রাজধানীর লক্ষ্মীবাজার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে মুখোমুখি হন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দুই প্রার্থী। তারা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে বলেন, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু পরিবেশে চলছে এবং এখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
গতকাল দুপুরে কেন্দ্রটিতে একই সময়ে উপস্থিত হন ইশরাক হোসেন ও ড. আব্দুল মান্নান। কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তারা। উভয় প্রার্থীই জানান, এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাননি এবং ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। জনগণের রায়ই চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে আসবে।
ঢাকা-৬ আসন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৪, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৫১৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। এ আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। আর জামায়াত জোটের প্রার্থী ড. মো. আব্দুল মান্নান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়ছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির আমির উদ্দিন আহমেদ (ডালু) লাঙ্গল প্রতীক, গণফ্রন্টের আহম্মেদ আলী শেখ মাছ প্রতীক, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. আকতার হোসেন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. ইউনুস আলী আকন্দ এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)-এর মো. ফখরুল ইসলামও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
দুপুরে টিকাটুলীর কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন ইশরাক হোসেন। ভোটদান শেষে তিনি বলেন, ফলাফল যাই হোক তা মেনে নেবেন। নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভালো রয়েছে এবং ভোটার উপস্থিতিও সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, পুরান ঢাকার মানুষ একটু দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন। তাই দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশা করছি। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের রায়ই চূড়ান্ত।
সকাল ১০টার দিকে টিকাটুলির কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দেন ইশরাক হোসেনের মা ইশমত আরা। ছেলের জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছি। ভোটারদের উপস্থিতিও ভালো। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখছি, ইনশাআল্লাহ আমার ছেলে বিজয়ী হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। একজন মা হিসেবে সন্তানের জন্য দোয়া করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। ইশরাক মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছেন বলেই ভোটাররা তাকে সমর্থন দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনটি কেন্দ্রে এগিয়ে রয়েছেন ইশরাক হোসেন। কামরুন্নেছা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের তিনটি কেন্দ্র- ৩৩, ৩৪ ও ৩৫ নম্বর কেন্দ্রের সমন্বিত ফলে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে মোট ২ হাজার ৮০০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ১ হাজার ৯৩৬ ভোট।
৩৩ নম্বর কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ৪৮১টি ভোটের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে পড়েছে ৮১২ ভোট। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ৬১৬ ভোট। এ কেন্দ্রে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ হাজার ৩৩টি এবং ‘না’ ভোট ৪১৫টি।
৩৪ নম্বর কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ৮৮৮টি ভোট সংগৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে পড়েছে ১ হাজার ৮৭ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭২৫ ভোট। এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ হাজার ৫১৫টি এবং ‘না’ ভোট ৩১৫টি।
৩৫ নম্বর কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে পড়েছে ৯০১ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৫৯৫ ভোট। এ কেন্দ্রে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ হাজার ৬১টি এবং ‘না’ ভোট ৪৩১টি।
