সাবেক প্রেসিডেন্টের কেন্দ্রে জামায়াত প্রার্থী পেলেন সর্বোচ্চ ভোট

ফন্ট সাইজ:

সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের নিজ কেন্দ্র কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা কেন্দ্রটিতে ভোট দিয়েছেন। গতকাল বেলা ১২টায় কেন্দ্রটিতে গিয়ে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সুশৃঙ্খলভাবে সেখানে তাদের লাইনে দাঁড় করানোর দায়িত্ব পালন করছেন। কেন্দ্র সংলগ্ন আবদুল হামিদের বাড়ির সামনে কয়েকশ’ নারী-পুরুষ ভোটারের জটলা দেখে সেখানে গিয়ে তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা চেয়ার-টেবিল পেতে বসা প্রার্থীদের কর্মীদের কাছ থেকে ভোটের স্লিপ সংগ্রহ করছেন। ভোট দিতে আসা খিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক (৭৭) বলেন, ‘বহুৎ দিন ধইরা ভোট দিতে পারি নাই। শেষ বয়সে ভোট দেওনের সুযোগ হইছে। তাই ভোট দিতাম আইছি।’ কামালপুর গ্রামের নূর বানু (৭৬) বলেন, ‘একলা একলাই আইছি ভোট দেওনের লাগি। গতবার আমার ভোট চুরি হইছিল, এইবার মনে হয় ভোটটা দিতাম পারাম।’ প্রবীণ ভোটারদের সঙ্গে ভোট দিতে এসেছেন নবীন ভোটাররাও। ভোটকেন্দ্রে কথা হয় গৃহিণী মায়া রানী বণিকের (৪৫) সঙ্গে। তিনি ‘হামিদ পল্লী’ থেকে এসেছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকদিন তিনি ভোট দিতে পারেননি। এবার স্বামীর সঙ্গে ভোট দিতে এসেছেন। অনেকদিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট আয়োজন দেখে ভালো লাগছে। কামালপুর গ্রামের নতুন ভোটার আব্দুল্লাহ আল মামুন ভোট দিতে পেরে বেশ খুশি। আবেগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবনে প্রথম ভোট দিছি। খুব আনন্দ লাগতাছে আমার।’ কেন্দ্রটিতে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকেই এই কেন্দ্রে ভোটারদের ভিড়। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ হাজার ৮৫০ জন, পুরুষ ভোটার ১ হাজার ৭৭৯ জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। সাতটি বুথে তাদের ভোট নেয়া হচ্ছে। মিঠামইন ছাড়াও ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলা নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসন। সন্ধ্যার পর সাবেক প্রেসিডেন্টের বাড়ির কেন্দ্রটির ভোট গণনার পর জানা যায়, কেন্দ্রটিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর প্রার্থী এডভোকেট রোকন রেজা শেখ বেশি ভোট পেয়েছেন। তিনি এখানে ১ হাজার ১৬৩ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে এ আসনের বিএনপি প্রার্থী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান পেয়েছেন ৭০০ ভোট। এদিকে বেলা ২টায় মিঠামইনের আতপাশা মামুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে যান বিএনপি প্রার্থী এডভোকেট ফজলুর রহমান। তখন ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ধানের শীষ এই আসনে বিশালভাবে জয়লাভ করবে। এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। কিন্তু এইখানে সেনাবাহিনীর ভূমিকাটা মানুষকে খুব প্রশ্নবিদ্ধ করতেছে। তারা আইসাই প্রথমে পিটানো শুরু করে। যেখানে যাচ্ছে সেখানে পিটাচ্ছে শুধু। কেন পিটায়, কি কারণে, কার কি অপরাধ এই কথাটা তারা একটু ভাববে না। তারা তো স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবেই আমরা জানি। তাদের আমি সাংঘাতিকভাবে সম্মান করি। কিন্তু তারা এই কাজটা কেন করলো আমার মনে একটু ব্যথা লাগছে। এতদিন লাগে নাই। আজকে তাদের কাজে ব্যথা লেগেছে। যেখানেই মানুষ দেখছে সেখানেই তারা পিটাইছে। আর মানুষ মানেই হইলো এখানে বিএনপি’র মানুষ। কারও হাত ভাঙছে কারোর পিঠের চামড়া উঠে গেছে। এই অবস্থায় মানুষ অনেক সেন্টারে ভয়ে কম ভোটার গেছে। এটা শুধু তাদের অতি শাসনে। এটা আমার কাছে মনে হইছে। তাদের মধ্যেও কিছু লোক আছে যাদের মধ্যে সহৃদয়তা আছে বলেই মনে হইছে। ফজলুর রহমান আরও বলেন, সার্বিকভাবে প্রশাসনের অবস্থা আমার কাছে খারাপ মনে হয় নাই। ভালোভাবেই পরিচালনা করার চেষ্টা করছে। তারা ভোটটা হোক এভাবে চেষ্টা করছে। ফজলুর রহমান বলেন, কর্মী তো সব বিএনপি’র। অন্য দলের কর্মী তো গতকাল হইছে, পরশুদিন হইছে। এদের তো আগে কর্মী ছিল না। আমার এলাকায় দুই গণ্ডা লোক ছিল না একটা ইউনিয়নে। গত পরশুদিন থেকে তাদের দেখা গেছে। তাদের কথা আমার মনে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে রাজাকারদের যারা সমর্থন করে তাদের কথা আমার মনে থাকবে। তবে আমরা জানি আমরা বিশালভাবে জয়লাভ করবো। এর আগে সকাল ৮টা দুই মিনিটে ফজলুর রহমান ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের ডুইয়ারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। এ সময় ফজলুর রহমানের স্ত্রী এডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা ও ছেলে ব্যারিস্টার অভিক রহমান তার সঙ্গে ছিলেন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন