশনকে সরকারের কোনো বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখা হয়নি। এটা বড় ধরনের অসংগতি।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘হাম কেন প্রাণঘাতী হলো’। খবরে বলা হয়, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত ১৯ দিনে হামের লক্ষণ নিয়ে ৯৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিদিনই নতুন করে মৃত্যুর খবর আসছে, যা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে ৬ মাসের নিচের শিশুদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ৩ এপ্রিল সকাল ৮টার মধ্যে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ১৫ মার্চ থেকে ১৯ দিনে ৯৪ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হলেও, প্রতিদিন কতজন মারা গেছে তার বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ নেই অধিদপ্তরের কাছে। নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। শুরুতে ১৩ জনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৯ জনে নামিয়ে আনা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ব্যাখ্যা দিয়েছে, জেলা পর্যায় থেকে ভুল তথ্য পাঠানোর কারণে কিছু মৃত্যু জাতীয় তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর। তবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে একজনের মৃত্যু যুক্ত করা হয়েছে।

রোগীর চাপ বাড়ছে গত ২৪ ঘণ্টায়। সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৪৭ জন। এমআইএস থেকে পাঠানো হাম বিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেশি সন্দেহজনক রোগী ঢাকায়; ৩১৫ জন, এরপর চট্টগ্রামে ১৯৯, রাজশাহী ১১২, খুলনা ৮৯, বরিশাল ৭৬, সিলেট ৭০, ময়মনসিংহ ৪৪, রংপুর ৪২ জন। এই সময়ে শনাক্ত হয়েছে ৪২ জনের। হাম রোগীও বেশি শনাক্ত হয়েছে ঢাকায়; ১৮, রাজশাহী ৮, চট্টগ্রামে ৪, খুলনা ৫, সিলেট ৫, রংপুর ১ ও বরিশাল ১ জন।

১৯ দিনে সন্দেহজনক রোগী এবং হাম শনাক্ত রোগী বেশি ঢাকা বিভাগে, তারপর রাজশাহীতে। ১৯ দিনে সন্দেহজনক সন্দেহজনক রোগী ৫ হাজার ৭৯২ জন। রোগী বেশি ঢাকায়; ২ হাজার ৩৯৪, এরপর বেশি রাজশাহী ১ হাজার ২৪৩, চট্টগ্রামে ৭১৭, খুলনা ৫৮২, বরিশাল ৩৫৯, সিলেট ২৫৬, ময়মনসিংহ ১২২, রংপুর ১১৯ জন। হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৭১ জনের। শনাক্ত রোগীও বেশি ঢাকায়; ৩৫৮, এরপর বেশি রাজশাহী ১৯৪, চট্টগ্রামে ১০২, খুলনা ৪১, বরিশাল ৩৮, সিলেট ১৯, ময়মনসিংহ ১৪, রংপুর ৫ জন। তবে কোন বিভাগে মৃত্যুহার বেশি, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা না পাওয়া, টিকাদানের হার কমে যাওয়া, মায়েদের অ্যান্টিবডির ঘাটতি, অপুষ্টি ও ডায়রিয়া, দেরিতে চিকিৎসা নেওয়া, ভুল ও অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিউমোনিয়াসহ জটিল সংক্রমণসহ কয়েকটি কারণে হাম এখন বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। দেশে প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগে এত শিশুমৃত্যু নতুন করে স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হবে। শিশুমৃত্যু ঠেকাতে টিকাদান এবং সচেতনতার বিকল্প নেই।


বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘অন্তর্বর্তীর ব্যর্থতা সরকারের ঘাড়ে’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকার পরিচালনায় দেড় বছর সময় পেয়েছিল নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সময়ের অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থতার দায় বর্তেছে বর্তমান সরকারের ঘাড়ে। শিশুর টিকাদান থেকে শুরু করে, জ্বালানি খাতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ নেমে গেছে তলানিতে। ব্যবসাবাণিজ্যে চলছে স্থবিরতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার পরিচালনায় যে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ছিল অযথা হস্তক্ষেপ করে সেটিকেই ভেঙে দিয়ে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে এমন একটি বিশৃঙ্খলায় ফেলে রেখে গেছে, যেটি সিস্টেমে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে নির্বাচিত সরকারকে। গভীর অর্থনৈতিক সংকট, স্বাস্থ্য খাতের বিশৃঙ্খলা, ব্যাংক খাতের অস্থিরতা, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা, জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা সামাল দিতে গিয়ে বর্তমান সরকারের সামনে এখন অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কঙ্কালটি প্রকাশ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের অব্যবস্থাপনার মর্মান্তিক পরিণতি হচ্ছে হামের ভয়াবহ প্রকোপ। এর ফলে হাসপাতালে শিশু মারা যাচ্ছে। অসহায় মা-বাবা বুঝতেই পারছেন না তারা কী করবেন। শুধু হাম নয়, পোলিও, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হাম-রুবেলা ও হেপাটাইটিস বি রোগ প্রতিরোধের জন্য যেসব টিকা দেওয়া হয় সেগুলোর সংকট রয়েছে বলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খবর আসছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যে কর্মসূচি অপারেশনাল প্ল্যান বা ওপির আওতায় টিকা কেনা হতো, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি ২০২৫ সালের আগস্টে বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে টিকা কার্যক্রম সংকটে পড়ে।

স্বাস্থ্য খাতের মতো জ্বালানি খাতেও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। গত জানুয়ারিতে দেশে এলপিজি গ্যাসের ভয়াবহ সংকট দেখা দেয়। ১৩০০ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার দাম বেড়ে ১৭০০ থেকে আড়াই হাজার টাকায় উঠে যায়। একপর্যায়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ করে দেয় পরিবেশকরা। গ্যাসের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার আগে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বর্তমান সরকারের সামনে তৈরি হয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট। শুধু যে শিল্প-কারখানা জ্বালানি পাচ্ছে না তা নয়, সাধারণ যাবাহনও ভুগছে জ্বালানি সংকটে। জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুরো উৎপাদনে যেতে পারছে না। এমনকি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর জনগণের ব্যাপক প্রত্যাশা পূরণে অন্তর্বর্তী সরকারের সদিচ্ছার অভাব ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রশাসনে রদবদল নিয়ে সমন্বয়হীনতা এবং অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতির কারণে দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে নির্বাচিত সরকারের কাজকর্মে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সিটি করপোরেশনের শীর্ষ পদে অদক্ষ লোক নিয়োগ দেওয়ায় পরিকল্পিত কাজ হয়নি। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই মশার প্রকোপ বেড়েছে রাজধানীতে। রাজস্ব প্রশাসনে সংস্কার করতে গিয়ে সেখানেও হযবরল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংস্কার নিয়ে আন্দোলনের জের ধরে একের পর এক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হয়। এতে করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় রাজস্ব প্রশাসনে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে রাজস্ব আয়ে। সরকারের আয় কমে যাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে ও অনুন্নয়ন ব্যয় সামাল দিতে কোটি কোটি টাকা ঋণগ্রহণ করতে হয় ইউনূস সরকারকে। সেই ঋণের বোঝা বর্তেছে বর্তমান সরকারের ঘাড়ে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের পাশাপাশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও তাদের ১৮ মাসে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ঋণগ্রহণ বেড়েছে। সব মিলিয়ে ইউনূস সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকায়। আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার।

সরকারের আয় কমলেও আসছে বাজেটে এসব ঋণের পরিশোধের চাপ পড়বে বর্তমান সরকারের ঘাড়ে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার শিল্প-বাণিজ্যের গলা টিপে ধরে। লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ডলার সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ছিল স্পষ্ট। আমানতকারীদের স্বার্থের কথা না ভেবে, কোনো ধরনের পরিকল্পনা ছাড়াই পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এসব ব্যাংকের সাধারণ শেয়ারধারীদের শেয়ার শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা সংকট সমাধানে বারবার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাতে কান দেয়নি কেউ। বরং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে, এলসি সুবিধা বন্ধ করে দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করেছে ইউনূস সরকারের প্রশাসন। অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর গতকাল ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় বলেন, দেশে বিনিয়োগ কম এবং মূল্যস্ফীতি সেভাবে কমেনি, যা অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সামষ্টিক অর্থনীতির অনেক সূচকই খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। আমাদের কর্মসংস্থান কমছে, বিনিয়োগ কমছে, রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কমছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য সংকট।

Nadim Ahammed

২ মাস আগে

একটি উন্নয়নশীল দেশ কেন এগোতে পারে না, তার পেছনে কিছু গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা কাজ করে: ১. প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়: যখন কোনো দেশের শক্তিশালী বাহিনী বা সংস্থাগুলো দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত সুবিধাকে বড় করে দেখে, তখন রাষ্ট্রের কাঠামো ভেঙে পড়ে। এর ফলে জবাবদিহিতা থাকে না। ২. সম্পদের অপচয় ও পাচার: প্রভাবশালীরা যখন শুধু নিজেদের কথা ভাবে, তখন দেশের টাকা জনকল্যাণে ব্যয় না হয়ে বিদেশে পাচার হয় বা বিলাসিতায় খরচ হয়। এতে সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো অপূর্ণ থেকে যায়। ৩. সার্বভৌমত্ব সংকট: অন্য দেশের সাথে যোগসাজশ বা ষড়যন্ত্রের ফলে দেশের নীতি নির্ধারণে বাইরের হস্তক্ষেপ বাড়ে। এতে দেশ নিজের প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, বরং পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ৪. মেধা পাচার: যখন সাধারণ মানুষ বা মেধাবীরা দেখে যে যোগ্যতার চেয়ে তোষামোদি বা ক্ষমতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তখন তারা দেশ ছেড়ে চলে যায়। একে ব্রেইন ড্রেন বলে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ক্ষতি করে।সহজ কথায়, যে দেশে সাধারণ মানুষের ইচ্ছা বা জাতীয় স্বার্থের চেয়ে বিশেষ কোনো শ্রেণির লোভ ও ক্ষমতা বড় হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব হয়ে পড়ে।

মন্তব্য করুন