বাংলাদেশের নির্বাচন আঞ্চলিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলবে, ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত

এনডিটিভি’র মূল্যায়ন

বাংলাদেশের নির্বাচন আঞ্চলিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলবে, ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কয়েক দশকের দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে ছাড়াই এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে। সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভোটাররা নতুন অধ্যায় শুরুর প্রত্যাশায় ভোট দিচ্ছেন। এই ভোটের ফল শুধু বাংলাদেশের ভবিষ্যতকেই প্রভাবিত করবে এমন নয়, একই সঙ্গে ভারতের প্রতিবেশে আঞ্চলিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলবে। অনলাইন এনডিটিভি এ খবর দিয়েছে।
এতে বলা হয় জাতীয় সংসদের ২৯৯টি আসনে ভোট হচ্ছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৫১টি আসন। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ নিবন্ধিত ভোটার ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ পদ্ধতিতে ভোট দিচ্ছেন। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোট শুরু হয়েছে। সন্ধ্যার পর ফলাফল আসা শুরু হতে পারে।
জাতীয় সংসদের আরও ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। এসব আসনে সংসদ সদস্যরা একক হস্তান্তরযোগ্য ভোট (সিঙ্গেল ট্রান্সফারেবল ভোট) পদ্ধতিতে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নারী সদস্য নির্বাচন করেন।
এটি বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথম নির্বাচন। তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পরের বছর ডিসেম্বর মাসে মারা যান।
১৯৯১ সাল থেকে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা টানা ১৫ বছর ২০০ দিনের বেশি সময় ক্ষমতায় ছিলেন। ২০২৪ সালে বিতর্কিত নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন। তবে কয়েক মাসের মধ্যে তাকে অপসারণ করা হয়। ফলে কয়েক দশকের দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ছাড়াই এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে। সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভোটাররা নতুন অধ্যায় শুরুর প্রত্যাশায় ভোট দিচ্ছেন।
এই রাজনৈতিক শূন্যতায় সামনে এসেছেন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। ৬০ বছর বয়সী এই নেতা প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরেন। দ্রুতই তিনি মা, বিএনপি এবং নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনের সময় দমনপীড়নের কারণে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ফলে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে জামায়াতে ইসলামী। বহু বছর বিএনপি’র জোটসঙ্গী থাকা জামায়াত এবার নিজস্ব জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং ২০২৪ সালের আন্দোলন থেকে উঠে আসা ছাত্র ও জেন-জি ভিত্তিক ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সমর্থন পেয়েছে।
নতুন সরকার নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ নিয়ে গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ও কয়েকটি রাজনৈতিক দল এই সনদে একমত হয়েছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুইবার (১০ বছর) সীমিত করা, সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচন-পূর্ব ৯০ দিনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করা।
এই নির্বাচনের প্রভাব শুধু বাংলাদেশেই নয়, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ওপরও পড়তে পারে। যেমন ভারত, চীন ও পাকিস্তান। ভারতের সহায়তায় স্বাধীনতা অর্জন করা বাংলাদেশকে শেখ হাসিনার আমলে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ মনে করা হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেইজিং ও ইসলামাবাদের দিকে ঝোঁক দেখা যাচ্ছে। ড. ইউনূসের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কিছুটা টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন