ঝুঁকিপূর্ণ আসনে শান্তিপূর্ণ ভোট

সরজমিন ঢাকা ১৪

ঝুঁকিপূর্ণ আসনে শান্তিপূর্ণ ভোট

ফন্ট সাইজ:

সকাল ৭টা থেকে ঢাকা-১৪ আসনের ভোটকেন্দ্রের বাইরে লাইন ধরে দাঁড়ান ভোটাররা। সাড়ে ৭টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। শুরুতে উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ভোটাদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তরুণ ভোটাররা প্রথমবার ভোট দিয়ে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কেউ নতুন জামা পরে ভোট দিতে এসেছেন। কেউবা পুরনো জামায় নতুন সরকার গঠন করতে এসেছেন। কেউ এসেছেন একা, কেউবা পুরো পরিবার নিয়ে।

সবার উদ্দেশ্য ভোট দেয়া। মিরপুর-২ নম্বর এলাকায় গ্রামীণ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত মিরপুর কলেজ সেন্টার। সরজমিন দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটাররা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিতে যান। সকাল ৭টা থেকে সেন্টারের সামনে ভোটারদের ভিড় করতে দেখা যায়। মো. শামসুল হক নামের এক ভোটার মানবজমিনকে বলেন, ভোটগ্রহণ শুরুর আধাঘণ্টা আগে এসেছি। দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে পারছি। আমাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিতে চাই। ভোট দিয়ে বের হয়ে মো. কামরুল হাসান মানবজমিনকে বলেন, শেষ কবে ভোট দিয়েছি মনে নাই। এবার শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে। প্রথমবার ভোট দিয়ে রাব্বি বলেন, নতুন জামা পরে ভোট দিতে এসেছি। আমার কাছে ঈদের দিনের মতো লাগছে। আশা করছি, সারা জীবন এভাবে ভোট দিতে পারবো। এই সেন্টারের পাশেই মিরপুর মহিলা কলেজ সেন্টার। ভোট দিয়ে বের হওয়ার পর কথা হয় এক মা ও মেয়ের সঙ্গে। মায়ের হাত ধরে ভোট দিতে যান মেয়ে ইফতি শামসুভা। ইডেন মহিলা কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি। মা স্বাধীনা মঞ্জুরি গৃহিণী। মেয়ের প্রথম ভোট। তাই হাত ধরে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু কে কাকে ভোট দিয়েছেন জানেন না কেউ। ভোট দিতেও নেই পারিবারিক চাপ। পারিবারিকভাবে ভোট দেয়ার স্বাধীনতা পেয়েছেন বলে জানান। ভোট দিয়ে বের হয়ে মা স্বাধীনা ও মেয়ে ইফতির কথা হয় মানবজমিন-এর সঙ্গে। রংপুরের বেড়ে ওঠা স্বাধীনা মঞ্জুরির। স্বামীর চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকা। সন্তানদের পড়াশোনার কারণে আর ফেরা হয়নি। দীর্ঘদিন থাকার কারণে এখানেই ভোটার হয়েছেন। এদিকে, একই কেন্দ্র পরিদর্শনে যান সানজিদা ইসলাম তুলি ও মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। দুপুর ২টার দিকে বশির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান তারা। সেখানে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী একে-অপরের সঙ্গে খুনসুটি করতে দেখা যায়। তারা ভোটারদের একে-অপরকে ভাই-বোন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। নির্বাচনের পরে একসঙ্গে কাজ করারও অঙ্গীকার করেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড এবং সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ও বনগাঁও ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ঢাকা-১৪। ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪ জন ভোটারের আসনটি ছিল উৎসব আর আমেজের। মিরপুর থেকে সাভারের কাউন্দিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এ আসনে মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী, ভাড়াটে বাসিন্দা ও তরুণ ভোটারের সংখ্যা বেশি। কিশোরগ্যাং, মাদক ও নিরাপত্তা ইস্যু ছিল নির্বাচনী আলোচনায়। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলেও অবিহিত করেছিলেন সেনাবাহিনীর মিরপুর ক্যাম্প কমান্ডার লে. কর্নেল এসএম ফুয়াদ মাসরুর। কিন্তু সব কিছুকে পেছনে ফেলে নতুন এক নির্বাচন দেখলো এখানকার মানুষ। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন হয়েছে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক। তরুণ থেকে বৃদ্ধ সকলের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক।

এ আসনে ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন বিএনপি মনোনীত সানজিদা ইসলাম তুলি ও জামায়াতের মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে দু’জনকেই নিশ্চিন্তে থাকতে দেননি বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু। এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু ইউসুফ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রিয়াজ উদ্দিন, গণফোরামের মো. জসিম উদ্দিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মো. সোহেল রানা, এবি পার্টির মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র নুরুল আমিন, জাতীয় পার্টির মো. হেলাল উদ্দীন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. লিটন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. ওসমান আলী।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন