টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার বিষয়ক এক সেমিনার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ১০:৩০ টায় ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার লঞ্চঘাট এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই) এবং জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো)-এর সার্বিক সহযোগিতায় এবং নরওয়ে সরকারের আর্থিক সহায়তায় এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০০ জন অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ইউনিডোর প্রতিনিধি সুলতান আহমেদ, বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়ক মাসুদুর রহমান, বিডি ক্লিনের সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (মনপুরা ইউনিট)-এর প্রতিনিধি, স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা, লঞ্চঘাট দোকান মালিক সমিতির সদস্য এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম পর্বে ইউনিডোর প্রতিনিধি সুলতান আহমেদ অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহারে ভোক্তাদের পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতা, ব্যবসায়ী এবং বাজারজাতকারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, প্লাস্টিক বা পলিথিন ব্যাগে পণ্য পরিবহন সহজ হলেও এর দূষণ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, পলিথিন ব্যাগের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও অপসারণের ফলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায়, পানির উৎস দূষিত হয় এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে। তিনি অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ এলাকায় প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়, জলাশয় দূষিত হয় এবং সামুদ্রিক পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়।
বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়ক মাসুদুর রহমান বলেন, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে শিক্ষিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিডি ক্লিন ও ইউনিডোর মধ্যে ভবিষ্যতেও যৌথভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং মনপুরাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে সম্মিলিত দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক দূষণ রোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তারা উল্লেখ করেন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ জন্য সবাইকে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ইউনিডোর প্রতিনিধি শপথ পাঠ করানোর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী বিতরণ করেন।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা লঞ্চঘাট ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ১,৯৮৭.৮ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিটির সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল শুধু পরিবেশ পরিষ্কার করা নয়, বরং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং একটি সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন ভবিষ্যতের জন্য টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করা।
