পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে কিউট অষ্টম জাতীয় সার্ফিং প্রতিযোগিতা। গতকাল সকালে লাবনী পয়েন্টে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, বাংলাদেশ সার্ফিং এসোসিয়েশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ কে এম মুজাহিদ উদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি খন্দকার সাইফুল ইসলাম, স্পন্সর প্রতিষ্ঠান কিউটের কর্ণধার কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল এবং সার্ফিং এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে সরকার শুধু ক্রিকেট বা ফুটবলে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সার্ফিংসহ সব ধরনের খেলাধুলার উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আমারা সার্ফিংকে সমান গুরুত্ব দিতে চাই।’ এই টুর্নামেন্টকে সারা বছর চালু রাখার জন্য আয়োজকদের আহ্বান জানান তিনি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান যে, ইতোমধ্যে অনেক খেলোয়াড়কে বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে এবং আর্থিকভাবে দুর্বল ফেডারেশনগুলোকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে সার্ফাররা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে ভবিষ্যতে তাদেরও বেতন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।’ দেশের সকল খেলাকে সমান গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়ে আমিনুল বলেন, ‘আমাদের দেশে ফুটবল ক্রিকেট মোটামুটি একটা অবস্থানের উপর দাঁড়িয়েছে। সে অনুপাতে অন্যসব পিছিয়ে আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফুটবল ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্যসব খেলাকে সমান গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। যে কারণে আমি পিছিয়ে পড়া সার্ফিংয়ের উদ্বোধন করতে এখানে এসেছি’। এবারের প্রতিযোগিতায় তিনটি ক্যাটাগরিতে শতাধিক সার্ফার অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন যে এই আয়োজন দেশে সার্ফিং খেলাকে আরও জনপ্রিয় ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করবে। সার্ফিংয়ের উদ্বোধন শেষে কক্সবাজারের ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যান
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এসময় স্টেডিয়ামের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারের মতো মনোরম একটি জায়গায় বর্তমান অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক এবং জরাজীর্ণ। মাঠের অবস্থা কিছুটা গ্রহণযোগ্য হলেও খেলোয়াড় ও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এখানে নেই বললেই চলে। বিগত সময়ে এই প্রকল্পের আশানুরূপ অগ্রগতি না হলেও বর্তমান সরকার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে চায়।’ এই অঞ্চলকে একটি আধুনিক ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে এখানে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ট্যুরিজম প্রসারে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।’ প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, শুধু ক্রিকেট নয় বরং ফুটবল, ইনডোর গেমসহ সব ধরনের খেলার সুবিধাসম্পন্ন একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্স বা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের চিন্তা রয়েছে তাদের। এরপর কক্সবাজার জেলা স্টেডিয়াম ও সন্ধ্যায় কক্সবাজার বিকেএসপি পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেন।
‘ছোট বড় সব খেলাকে সমান গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’
স্পোর্টস রিপোর্টার
৪ এপ্রিল (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
