করোনা ও ডেঙ্গু মোকাবিলার অভিজ্ঞতাকে হাম প্রতিরোধে কাজে লাগাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ। কর্মকর্তারা বলছেন; হাম নিয়ে সিলেটে এখনো আতঙ্ক কিংবা হুড়োহুড়ি নেই। সাসপেক্টেড অনেক রোগীই হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু রেজাল্ট আসছে নেগেটিভ। খুব কমই আসছে পজিটিভ রেজাল্ট। ফলে সিলেটের পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ধরছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে হাম যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে কারণে গত সপ্তাহ থেকেই সিলেট নগরে বাড়ি বাড়ি সার্চিং করছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠকর্মীরা। সন্দেহ হলেই রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সার্চিংয়ের রেজাল্টও খুব সন্তোষজনক। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদ হোসেন মানবজমিনকে জানিয়েছেন-আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম তার ধারে কাছেও রোগী নেই। দুইদিন নগরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে টানা সার্চিং করা হয়েছে। কয়েকশ’ ঘরে খবর নিয়ে একজন রোগী পাওয়া গেছে। সেই রোগী হাম আক্রান্ত কি না, সেটি পরীক্ষা করার পর জানা যাবে। তার মতে কয়েকশ’ জনের মধ্যে একজন সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যায় সিলেট নগরের পরিস্থিতি ভালো। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের এ কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানিয়েছেন- রোগী নেই বললে কার্যক্রম থামিয়ে রাখা হবে না। আমরা নগর জুড়ে সার্চিং করে যাবো। যেভাবে করোনা ও ডেঙ্গুতে সার্চিং করা হয় সেভাবে করা হবে। রোগীকে চিহ্নিত করে তার চিকিৎসা দিতে পারলে দ্রুত সারিয়ে তোলা সম্ভব হবে বলে জানান- তিনি। তবে এ নিয়ে অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে-স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান মতে সিলেট বিভাগে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২২ জন। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র একজন রোগী হাম শনাক্ত হয়েছে। ঢাকার ল্যাব’র ফলাফলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে- গত জানুয়ারি মাস থেকে মার্চ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ২২ জন হাম রুবেলা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ৫ জন, মৌলভীবাজারে ৭, সুনামগঞ্জে ৪ ও সিলেটে ৬ জন। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০ জন। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪, রাগিব-রাবেয়া হাসপাতালে ১, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ১, পার্ক ভিউ হাসপাতালে ১, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১, ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৫জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ৬৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন বিশেষায়িত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। সিলেট জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির আহমদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে কেউ মারা যায়নি। এ পর্যন্ত যারা হাসপাতাল ছেড়েছেন তারা সুস্থ হয়েই বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানান তিনি। এছাড়া সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এদিকে- হাম সার্চিং কেন গুরুত্বপূর্ণ- বিষয়টি নিয়ে জানিয়েছেন সিটি’র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিনি জানিয়েছেন-এটি সংক্রামক ব্যধি। যেহেতু সিলেটে রোগী পাওয়া গেছে সুতরাং রোগটি ছড়াতে পারে। এ কারণে সার্চিংয়ের পাশাপাশি জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। মানুষ সচেতন হলে রোগ ছড়াবে না। শুধু এটিই নয়, সিলেট সিটি করপোরেশন আগামীকাল রোববার থেকে নগর এলাকায় হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। গোটা নগরের বিভিন্ন এলাকায় এ টিকা দেয়া হবে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় টিকা কার্যক্রম চলবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন- সিটি করপোরেশন এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা উন্নত করতে বর্তমানে কাজ চলছে। হাম প্রতিরোধ কার্যক্রমও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিলেটে সার্চিংয়ে নেমেছে সিটি’র মাঠ স্বাস্থ্যকর্মীরা
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে
৪ এপ্রিল (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
