নাসার চাঁদগামী রকেট আর্টেমিস টু বুধবার সন্ধ্যায় উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। প্রায় ৫৪ বছর পর প্রথমবারের মতো এই রকেট মহাকাশচারীদেরকে চাঁদের পথে নিয়ে যাচ্ছে। রকেটটি এ রিপোর্ট লেখার সময় পৃথিবীর কক্ষপথে রয়েছে এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানেই থাকবে। এরপর ট্রান্সলুনার ইনজেকশন বার্ন সম্পন্ন করা হবে, যা এটিকে ২ লাখ ৪০ হাজার মাইল দূরের চাঁদের পথে পাঠাবে। অরিয়ন ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা চারজন মহাকাশচারী সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করেছেন, যাতে ১৭,৫০০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে কক্ষপথে ওঠার সময় মহাকাশযান কীভাবে কাজ করেছে তা মূল্যায়ন করা যায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে থাকা ফ্লাইট কন্ট্রোলাররা নিশ্চিত করেছেন যে চারটি সৌর প্যানেল সফলভাবে খুলেছে, যা পুরো চন্দ্রযাত্রায় মহাকাশযানকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর প্রথমবার এমন অভিযান চালানো হচ্ছে। ওই সময় মানুষ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ ছেড়ে যায়। নাসার অভিজ্ঞ মহাকাশচারী এবং আর্টেমিস টু-এর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান বলেন, দেশ এবং বিশ্ব অনেক দিন ধরে এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিল।
১০ দিনের পরীক্ষামূলক মিশন
এই ১০ দিনের পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে চাঁদে অবতরণ করবে না মানুষ। তবে এতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অনেক মাইলফলক। নাসার ক্রিস্টিনা কোচ হবেন প্রথম নারী, যিনি সিসলুনার স্পেসে (পৃথিবী ও চাঁদের মাঝের অঞ্চল) যাবেন। ভিক্টর গ্লোভার হবেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি। কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন হবেন মার্কিনী নন এমন প্রথম ব্যক্তি। এই অরিয়ন ক্যাপসুল মহাকাশচারীদের পৃথিবী থেকে ইতিহাসের যেকোনো মানুষের চেয়ে বেশি দূরে নিয়ে যেতে পারে। মিশনের ষষ্ঠ দিনে তারা চাঁদ থেকে প্রায় ৪,৬০০ মাইল বেশি দূরে যাবে এবং মোট প্রায় ২,৫৩,০০০ মাইল দূরত্বে পৌঁছাবে, যা অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ড ভেঙে দেবে।
