ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনভর নিরাপত্তা দিয়ে সুনাম কুড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এবারের ভোটে বিভিন্ন বাহিনীর শক্তিশালী ভূমিকার কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এতে করে ভোটার ও প্রার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব ও আনসার সদস্য মিলিয়ে মোট ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করেছেন। চেকপোস্ট, তল্লাশি, টহলের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের ভেতরেও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি এবং সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটাররা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু রাখতে এবার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন ছিল। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যের শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়, যাতে কেন্দ্রের ভেতর-বাইরের কার্যক্রম রেকর্ড থাকে। একাধিক ভোটার বলেন, আগের নির্বাচনের তুলনায় এবার নিরাপত্তা বেশি চোখে পড়েছে। কেন্দ্রে ঢোকা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত কোনো ঝামেলা হয়নি। বারিধারায় ডিওএইচএসে স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে সোবহান ইসলাম নামের একজন ভোটার বলেন, বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকায় কেউ অনিয়ম করতে সাহস পায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বডি ওর্ন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও প্রয়োজন হলে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এতে ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার অভিযোগ উঠলে দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। বড় ধরনের কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও ফলাফল মেনে নেয়ার বক্তব্য এসেছে। টিভি স্ক্রিনে দেখলাম, উভয় দলই বলছে ফলাফল যাই হোক তারা মেনে নেবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকৃত কেন্দ্রসমূহের মধ্যে ছিল টিঅ্যান্ডটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খিলগাঁও মডেল কলেজ এবং খিলগাঁও মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। পরিদর্শনকালে তিনি কেন্দ্রসমূহে গৃহীত সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রস্তুতি ও তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। ঢাকা মহানগরের ভোটকেন্দ্রসমূহে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৭ হাজার ৭০৩ জন আনসার ও নগর প্রতিরক্ষা দল (টিভিপি) সদস্য স্ট্যাটিক ডিউটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে আনসার ব্যাটালিয়নের ৩৭টি স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক মোতায়েন ছিল।
নির্বাচনের আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনে যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুরোপুরি সতর্ক অবস্থানে মাঠে ছিল সেনাবাহিনী। ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি, বডি ওর্ন ক্যামেরা, ড্রোন নজরদারি, নিয়মিত টহলের মাধ্যমে উৎসব মুখর ভোটগ্রহণে সচেষ্ট ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ভোটকেন্দ্রের ভেতরের নিরাপত্তা ছাড়াও বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ও রিজার্ভ ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে রয়েছে পুলিশের বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াট, কে-নাইন ও ক্রাইম সিন ভ্যান।
দিনভর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা
স্টাফ রিপোর্টার
১৩ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
