দিনভর যা দেখা গেল

ঢাকা-৫ আসন

দিনভর যা দেখা গেল

ফন্ট সাইজ:

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ আসন। এই আসনে দক্ষিণ সিটির ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ড। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন আর মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন। এই আসনে মোট প্রার্থী ১১ জন তবে বিএনপি’র নবী উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর মো. কামাল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলনের মো. ইবরাহিমের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। গতকাল দিনভর এই আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে নানা চিত্র দেখা গেছে।

ঢাকা-৫ আসনের শনিরআখড়া এলাকার গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের কর্মী মো. রাসেল ও মন্টু খান বলেন, হাতপাখা মার্কার পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, পাঁচজন পোলিং এজেন্ট রাখা যাবে এর বেশি অনুমতি নেই। হাতপাখা মার্কার পক্ষ থেকে সাতজন উপস্থিত ছিলেন তাই আইন অনুযায়ী বাড়তি দু’জনকে উপস্থিত থাকতে দেয়া হয়নি। এই আসনে হাতপাখা মার্কা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের প্রার্থী মো. ইবরাহিম। এই আসনে ১১ জন প্রার্থী থাকলেও সব প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। ৫২ নম্বর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান এই কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা ৩৯২৪ জন। সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ভোট কাস্ট হয় ২২৪টি। এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রার্থীর বিষয় এখানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে যারা এজেন্ট দিয়েছে তারা ঠিক মতোই কাজ করছেন।

সরজমিন নগরীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন শেখদি আব্দুল্লাহ মোল্লা হাই স্কুল গোবিন্দপুর প্রাইমারি স্কুল, মিশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানো। প্রিজাইডিং অফিসাররা তাদের কক্ষে বসে সেগুলো নজরদারি করছেন। মিশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা মোহরজান কাজল জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোট দিতে পারেননি তিনি। ভোট দিতে পেরে খুব খুশি। তিনি এর আগে ৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ এর নির্বাচনে ভোট দেয়া মোহরজান বলেন, যেই পাস করুক দেশে শান্তি কায়েম হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে এটাই প্রত্যাশা।
বেলা ১১টার দিকে শেখদী আব্দুল্লাহ মোল্লা হাই স্কুল কেন্দ্রের কাছে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা মার্কার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এ সময় বাকবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ নিয়ে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মোহাম্মদ মাসুম বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে দু’জন প্রার্থী কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ায় মানুষের ভিড় বেড়েছিল। বিএনপি’র প্রার্থী নবী উল্লাহ ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. কামাল হোসেন কেন্দ্রে উপস্থিত হলে তাদের সমর্থকরা নিজ নিজ দলের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকায় একটু উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল তবে অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি। শেখদি আব্দুল্লা মোল্লা মোল্লা স্কুলে পুরুষ ও মহিলা ভোটারের মোট ছয়টি কেন্দ্র।

কেন্দ্রগুলোতে সরজমিন দেখা যায়, জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। সকাল দশটায় শেখদী আব্দুল্লাহ মোল্লা স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে যান ৭৮ বছর বয়সী জহুরা খাতুন। ভালোমতো হাঁটতে পারেন না, চোখে অস্পষ্ট দেখেন পুত্র খোরশেদ আলমের কাঁধে হাত রেখে ভোটকেন্দ্রে হাজির জহুরা খাতুন বলেন, আমি ৭০ সাল থেকে ভোটার কিন্তু গত কয়েক বছর নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি। তবে এবার চারদিকে খুশি খুশি ভাব দেখে আমিও সকাল-সকাল ভোট দিতে চলে এসেছি, আমার ছেলেকে বলেছি আমাকে নিয়ে যাও। যেই পাস করুক আশা করি নতুন সরকার দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি। লাঠিতে ভর করে ভোট দিতে কেন্দ্রে হাজির হন ৭০ ঊর্ধ্ব বয়সের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মো. আব্দুর রব মো. ইয়াসিন আলী ও মো. কামাল পাশা। একই কেন্দ্রে ভোট দিতে যান অসুস্থ দম্পতি মোহাম্মদ মানিক ও রেনু বেগম। জ্যেষ্ঠ নাগরিক নুরুল ইসলাম বলেন, এবারের ভোটাভুটি নিয়ে সবাই উচ্ছ্বসিত গত কয়েকবারের মতো একতরফা সাজানো নির্বাচন নয় তাই আমরাও খুব খুশিমনে ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়েছি , অসুস্থতা বাধা হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন