সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের কিছু দুর্বলতা ও অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও এই নির্বাচন দেশবাসী উপভোগ করেছে বলে মনে করে জামায়াত। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে তাৎক্ষণিক এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম, এনসিপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মনিরা শারমিন, এবি পার্টির নেতা আলতাফ হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, দপ্তর সম্পাদক মো. মিরাজ খান, খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, এলডিপি’র উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান, জাগপা’র প্রচার সম্পাদক এস এম জিয়াউল আনোয়ার ও ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দীন খালেদ। এডভোকেট জুবায়ের বলেন, ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৪টায় নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে, কোনো কোনো জায়গায় গণনাও শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিগত ’১৪, ’১৮ ও ’২৪ সালের নির্বাচনে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি- যেহেতু ফ্যাসিবাদী সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল। বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতি- সবকিছুকেই তারা ধ্বংস করেছিল। এ ধ্বংসস্তূপের ওপর চব্বিশের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের ফলে যে সরকার গঠিত হয়েছে সেই অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি অগ্রাধিকার ছিল। এর মধ্যে ছিল বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। আজ সেই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের মানুষ গভীর আগ্রহের সঙ্গে ছিলেন এবং তারা এতে অংশগ্রহণ করেছেন। এডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, আমরা ৫২ হাজার ৫০০-এর কিছু বেশি কেন্দ্রের ফলাফল পাবো। একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। পোস্টাল ভোট, গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা হবে। আমরা ও দেশবাসী গভীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি। তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি এই নির্বাচনে সবার আন্তরিকতা ছিল; সবাই চেষ্টা করেছেন। এই চেষ্টার ফলে বাংলাদেশে একটি অনন্য ও সাধারণ নির্বাচন হয়েছে, যে নির্বাচনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তিনি বলেন, বেশ ক’টি আসনের ভোটকেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি, হুমকি দেয়া হয়েছে; কোনো কোনো জায়গায় শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, নির্বাচনী কাজে জড়িতদের হুমকি-ধামকি দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে জানিয়েছি-তারা চেষ্টা করেছেন। এরপরও কিছু কিছু জায়গায় এ ধরনের অনিয়ম হয়েছে, কিছু বাধা-প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম একটি সচেতন জনগোষ্ঠী সব ধরনের সন্ত্রাস ও চক্রান্ত রুখে দিতে পারে; বাংলাদেশের মানুষ সেটি প্রমাণ করেছে। এডভোকেট জুবায়ের বলেন, গতকাল থেকে বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া ট্রায়াল দেখেছি। অনেক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছিল।
সবকিছুকে ব্যর্থ প্রমাণ করে দিয়ে সাধারণ মানুষের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও নির্বাচনকে অর্থবহ করার ক্ষেত্রে দেশবাসীর চমৎকার অংশগ্রহণ ছিল। তিনি বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কিছু দুর্বলতা ও অনিয়মসহ সামগ্রিকভাবে এই নির্বাচন দেশবাসী উপভোগ করেছে। এই নির্বাচনে দেশবাসী অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে- দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সবার দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন। সেই কাজটি আমরা করার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে যে অনিয়ম ও সন্ত্রাসী কাজগুলো হয়েছে, হামলার ঘটনা ঘটেছে- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি। তিনি বলেন, আমরা ১১ দলীয় জোট এবং বাংলাদেশ সবসময় নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম এবং আছি। এই ধরনের সচেতন ও দায়িত্বশীল জনগোষ্ঠী ও জাতি কখনো হার মানে না। এ জাতি হার মানবে না, অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ আমরা দেখতে চাই।
