চট্টগ্রামে বিভিন্ন কেন্দ্রে জালভোটের অভিযোগ

চট্টগ্রামে বিভিন্ন কেন্দ্রে জালভোটের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন কেন্দ্রে জালভোট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকে নগর ও জেলার একাধিক আসনে এ ধরনের অভিযোগে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, কিছু কেন্দ্রে বহিরাগতদের এনে ভোট প্রদান, একই ব্যক্তির একাধিকবার ভোট দেয়ার চেষ্টা এবং ভোটারদের লাইনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ে শিথিলতা ছিল বলেও অভিযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকরা। চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-১০ ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের কয়েকটি কেন্দ্র থেকে এ ধরনের অভিযোগ আসে। চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-পাহাড়তলি) আসনের পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকেন্দ্রে জালভোটের অভিযোগ তুলেছেন ইশরাত পারভীন নামে এক নারী ভোটার। তিনি বলেন, এটা কোন ধরনের নিয়ম? এখন সুশৃঙ্খলভাবে ভোট হবে, তবুও আমি গিয়ে দেখি আমার ভোট আরেকজনে দিয়ে দিছে। পরে আবার ওনারা আমার পেপার ঠিক করে ভোট দিতে দিছে। চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে পূর্ব মোহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটার আরিফুল হাছান জিকু বলেন, আমি ভোট দিতে এসে দেখি আমার ভোট আরেকজন দিয়ে দিছে। পরে আমার থেকে আলাদা করে ভোট নিলেও তা ব্যালট বাক্সে জমা দিতে দেয়নি। এ বিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, অভিযোগটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী নতুন করে ভোটের ব্যবস্থা করি। একই আসনে আবু বক্কর (২৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে সেনাবাহিনী। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মাহাবুব ইসলাম বলেন, নিজের ভোট প্রদান করার পর পুনরায় গোপন কক্ষে ঢুকে আরেকজন ভোটারকে ভোট দিতে সহযোগিতা করার সন্দেহে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর অগ্রিম নেয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া) আসনের আলী আহমেদ প্রাণহারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ফরিদুল আলমকে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা খন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, একজন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে যেহেতু বিকল্প প্রিজাইডিং কর্মকর্তা রয়েছে তাই ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে চলছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন- জালভোটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ চলছে। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে বিভিন্ন কেন্দ্রে জালভোটের অভিযোগ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন