ভিআইপি আসনে ছিল সবার চোখ

ঢাকা ১৭

ভিআইপি আসনে ছিল সবার চোখ

ফন্ট সাইজ:

কোনো রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে ঢাকা-১৭ আসনের ভোটগ্রহণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মধ্যে অন্যতম আলোচিত আসন ছিল এটি। কারণ এ আসনের প্রার্থী বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফলে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের বিশেষ নজর ছিল এই আসনকে ঘিরে। এখানে তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। বিএনপি’র চেয়ারম্যানের আসন বলেই সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেন গণমাধ্যমকর্মীরা। বিশেষ করে গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। সেখানে সকাল সাড়ে ৯টায় ভোট দেন তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, ভাই আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি এবং তার দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাশিয়া রহমান। তারাও একই কেন্দ্রে ভোট দেন। ভোট দেয়া শেষে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মানুষ এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। আজ সেই প্রত্যাশা পূরণের দিন। দেশের মানুষ ভোট দিলে যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া সম্ভব।’ এ সময় সেখানে জাতীয় প্রায় সব গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি রেকর্ডসংখ্যক বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। কিছুক্ষণ পরেই গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একদিকে যেমন দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর দেশে ফিরে আসা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি যেমন এই এলাকার ভোটারদের সহানুভূতি আছে, অন্যদিকে বিগত আমলে প্রকাশ্যে রাজনীতি না করতে পারা এবং একপর্যায়ে নিষিদ্ধ হওয়া দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এসএম খালিদুজ্জামানকে যোগ্য মনে করছেন অনেকে। বনানী-গুলশান এলাকাটি পড়েছে ঢাকা-১৭ আসনে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ ওয়ার্ডে গুলশান, বনানী ও ক্যান্টনমেন্ট থানা মিলে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনে একদিকে যেমন অভিজাত এলাকা, অন্যদিকে আছে বস্তি এলাকাও। একদিকে যেমন বারিধারা, ডিওএইচএস, নিকেতন এলাকার বিত্তশালী ভোটার, তেমনি অন্যদিকে ভাষানটেক, কড়াইল, মহাখালীর বস্তিবাসীর ভোট। এখানে কড়াইল বস্তিসহ এর আশপাশে বিভিন্ন এলাকায় ভোটার প্রায় ২৯ হাজার। এদের ভোটকেন্দ্র বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল, টিএন্ডটি হাইস্কুল ও বনানী মডেল স্কুল। সকালে এসব এলাকাতে গিয়ে দেখা গেছে ভোটারের চেয়ে প্রার্থীদের রিকশা বেশি। তবে বেলা যত গড়িয়েছে ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়তে দেখা গেছে এই তিন কেন্দ্রে। বস্তি এলাকা থেকে কেন্দ্র তিনটি দূরে হওয়ায় ভোটারদের জন্য রিকশার ব্যবস্থা করেছেন ঢাকা-১৭ আসনের দুই প্রার্থী বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের প্রার্থী এসএম খালিদুজ্জামানের কর্মীরা। বিটিসিএল কলোনি, এরশাদ নগর, সালাম বাজার, বৌ বাজার, জামাই বাজারসহ পুরো এলাকাতেই দেখা গেছে একই চিত্র। দুই প্রার্থীর সমর্থকরা ভোটারদের রিকশায় উঠিয়ে ভোটকেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। তবে তুলনামূলক এবার ভোটার উপস্থিতি কম জানান এখানকার বাসিন্দারা। কারণ হিসেবে সালাম নগরের জামাল বলেন, এখান থেকে বহু ভোটার সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর চলে গেছে। তাদের মধ্য থেকে কিছু ভোটার এসে ভোট দিলেও বেশির ভাগ অনুপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, যারা ভোট দিতে এসেছেন তাদের বেশির ভাগকে গাজীপুর, সাভার থেকে ভোটকেন্দ্রে হাজির করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। তবে সারাদিন ঘুরে এসব এলাকাতে কোনো বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি। শান্তিপূর্ণ ভোট দিয়ে সালামবাগের ৭০ বছরের বৃদ্ধ আজমত হোসেন বলেন, ‘এমন শান্তিপূর্ণ ভোট আমার জীবনে দেখেনি। আমি অসুস্থ ভোটের পরিবেশ ভালো দেখেই ভোট দিতে আসলাম’। শান্তিপূর্ণ ভোট দেখা গেছে ইউসিবি চত্বর, ক্যান্টনমেন্ট এলাকাতেও।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন