খুলনায় ভোটারদের মধ্যে তরুণ, নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়েছে। এ ছাড়া, অধিকাংশ কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এজেন্ট ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকের এজেন্টকে দেখা যায়নি। এদিকে, খুলনা-৬ আসনের কয়রা উপজেলায় ভুয়া এজেন্ট সেজে দায়িত্ব পালন করার অভিযোগে ১১ জনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সারাদিনে দুই-একটি ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া খুলনা মহানগরীসহ জেলার ছয়টি আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য ভোট শুরুর অনেক আগেই কেন্দ্রগুলোতে আসতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়।
খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার আরবি বিভাগের ছাত্র আল মামুন খুলনা-২ আসনের ভোটার। সকাল ৮টার দিকে খুলনা সরকারি সিটি কলেজে এবারই প্রথম ভোট দিয়েছেন। জীবনের প্রথমবার ভোট দিতে পেরে দারুণ খুশি মামুন। খুলনা-৩ আসনের ভোটার লাবনী। খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের এই ছাত্রী জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। নগরীর মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, বিগত সরকার আমলে তিনি ভোট দিতে পারেননি। সকাল পৌনে ৮টায় ভোট দিয়ে এসে তিনি বলেন, খুব সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিশ্চয়ই একটা ভালো ফল পাওয়া যাবে। খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনের ঘোনা রামকৃষ্ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার গৃহবধূ বিশাখা দাস (৪০) বলেন, সুন্দর পরিবেশে ভোট দিয়েছি। কোনো ভয়ভীতি ছিল না। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
জনতা ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার দীপঙ্কর মণ্ডল ভোট দিয়ে এসে বলেন, খুবই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। নারী, পুরুষ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটার উপস্থিতি অনেক ভালো বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঘোনা রামকৃষ্ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার অপূর্ব কুমার দাস বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি অনেক ভালো ছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নতুন ভোটাররা সহ সকল ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন। ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের বামনদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার কাকলী রাণী বলেন, ‘এতদিন একখান কাগজে (ব্যালট পেপার) ভোট দিছি। এবার দুইখান কাগজ দেছে’। নতুন গোলাপি কাগজে না বুঝে সিল মারিছি। জানি না ভোট হইছে কি-না।
এদিকে, বৃহস্পতিবার খুলনা-২, ৩ ও ৫ নম্বর আসনের অনেক কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী থাকলেও স্বতন্ত্র এবং অন্য দলের কোনো এজেন্ট দেখা যায়নি। তবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এজেন্টরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে বলে দাবি করেন। অপরদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) এজেন্ট পরিচয় দেয়ার অভিযোগে খুলনা-৬ আসনের কয়রা উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্রে ভুয়া এজেন্ট পরিচয় দেয়ায় ১১জনকে ২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভুয়া এজেন্ট পরিচয় দিয়ে ১১জন দায়িত্ব পালন করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে প্রিজাইডিং অফিসার ম্যাজিস্ট্রেটকে খবর দেন। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বসিয়ে ভুয়া শনাক্ত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
খুলনায় তরুণ, নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে
১৩ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
