ঢাকা ১৩

ভোট দেখতে শিশুরাও কেন্দ্রে

ফন্ট সাইজ:

ঢাকা-১৩ আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেন ভোটাররা। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ শেষ হয়। সকালে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি থাকলেও দুপুরে পুরুষ ভোটারদের ভিড় বাড়তে থাকে। তবে প্রশাসনের কড়াকড়িতে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে ভিড়তে পারেনি ধানের শীষ রিকশার সমর্থকরা। সরজমিন কয়েকটি কেন্দ্রে দেখা গেছে, লম্বা লাইন। পর্যায়ক্রমে বুথ ঘরে ঢুকে ভোট প্রদান করে বের হয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ বের হয়ে ভি-চিহ্ন দেখিয়ে বিদায় নিচ্ছেন। দুপুর পর্যন্ত অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে অনেক ভিড় দেখা গেছে। প্রতিটি কক্ষেই প্রার্থীদের নির্ধারিত এজেন্ট দেখা গেছে। তারা ভোটারদের সহায়তা করছেন। ভোটারদের কোন অভিযোগ অনুযোগ ছিল না। বিএনপি ও খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীদের কেন্দ্রের বাহিরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ভোটারদের লিফলেট ধরিয়ে দিয়ে পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে অনুরোধ করছেন। কেন্দ্রের পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ভোটাররা। কেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় থাকলেও বাহিরে উৎসুক জনতার হাসাহাসি, আড্ডা ও সেলফি তুলতে দেখা গেছে। অনেকে ভোটের পরিবেশ দেখতেও কেন্দ্রের আশপাশে ভিড় করেন। ভোটারদের সঙ্গে তাদের শিশু ছেলে-মেয়েও ভোট দেখতে আসে। মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রি-পারেটরি স্কুল এন্ড কলেজ, বেঙ্গল মিডিয়াম হাইস্কুল, মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজ, গ্রাফিক্স আর্ট কলেজ, শারীরিক শিক্ষা কলেজ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ ও লালমাটিয়ার কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। এ সব কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুর ২টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে গড়ে ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়। তবে বিকাল সাড়ে ৪টার পর দেখা যায় কাস্টিংয়ের হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার গোলাম সামদানি বলেন, বেলা ১২টা পর্যন্ত ৩০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়। কোনো প্রকার সমস্যা ছাড়া বাধাহীনভাবে ভোট প্রদান করেন ভোটাররা। মোহাম্মদপুর বেঙ্গলি মিডিয়াম হাইস্কুলের প্রিজাইডিং অফিসার ইউনুসুর রহমান বলেন, খুবই চমৎকার ভোট হচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোট পড়ে। বিকালে ৪৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। তবে পুরুষদের চেয়ে নারী ভোটাররা বেশি এসেছেন। মোহাম্মদপুর প্রি-পারেটরি স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে বেলা ১টা পর্যন্ত কেন্দ্রটিতে প্রায় ২৮ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে জানান দারিত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার মহিউদ্দিন। তবে বিকালে ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। নারী কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক তৃতীয়াংশ ভোট পড়ে গেছে। বেশি ভোট পড়েছে সকালের প্রথম দু’ঘণ্টায়। বেলা বাড়লে ভোটের হার আরও বাড়ে। মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন ইসরাত জাহান চুমকী। তিনি বলেন, ভোট হওয়ার পর এই প্রথম কেন্দ্রে এসে ভোট দিলাম। এমন উৎসবমুখর ভোট কখনো দেখিনি। গত ১৬ বছরে অনেক নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এতো ভোটার ভোট দিতে আসে এটা প্রথম দেখলাম। প্রচুর ভোটার ছিল। নারী ভোটার বেশি এসেছে। শারীরিক শিক্ষা কলেজ কেন্দ্রে কথা হয় আলিমুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, সকাল থেকেই লম্বা লাইন। এতো মানুষ ভোট দিতে আসে আগে দেখিনি। আমরা আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে পেরেছি। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা ছিলো না। কেন্দ্রীয় কলেজ কেন্দ্রে সিহাবুল ইসলাম বলেন, এই ভোট নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। এতো সুষ্ঠু ভোট আমি জীবনে দেখিনি। সকলে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছে। কেউ প্রভাবিত করতে পারছে না। কেউ বাঁধাও দিচ্ছে না। আর সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি ছিল দেখার মতো। এই ভোট একটা নজির হয়ে থাকবে।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন