জামালগঞ্জ ফেরিঘাটে সিঁড়ি নির্মাণে ধীরগতি, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

জামালগঞ্জ ফেরিঘাটে সিঁড়ি নির্মাণে ধীরগতি, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলাকে দ্বিখণ্ডিত করে বয়ে চলা সুরমা নদীর ওপর নির্ভরশীল সাচনা-জামালগঞ্জ ফেরিঘাট-দুই পাড়ের লাখো মানুষের একমাত্র ভরসা। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটেই এখন চলছে অব্যবস্থাপনা, ধীরগতি আর চরম ভোগান্তির এক নির্মম চিত্র। চলমান সিঁড়ি নির্মাণকাজ যেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিকে উপহাস করে দুর্ভোগের নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।
জানা গেছে, জামালগঞ্জ সরকারি মডেল স্কুল সংলগ্ন খেয়া ঘাটে সিঁড়ি নির্মাণে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রায় ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালতি এন্টারপ্রাইজ। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী চলতি চৈত্র মাসের শেষ নাগাদ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি নেই। প্রায় চার মাস আগে পিলার ও রড বসিয়ে কাজ শুরু হলেও এরপর কার্যত থমকে আছে নির্মাণকাজ এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন জামালগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা ও মোহনগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার মানুষ সুরমা নদী পাড় হয়ে সাচনাবাজার, জেলা শহর ও বিভাগীয় শহর সিলেটে যাতায়াত করেন। একইভাবে নদীর ওপাড়ের শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ উপজেলা সদরে আসেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাটের নির্মাণকাজে দীর্ঘসূত্রতা দুই পাড়ের মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগকে ভয়াবহ রূপ দিয়েছে।
সরজমিন দেখা যায়, জামালগঞ্জ পাড়ের ঘাটে কাজ বন্ধ থাকায় যাত্রীরা একটি সরু, ভাঙাচোরা ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথ দিয়ে চলাচল করছেন। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পথ কর্দমাক্ত হয়ে যায়, ফলে প্রতিনিয়ত পা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। খেয়া নৌকায় ওঠানামার সময় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময়ই থাকছে। অন্যদিকে সাচনাবাজার অংশের ঘাটটি অত্যন্ত খাড়া হওয়ায় যাত্রীদের ওঠানামা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন যাত্রী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, এই সাচনা-জামালগঞ্জ ফেরিঘাট থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় অর্ধকোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করে। জনপ্রতি ৫ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হলেও সেই অনুপাতে যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি বরং অব্যবস্থাপনা দিন দিন বাড়ছেই। ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢলে ফেরিঘাট এলাকায় ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, ঠেলাঠেলি আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
গার্মেন্টসকর্মী রিপা দাস বলেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয়। আগে অন্তত একটা চলার পথ ছিল, এখন সেটাও নেই। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালতি এন্টারপ্রাইজের মালিক বাপ্পি বলেন, খুব দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। আশা করি চলতি মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। জামালগঞ্জ উপজেলা এলজিডি’র সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন বলেন, কাজের গতি কিছুটা ধীর হলেও আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। আশা করছি ঠিকাদার দ্রুত কাজ শেষ করবেন। ফেরিঘাটের ইজারাদার শাহ মো. শাহজাহান বলেন, বছরের দুই ঈদই আমাদের মূল আয়ের সময়। কিন্তু ঈদুল ফিতর চলে গেল নির্মাণকাজের অজুহাতে। ঠিকাদারের গাফিলতিতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। সামনে বর্ষা মৌসুমে কাজ শেষ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন- প্রতি বছর বিপুল রাজস্ব আদায় হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে কেন ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না? কেন নির্ধারিত সময়েও কাজ শেষ হয় না? আর কবে শেষ হবে এই দুর্ভোগ? এ সব প্রশ্নের জবাব খুঁজছে জামালগঞ্জের সাধারণ মানুষ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন